৩০ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ১১:১৩:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


বিশ্বকাপ জলাঞ্জলি দিলো বাংলাদেশ
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
বিশ্বকাপ জলাঞ্জলি দিলো বাংলাদেশ


আইসিসির সঙ্গে বিরোধ নেই বাংলাদেশের। বিরোধ ভারতের সঙ্গে। ভারতের উগ্রবাদী হিন্দু কর্তৃক সম্ভাব্য আক্রমণ, তথা নিরাপত্তার অজুহাতে একটা বিশ্বকাপ জলাঞ্জলি দিলো বাংলাদেশ। আসছে টি২০ বিশ্বকাপে এখন টিভি দর্শক বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। 

ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ। খেলা অন্যত্র সরিয়ে অনুষ্ঠানের দাবি ধোপে টেকেনি, তাই বাংলাদেশ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসি শেষ পর্যন্ত আইসিসি টি২০ বিশ্ব কাপ থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়ে দেয়। ভারত শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হবে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আইসিসি টি২০ র‌্যাংকিংয়ে যথাযথ অবস্থানে থেকেই টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। অনেক কষ্ট আর শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্জন অন্তর্বর্তী সরকারের হটকারি সিদ্ধান্তে পন্ড হয়ে গেলো।

অতি সম্প্রতি ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আইপিএল ২০২৬ কেকেআর ফ্রাঞ্চাইজ দল থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া থেকে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার পরপর বিসিবি ক্রিকেট খেলোয়াড় কোন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ না করেই অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা বিসিবিকে নির্দেশ দিলো আইসিসিকে বাংলাদেশ দলের খেলাগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। একই সঙ্গে ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার মতো চরম ব্যবস্থা করা হলো। নিরূপায় হয়ে মব সন্ত্রাসের আশঙ্কায় বিসিবি আইপিএল কর্তৃপক্ষ অথবা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য মেইল পাঠালো। বিসিবির কিন্তু সুযোগ ছিল মুস্তাফিজ বিষয়ে আইপিএল এবং বিসিসিআইর কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার। বিসিবি কিন্তু ভারতে নিরাপত্তা দল পাঠিয়ে সরেজমিন ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করতে পারতো। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়ের সঙ্গে কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসির কোনো সম্পর্ক নেই।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইসিসি নিজেদের সংস্থার মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করে দেখলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। বিসিবি কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক ভারতে না খেলার বিষয়ে অনেক থাকলো। মাত্র কয়েক সপ্তাহের সময়ে বাংলাদেশের চারটি খেলা শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ, সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের রাজি করানো এবং বিশেষত শ্রীলঙ্কান বোর্ডের সম্মতি কিছুই সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশ নিজস্ব অবস্থানে গো ধরে থাকায় বিষয়টি ভোটাভুটিতে গড়ালো। বাংলাদেশের প্রস্তাব বিপুল ভোটে বাতিল হলে আইসিসি সুস্পষ্টভাবে জানালো বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সরকার অবস্থান পরিবর্তন না করে সিদ্ধান্ত হল বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যাবে টি ২০ বিশ্বকাপ। বঞ্চিত হলো ১৮ কোটি ক্রিকেট অনুরাগীর বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মতো বৈশিক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ থেকে। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং বিসিবির মেরুদণ্ডহীন ভূমিকার কারণে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভোরের পাখি হিসেবে খেলাটি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা, হামাগুড়ি দেওয়া শৈশব থেকে কৈশোর এবং ভরা যৌবনের সংগ্রাম দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। বহুধা বিভক্ত বাংলাদেশ সমাজে ক্রিকেট বাংলাদেশের একমাত্র মেলবন্ধন। ক্রিকেট খেলোয়াড়দের (ছেলে মেয়ে) অনন্য অবদানে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত। সেই ক্রিকেট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপাংক্তেয় হয়ে গেলো। রাজনীতির কালো থাবায় মাশরাফি ও সাকিবের মতো বিশ্ব বরেণ্য ক্রিকেটার বাংলাদেশে লাঞ্ছিত হয়েছে। ওদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। সাকিবের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটারকে ক্রিকেট খেলা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকার বিসিবি নির্বাচনে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করেছে।

এবারে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিসিবি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলো না। পরিণতি বাদ বড়লো বাংলাদেশ। আইসিসি এবং ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি হলো। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো খেলোয়াড়রা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট। আইসিসির কাছে এখন যথেষ্ট যুক্তি আছে বিসিবি কার্যক্রমে সরকারি হস্তক্ষেপের অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সাসপেন্ড করার। যদি তাই হয় তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন