৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৬:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


টি ২০ বিশ্বকাপ বর্জন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০১-২০২৬
টি ২০ বিশ্বকাপ বর্জন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত


ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল থেকে মুস্তিফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের আইসিসি আয়োজিত টি ২০ বিশ্বকাপ বর্জন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি. সন্দেহ নেই মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ কি আদৌ এই বিষয়ে আইপিএল বা বিসিসিআই থেকে সঠিক কারণ জানতে  চেয়েছে? বাংলাদেশ কি নিরাপত্তা বিষয়ে বিসিসিআইর কাছে নিশ্চয়তা  চেয়েছে ? বিসিবি  পারতো একটি নিরাপত্তা দল ভারতে পাঠিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ ভেনুগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই এবং মূল্যায়ন করা।


তাঁর পর সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে বিসিবি খেলোয়াড়দের মতামত নিয়ে সরকারের কাছে তুলে  ধরা। কিন্তু বিসিবিকে স্বাধীন ভাবে কিছু করার সুযোগ না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঘোষণা দিয়ে বসলেন তিনি বিসিবিকে উপদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের খেলাগুলো ভারত থেকে শ্রীলংকায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করে যোগাযোগ করার। একই সঙ্গে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার করার মত একটি চরম ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা নিলেন। বিসিবি আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসাবে কিছু নিয়ম নীতির অনুসরণ করার কথা।  সরকার সরাসরি বিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। 



হাত পা বাধা অবস্থায় বিসিবি নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আইসিসির সঙ্গে মেইল যোগাযোগ করলো। আইসিসি প্রথা মতে নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং বিশ্লেষণ করে দেখলো বিশ্বকাপে ভারতে বাংলাদেশ খেলার কোন উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি নেই। বাংলাদেশ শ্রীলংকায় খেলার সুবিদার্থে গ্রূপ থেকে কোনো দলকে অদল বদল করার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু হোস্ট দেশ রাজী না হওয়ায় সেটিও সম্ভব হলো না। শেষ পর্যায়ে আইসিসি বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভোটাভুটির ব্যবস্থা  বাংলাদেশকে মূল সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলার বিষয়টি অনুমোদিত হলো।  একেবারে শেষ মুহূর্তে ক্রীড়া উপদেষ্টা খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলিত হয়ে মতামত নিলেন যা শুরুতেই উচিত ছিল।

খেলোয়াড়রা মনে হয়না বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হয়ে ভিন্ন কিছু বলবে। এখন এমন অবস্থা বিসিবির পক্ষে বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপ বর্জন ছাড়া বিকল্প নেই। 

ক্রিকেটে বিশ্বকাপের চেয়ে বড় আসর নেই। আমি মনে করি না সঠিক পন্থায় আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি না করে বর্জনের মত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী  হবে।


এর অশুভ প্রভাব  শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটে নয় সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনে পড়বে। বাংলাদেশ ভারতের দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্কে ক্ষত সৃষ্টি হবে।  বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

শেয়ার করুন