২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৭:২২:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার দ্রুত গণনির্বাসনে নতুন বিধি জারি নিউইয়র্ক সিটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেড় বিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষের স্বাস্থ্যবীমা ঝুঁকির মুখে কোভিড তহবিল প্রতারণা : ৮ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের দোষ স্বীকার রমজান শান্তির এক মহৎ দর্শনের প্রতীক


প্রতিবাদকারীদের রক্ষায় আইসের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
প্রতিবাদকারীদের রক্ষায় আইসের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে শুরু হওয়া অভিবাসন অভিযানকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার বাসিন্দাদের এবং ফেডারেল এজেন্টদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে।


মিনেসোটায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে ফেডারেল সরকারের পরিচালিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’কে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) যৌথভাবে অভিযান শুরু করার পর, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ছয়জন নাগরিক : সুসান টিঞ্চার, জন বিস্টম্যান, জ্যানেট লি, লুসিয়া ওয়েব, আবদিকাদির নূর ও অ্যালান ক্রেনশ তাদের পাশাপাশি একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্যদের পক্ষে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, ডিস্ট্রিক্ট অব মিনেসোটা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, অভিযানের সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ওপর অযৌক্তিক তল্লাশি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। বাদীরা আদালতের কাছে দাবি করেছেন যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।

বিচারক ক্যাথরিন এম মেনেন্ডেজ গত শুক্রবার শুনানির পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন, যাতে তারা শান্তিপূর্ণ ও বাধাহীন প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারে। এছাড়া যারা গাড়িতে অবস্থান করছে কিন্তু কর্মকর্তাদের বাধাগ্রস্ত করছে না, তাদের থামানো বা আটকানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিচারক স্পষ্ট করে বলেছেন, এ আদেশ ফেডারেল কর্মকর্তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগ চালানো বন্ধ করতে বাধ্য করে না।

আদেশটি একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে জারি করা হয়েছে। এটি সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে অ্যাকটিভিস্টরা অভিযোগ করেছিলেন যে কর্মকর্তারা তাদের সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। মামলাটি মিনিয়াপোলিসে আইস এজেন্টের গুলিতে রেনি গুডের মৃত্যুর আগে দায়ের করা হয়। ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড একটি রাস্তা আংশিকভাবে অবরোধ করেছিলেন যেখানে এজেন্টরা কাজ করছিলেন এবং এজেন্টদের নির্দেশ মেনে তার এসইউভি থেকে বের হননি। গাড়ি চালানো শুরু করলে তার সামনে থাকা একজন এজেন্ট গুলি চালান।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, ডিএইচএস যথাযথ ও সংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে যাতে কর্মকর্তাদের ও জনগণকে বিপজ্জনক উসকানিদাতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। তিনি আরো জানান, কর্মকর্তারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের দিকে আতশবাজি ফেলা হয়েছে এবং গাড়ির টায়ার কেটে ফেলা হয়েছে, তবুও তারা প্রশিক্ষণ অনুসারে ন্যূনতম বল প্রয়োগ করে নিজেকে, জনগণ এবং ফেডারেল সম্পত্তিকে রক্ষা করেছেন।

মিনেসোটায় অপারেশন মেট্রো সার্জ নামে অভিবাসন অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয়রা ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। বিচারক মেনেন্ডেজের আদেশ শুধুমাত্র সেই কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। মিনেসোটায় রেনি গুডের মৃত্যুর পর উচ্চ টানাপোড়েন দেখা গেছে। পরবর্তীতে একজন ব্যক্তিকে গুলি করা হয়, যিনি আহত হন। ফেডারেল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে গুড তাদের ওপর গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও বিশ্লেষণ দেখিয়েছে যে গুড আসলে এজেন্টের দিক থেকে দূরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী নানা আইনি চ্যালেঞ্জের অংশ, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়স এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে অভিবাসন অধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনরা ফেডারেল কর্মকর্তাদের কৌশল সীমিত করার চেষ্টা করছেন।একই সময়, ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে, যাতে তারা অভিযোগে অভিযুক্ত যে তারা ফেডারেল কর্মকর্তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করেছেন। গভর্নর ও মেয়র উভয়েই এই তদন্তকে আইন প্রয়োগের ক্ষমতার রাজনৈতিক দমন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শেয়ার করুন