১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৮:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন


ট্রাম্পের কাছে ১৩.৫ বিলিয়ন ট্যারিফ অর্থ ফেরতের দাবি গভর্নর হোচুলের
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৩-২০২৬
ট্রাম্পের কাছে ১৩.৫ বিলিয়ন ট্যারিফ অর্থ ফেরতের দাবি গভর্নর হোচুলের গভর্নর হোচুল ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন


সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করার পর গভর্নর হোচুল অবিলম্বে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি করেছেন। নিউ ইয়র্কবাসীর কাছ থেকে ট্যারিফ হিসেবে অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছিল। আলবানিতে ব্যবসায়ী ও কৃষকের সঙ্গে রাউন্ডটেবিল বৈঠকে গভর্নর হোচুল বলেন, সরকারের কাজ হলো ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা, তাদের সম্প্রসারণে সাহায্য করা, ভবিষ্যতের পথ দেখানো, নিয়ম ব্যাখ্যা করা, কর্মচারীদের সমর্থন করা এবং আমাদের সব সম্প্রদায়ে সমৃদ্ধি আনা। কিন্তু ফেডারেল সরকারের বর্তমান অবস্থার কারণে, যেমন গ্যাসের খরচ ও পরিবহন খরচের নাটকীয় বৃদ্ধি, ব্যবসাগুলো কীভাবে পরিকল্পনা করবে? তিনি আরো বলেন, আমাদের ব্যবসায়ী এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দল আজ এখানে আছে যাতে তারা আমাদের সকলের উদ্বেগ শুনতে পারে, বিশেষত গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন থেকে আসা অর্থনৈতিক অস্থিরতা তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকে ধ্বংস করেছে। অনেক ব্যবসায়ী বলেছেন যে কাঁচামাল ও পণ্যের খরচ বাড়ার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

গভর্নর হোচুল উদাহরণ দিয়ে বলেন, উদাহরণস্বরূপ, নিউ ইয়র্কের একটি আপেল প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠান নাইন পিন কেবল আপেল নয়, বিভিন্ন পণ্যও ক্যানিং করে এবং ক্যান তৈরি করতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম কানাডা থেকে আসে। কানাডা থেকে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সব পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম নিউ ইয়র্কের কৃষক জিম বিটনার জানান যে তিনি তার ফসল রোপণের সিদ্ধান্তে অনিশ্চিত, কারণ সার ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেছেন, আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে চাই। কিন্তু যখন ফেডারেল সরকার উচ্চ ট্যারিফ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা ছড়ায়, তখন এটি ব্যবসার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ব্যবসায়ীরা শুধু নির্দিষ্ট নিয়ম জানতে চায়, যাতে তারা নিশ্চিতভাবে পরিকল্পনা করতে পারে।

হোচুল আরো বলেন, রফতানি বাজারের পরিবর্তন এবং সরবরাহ চেইনে অস্থিরতাও ব্যবসায়ীদের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উদাহরণস্বরূপ, কানাডা এখন অনেক পণ্য ক্রয় করছে না, যা কেবল আমদানি খরচ বাড়াচ্ছে না, বরং পর্যটন ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর কানাডিয়ান পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন কমেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে।

গভর্নর হোচুল জানান, নিউ ইয়র্কের কৃষকদের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ সহায়তা এবং রিফান্ডযোগ্য বিনিয়োগ কর ক্রেডিট প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি মামলা দায়ের করেছি। আমি ২৪টি রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমরা ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের জন্য মামলা করছি, যা নিউ ইয়র্কবাসীর থেকে নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চেকে নাম রাখুক বা না রাখুক, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শুধু অর্থ ফিরিয়ে দিন। এটি আমাদের পাওনা।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সমস্যার কথাও শেয়ার করেছেন। তারা বলেছেন, টারিফের কারণে গ্যাস, পরিবহন, কাঁচামাল, শ্রমিক খরচ সবই বেড়েছে, যা তাদের উৎপাদন ব্যাহত করেছে। অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে টারিফের কারণে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সম্প্রসারণ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গভর্নর হোচুল বৈঠকে উপস্থিত সকলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চান এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদেরও ব্যবসায়ী ও কৃষকের সমস্যা শুনতে অনুরোধ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে রাজ্য সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য নীতি এবং সহায়তা নিশ্চিত করবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

শেয়ার করুন