জামায়াতের শপথ গ্রহণ
টান টান উত্তেজনা। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। দেখা গেলো বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবেন কি-না গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির জোটের ৭৭ নতুন এমপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে অনড় অবস্থানে ছিলেন। পরের দিন শপথ অনুষ্ঠানে দেখা গেলো প্রথম ধাপে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে নেন। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেননি। এদিকে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াত কোনো শপথই নেবে না অনড় অবস্থান থেকে নড়চড় নেই। একিই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন। কারো কারো মতে, কিছু একটা ঘটতে পারে। বেকে বসতে পারে জামায়াত। এমনিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এনিয়ে-ও দলটি তোলপাড় করে দেবে রাজনৈতিক অঙ্গন। এমন আওয়াজ-ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছুক্ষন ভেসে বেড়ায়।
সব খেলা শেষ কার ইশারায়?
কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বেলা বারোটার পর সব খেলা শেষ হয়ে গেলে। শপথ নিয়ে নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিতরা। সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিতরা। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে জামায়াতের সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও শপথ নেন। জামায়াতের পরপরই দেখা গেলো শপথ নিলেন এনসিপির সংসদ সদস্যরা।
এতো নাটকের তাহলে দরকার কি
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি তুলে পরে সুর সুর করে সুর পাল্টিয়ে ফেলা নিয়ে অনেকে চায়ের কাপে ঝড় তুলেছেন। কারো কারো মতে, জামায়াত ও এনসিপি এধরণের ঘটনাকে তারা নাটক বলে করেন। তারা বলেন, পদ্মার আড়ালে অনেক কিছু হয়েছে। কারো কারো মতে, দেনদরবার ও বড়ো ধরনের দরকষাকষি হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরে নাটকের শেষ অংশটা কেবল দেশবাসী দেখলো। ভেতরে অনেক খেলা হয়ে গেছে যা ভবিষ্যতে দেখা যাবে বলে কারো কারো অভিমত।
একি কথা মাহফুজ আলমের মুখে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, শপথ নিয়ে গত সোমবার ও মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটে গেলো, তা জাতির জন্য বিশেষ করে দলমত নির্বিশেষে ২৪ এর জুলাই যোদ্ধাদের জন্য লজ্জাস্কর। পুরো প্রক্রিয়ায়টি নেওয়া হয়েছিল বিএনপিকে কোনঠাসা করে ফেলার জন্য। কিন্তু বড়ো ধরনের আপোষকামিতায় এটা থেমে যায় বা থামিয়ে দেওয়া হয়। তা না হলে কেনোই বা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাটোয়ারার নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে কলম ধরতে হলো। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচনী বাটোয়ারা মেনে নিয়ে এখন বিরোধিতার নাটক করা বন্ধ করেন। দু:খ লাগে, ছাত্রদের জন্য। কত কম দামে তাদেরকে বিক্রি করে দিল! পোস্টে তিনি লেখেন, “নির্বাচনী বাটোয়ারা মেনে নিয়ে এখন বিরোধিতার নাটক করা বন্ধ করেন। বাটোয়ারা করে দেয়া আর মেনে নেয়ারা একদিকে, আর জনগণ অন্যদিকে। দু:খ লাগে, ছাত্রদের জন্য। কত কম দামে তাদেরকে বিক্রি করে দিল!” তিনি আরও লেখেন, “জনগণের ন্যায্য লড়াই এখন এরা হাপুস করে দিবে পিআর ক্যাম্পেইন আর মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের দৌলতে। আল্লাহ এ দেশের জনগণকে রক্ষা করুন।” মাহফুজ আলমের এমন মন্তব্য শুনে কারো কারো অভিমত আসলেই তো কেনো কি দরকার ছিল এমন নাটকের?