২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:০৮:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


ডিএইচএস প্রস্তাবিত নতুন বিধি
আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ওয়ার্ক পারমিট


যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) আশ্রয়প্রার্থীদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার একটি নতুন বিধি প্রস্তাব করেছে। ডিএইচএস বলছে, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ভুয়া বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদন কমানো, প্রক্রিয়াকরণ সময় হ্রাস করা এবং দীর্ঘদিনের ব্যাকলগ কমানো এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীরা আবেদন জমা দেয়ার পর প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট পান। দীর্ঘমেয়াদি ব্যাকলগের কারণে জাল বা অযোগ্য আবেদনকারীরাও বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পাচ্ছেন। ডিএইচএস-এর প্রস্তাবিত নতুন বিধি কার্যকর হলে কাজের অনুমতির প্রক্রিয়া কঠোর হবে। ভুয়া বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনকারীদের বহিষ্কার করা হবে।

ডিএইচএস প্রস্তাবিত এই বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠোর করতে চায়। এজন্য মুলতবি আশ্রয় আবেদনের ভিত্তিতে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার যোগ্যতার শর্ত আরও কড়াকড়ি করা হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাই ও পটভূমি তদন্ত জোরদার করা হবে, যাতে জাল বা অযোগ্য আবেদন দ্রুত শনাক্ত করা যায়। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের সীমিত সম্পদ প্রকৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়প্রার্থীদের মামলার নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেবে, যাতে দীর্ঘদিনের ব্যাকলগ কমানো সম্ভব হয় এবং আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার হ্রাস পায়। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আশ্রয় আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল, যা আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে অযোগ্য আবেদনে ভরে দিয়েছে। আমরা আশ্রয় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং কাজের অনুমতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে সংস্কার প্রস্তাব করছি।

বর্তমানে মুলতবি পেন্ডিং আশ্রয় আবেদনের ভিত্তিতে কাজের অনুমতির আবেদন ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। সংস্থাটির দাবি, প্রায় প্রতিটি অবৈধ অভিবাসী আশ্রয়ের আবেদন করে বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। ইউএসসিআইএস-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ১৪ লাখেরও বেশি অ্যাফার্মেটিভ আশ্রয় আবেদন মুলতবি রয়েছে। এই সংখ্যা নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের মোট জনসংখ্যার সমান।

প্রস্তাবিত বিধি চূড়ান্ত হলে, আশ্রয় আবেদনের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পেতে আবেদনকারীদের ফাইলিং ও যোগ্যতার শর্ত কঠোর করা হবে। এতে করে অযৌক্তিক বা জাল আবেদন নিরুৎসাহিত হবে বলে সংস্থাটি আশা করছে। ডিএইচএস বলছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে তারা প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত পর্যালোচনায় অগ্রাধিকার দিতে পারবে এবং দীর্ঘদিনের জট কমানো সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এই বিধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর জারি করা এক্সেকিউটিভ অর্ডার ১৪১৫৯ -এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।

বিধিটির নোটিস ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশের পর ৬০ দিনের জন্য জনমত গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই সময়ে মতামত জমা দিতে পারবেন। জনমত গ্রহণ গ্রহণের পর এই আইনে কার্যকর হবে।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যারা আবেদন চলাকালে কাজের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রশাসনের দাবি, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আশ্রয় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

শেয়ার করুন