০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১১:৩৭:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস ৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত ৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি আইস সাতটি নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র চালুর কথা ভাবছে সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান


তীব্র শীত অব্যাহত, নিউইয়র্ক সিটিতে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
তীব্র শীত অব্যাহত, নিউইয়র্ক সিটিতে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ নিউইয়র্ক সিটির অ্যামস্টারডাম অ্যাভিনিউতে ভেন্টের পাশে নিজেকে উষ্ণ করছেন এক গৃহহীন।


নিউইয়র্ক সিটিতে চলমান তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ৩১ জানুয়ারি এ তথ্য নিশ্চিত করেন মেয়র মামদানি। শহরের রাস্তায় গৃহহীনদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংকট মোকাবিলায় মেয়রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও জোরালো হচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি জানান, শুক্রবার পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৩। সর্বশেষ আরো তিনজন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় মোট সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। তার ভাষায়, এই শীতপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত সবাই খোলা আকাশের নিচেই প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে সিটি হল জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি রোববারের তীব্র তুষারঝড়ের পর থেকে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে ১৬ হয়েছে। তবে নতুন মৃত্যুগুলোর স্থান ও সময় সম্পর্কে তখন বিস্তারিত জানানো হয়নি। সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মৃত্যুগুলো পাঁচটি বরো জুড়েই ঘটেছে। প্রথম ১০ জন নিহতের বয়স ছিল ৪০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু ঘটে ২৪ জানুয়ারি, যখন শহরটি তুষারঝড় ও চরম শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মেয়র মামদানি বলেন, এই শহরে প্রতিটি প্রাণহানি একটি গভীর ট্র‍্যাজেডি। এই নির্মম শীতে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। তিনি আরো বলেন, সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন থেমে থাকবে না।

তিনি জানান, চলমান শীতপ্রবাহে এখন পর্যন্ত ৮৬০ জন গৃহহীনকে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে আউটরিচ কর্মীরা কাজ করছেন, উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র ও গরম রাখার যানবাহন চালু রয়েছে এবং এই শহরে কাউকেই আশ্রয় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। মেয়র আরো উল্লেখ করেন, গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে রাতে রাস্তায় থাকা মানুষদের আশ্রয়ে নিতে প্রচেষ্টা আরো জোরদার করা হয়েছে। নতুন আরো একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং বিশেষ অ্যাম্বুলেট যান ব্যবহার করে গৃহহীনদের খাবার, উষ্ণতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে একজনকে সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালের বাইরে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকজনকে মঙ্গলবার ভোরে কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় একটি বেঞ্চে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি কাছের একটি গ্রোসারি স্টোর থেকে চিনাবাদামের একটি জার কিনেছিলেন বলে জানান দোকান ব্যবস্থাপক লুইস পোলাঙ্কো। তিনি বলেন, আগের রাতে ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত নাক নিয়ে দোকানে এসেছিলেন, কিন্তু সাহায্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের দফতর নিশ্চিত করতে পারেনি, নিহতরা সরাসরি চরম ঠান্ডার কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহহীনদের নিয়ে মেয়র মামদানির নীতির সমালোচনাও বেড়েছে। সাবেক অ্যাডামস প্রশাসন যেখানে গৃহহীন ক্যাম্প উচ্ছেদকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, সেখানে মামদানি গত ডিসেম্বর এসব উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেন।

সিটি হলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিহতদের কেউই মৃত্যুর সময় কোনো গৃহহীন ক্যাম্পে ছিলেন না। প্রথম ১০ জন নিহতের মধ্যে অন্তত ছয়জন এর আগে সিটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচেই থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে এখনো অধিকাংশ এলাকা ও রাস্তাঘাট তুষারে ঢাকা।

শেয়ার করুন