১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১০:২১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


প্রভাবমুক্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসন কতটুকু প্রস্তুত
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০১-২০২৬
প্রভাবমুক্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসন কতটুকু প্রস্তুত প্রতীকী ছবি


নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচন বিষয়ে মাঠ প্রশাসন কতটুকু প্রস্তুত? প্রথাগতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রসাশক রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশ সুপার জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনকালে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যখনি নির্বাচন কোন দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে সেই নির্বাচন নিয়ে কোনো না কোনো বিতর্ক রয়ে গেছে। 

এমনকি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্পাদিত নির্বাচন নিয়েও বিজিত দল সুক্ষ বা স্থুল কারচুপির অভিযোগ করেছে। বর্তমানে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণ মূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

স্মরণীয় যে ছাত্র-জনতার নিরীহ গোছের কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের দাবি অনুযায়ী মেটিকুলাস পরিকল্পনার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ নিরপেক্ষ বিচার সম্পাদন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার এবং একই সঙ্গে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার। দেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সংস্থান নেই।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেটি মেনে নেওয়া হলেও সংবিধানে গণভোটের সংস্থান নেই। উপরন্তু কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক আদেশে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা অসংবিধানিক। কিন্তু উপরোক্ত সব কিছুই হতে চলেছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রুটিন কাজ ছাড়া সরকারের এখন কিছু করার নেই। জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের কয়েক দফায় বদলি করা হয়েছে। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসন দলীয় করণের ব্যাপক অভিযোগ আছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেও নিয়োগ বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ আছে। অনেকের দাবি মাঠ পর্যায়ে বিএনপি, জামায়াত এমনকি নতুন দল এনসিপি বদলি বাণিজ্য করেছে। নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে নিয়ে ইতিমধ্যে পরস্পরের দিকে অভিযোগ তুলেছে মূলধারার দলগুলো। অনেকের ধারণা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুচ্ছ কারণে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ আছে প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে নানা বিভ্রান্তির। এমতাবস্তায় নির্বাচন কতটুকু অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হবে, সেটা যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। 

এমনিতেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তৃণমূলের সমর্থকরা নির্বাচনে আগ্রহী কতটুকু সন্দেহ আছে। নির্বাচনে জয় প্রত্যাশী দলগুলো আওয়ামী সমর্থকদের আকর্ষণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। ওদিকে আবার আওয়ামী লীগকে সম্পৃক্ত করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার আন্তর্জাতিক চাপ আছে। এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে যুগপৎভাবে জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট হবে। তৃণমূলে ভোটারদের জুলাই সনদ বিষয়ে কতটুকু ধারণা বা আগ্রহ আছে সন্দেহ।

নানা ঘটনা আর নাটকীয়তার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া দেশে ফেরায় রাজনীতিতে মেরুকরণ হয়েছে। তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির প্রতি নতুন করে ব্যাপক হরে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা বিএনপি জোট এবং জামায়াত জোটের মধ্যে। আবার দুটি দলের নীতি আদর্শে মিল অমিল দুটোই আছে। অতীতে একই সঙ্গে সরকার পরিচালনার নজির আছে।

সবকিছু মিলিয়ে উপরের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ-বিদেশে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে আদৌ শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না? নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে কি না?

শেয়ার করুন