দেখতে দেখতে এসেই গেলো বহুল কাঙ্ক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। অতি নাটকীয় কিছু না হলে অথবা কোনো দৈব দুর্বিপাক ছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ যুগপৎভাবে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন আর জুলাই সনদের ওপর গণভোট। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী শপথ নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন অথবা গণভোট আইনসিদ্ধ কি না-মতভেদ আছে। হয়তো কোনো সময় আদালতে চ্যালেঞ্জ হতেও পারে। কিন্তু ভূরাজনীতি এবং দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে বিকল্প না থাকায় সবাই চালিয়েছে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে প্রশাসনিক আদেশে নির্বাচনের বাইরে রাখায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না সবাই বলছে।
মূলত, ভারতের আধিপত্যবাদ-বিরোধী স্লোগান নিয়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দুটি জোট আছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এক জোট ওপর জোটের বিরুদ্ধে বাহ্যিকভাবে কথার যুদ্ধ চালালেও উভয়ের শঙ্কা কখন আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়? বাইরে ভারত বিরোধিতা করলেও আড়ালে দুটি জোট ভারতের আশীর্বাদ লাভে তৎপর। জামায়াত চাঁদাবাজি আর দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে বিএনপির বিরুদ্ধে। বিএনপি জামায়াতকে ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য দোষারোপ করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থানে জামায়াত -বিএনপি হরিহর আত্মা সবাই জানে।
তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণের পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে এখন ১৭ বছর প্রবাস জীবন থেকে ফিরে আসা ৬০ বছর বয়সী তারেক জিয়া। লন্ডন থেকেই তারেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে বিএনপি পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা রাখে। ২০২৪ গণআন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত সব মামলা আর দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেও দেশে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে। তারেক ফিরে আসায় বিএনপি জোটের নির্বাচনী পালে হাওয়া লেগেছে। দেশব্যাপী নির্বাচনী মহড়ায় বিপুল জনসমাগম ইঙ্গিত দিচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেও পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে এবং স্বস্তিতে রাজনীতি করতে কোণঠাসা থাকায় জামায়াত কিন্তু অনুকূল পরিবেশে নিজেদের সুসংগঠিত দল নিয়ে জোরালোভাবেই ময়দানে। সরকার আর নেপথ্যে শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত এখন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কোনো মহল থেকে ইঙ্গিত পেয়ে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী তরুণ যুবকদের দল এনসিপি ওদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। অনেকের মতে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আশীর্বাদ আছে জামায়াত জোটের সঙ্গে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল জোট নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে চাপে রেখেছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। নির্বাচন সময়ে সাধারণ জনসাধারণ নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারলে ভোট বিপ্লব হতে পারে। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক জোটের সমর্থকরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবে কি না- সন্দেহ আছে।
এমনি অবস্থায় সারা বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে চেয়ে আছে। বিশ্ব সমাজের ঈগল দৃষ্টির সামনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা সীমিত। বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর নির্বাচনে জয় লাভ সম্ভাবনা সীমিত। তবু চাই জনগণ যেন নিরাপদে ভোট অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।