প্রতীকী ছবি
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। পতিত স্বৈরাচারি সরকার কখনো রাতে, ভোট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে, আবার ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। গত ১৭ বছর বাংলাদেশে মূলত গণতন্ত্র ছিল না। এক দলীয় সরকারের অধীনে ছিল বাংলাদেশের মানুষ। বলা চলে শেখ হাসিনা বাকশালী কায়দায় দেশ চালিয়েছিলেন। যে কারণে ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুথানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেই সঙ্গে তার দলের শীর্ষ নেতারাও পালিয়ে যান। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যান। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এই সরকার শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে এখনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতিমধ্যই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এটাই তাদের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কারো কারো মতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবারও কারো কারো মতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে না। অধিকাংশ প্রবাসী নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিলেও কিছু কিছু প্রবাসী বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। যড়যন্ত্র কারা করছে, এই প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, যারা ক্ষমতা ভোগ করছে তারাই চায় না নির্বাচন হোক। এরাই বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আদালতে যাচ্ছে। কেউ দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আদালতে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ জাতীয় পার্টি প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছে। আদালতের ওপর ভর করেই তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তাদের প্রথম কৌশল ছিল প্রার্থীদের হত্যা করা। সেটা যখন কাজে আসেনি, এখন তারা কৌশল হিসাবে তারা আদালতকে বেঁচে নিয়েছে।
জ্যাকসন হাইটসে বসবাসকারী কলিমুল্লাহ বলেন, আমি চাই বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কারণ নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ গভীর সংকটে পড়বে। কিন্তু আমি যেভাবে নির্বাচনবিরোধীদের ষড়যন্ত্র দেখছি তাতে নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
জ্যামাইকা প্রবাসী আমির হোসেন বলেন, আমি আমার ভোট দিয়েছি। বাংলাদেশ ভোট হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কারণ আমি এখনো ষড়যন্ত্র দেখছি।
এস্টোরিয়া বসবাসকারী মোসলে উদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বার বার যেহেতেু বলছেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকানো শক্তি কারো নেই। যেহেতু আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সঠিক সময়েই হবে। কোন ষড়যন্ত্র সফল হবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাদের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। এবার তাদের জন্য সেই সুযোগ এসেছে।
ব্রুকলিনে বসবাসকারী জামাল উদ্দিন বলেন, আমি ভোট দিয়েছি। আশা করি, বাংলাদেশেও মানুষও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোট দিতে পারবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার জন্য।
ব্রঙ্কসে বসবাসকারী রইস উদ্দিন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। এবং নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা দেশপ্রেমিক দলকে সরকারে দেখতে চাই। দেশবিরোধী বা উগ্রবাদী শক্তি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
ম্যানহাটনে বসবাসকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার মন্তব্য প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ়তার কারণেই নির্বাচন হবে বলে তিনি আশাবাদী।