২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:০৮:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


মধুচন্দ্রিমার সুযোগ নেই সরকারের
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
মধুচন্দ্রিমার সুযোগ নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান


সাম্প্রতিক সময়ের অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক নির্বাচনে বিপুল ভোট নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট। ইতিহাসের বাক বদলের মাহেন্দ্রক্ষণে নতুন সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শে গড়ে তোলার। নাজুক অর্থনীতি, ভেঙে পড়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অনিয়ন্ত্রিত মব কালচার, জ্বালানি বিদ্যুৎ সঙ্কট সামাল দিয়ে জনমনে স্বস্তি সৃষ্টি করতে নতুন সরকারের মধু চন্দ্রিমার অবকাশ নেই। 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই সাভারে জাতীয় সৃষ্টিসৌধ আর এর পর জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেক এলাকায় জিয়াউর রহমান আর বেগম জিয়ার কবর যেয়ারত করে দিনের কাজ শুরু করে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে নতুন প্রধান মন্ত্রী। এর পর অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার প্রথম সভা। প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে সভায় মিলিত হয়ে নতুন সরকারের প্রাধিকার সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে,

প্রধান মন্ত্রী এবং কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের চুম্বক অংশ নিয়ে শুরু করছি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের তিনটি প্রাধিকার ঘোষণা করেছে। তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার তিনটি হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। বিগত সময়ের নানা অব্যবস্থাপনা, অপশাসন আর দুর্নীতির কারণে বাজারে নিত্য পণ্যের মূল্য সাধারণ জনসাধারণের আওতার বাইরে চলে গাছে। কৃষক পর্যায়ে সকল পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন এবং যথেষ্ট আমদানি থাকলেও সরবরাহ চেনের বিভিন্ন স্তরে অশুভ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সৃষ্ট সংকট সরকার সমন্বিত প্রয়াসে নিয়ন্ত্রণ করলে জনগণ স্বস্তি পাবে। পবিত্র রমজান মাসে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণকে সরকার সঠিকভাবে প্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সর্ব পর্যায় থেকে চাঁদাবাজি এবং সৎ ব্যাবসায়ীদের চিন্তা মুক্তভাবে ব্যাবসার সুযোগ করে দেয়াই হবে সরকারের দায়িত্ব। সীমিত আয়ের মানুষ মাছ, ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কৃষক চায় তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে উৎপাদিত মূল্য ন্যায্য মূল্য। সরকার জনগণকে সঙ্গে করে বাজার তদারকি করলে অচিরেই দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করি।

এই উদ্যোগের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত ভেঙে পড়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। জুলাই আগস্ট ২০২৪ এবং পরবর্তী সময়ে অশুভ মহল অনিয়ন্ত্রিভাবে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খুন, জ্বালাও পোড়াও ধ্বংসযজ্ঞ করে দেশকে বার্থ রাষ্ট্রের পথে ধাবিত করছিলো। দাবি দাওয়া নিয়ে যখন তখন সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে জনজীবন স্তব্ধ করে দেয়া হয়ে পরে নিত্য দিনের কাহিনী। সরকারের প্রাধিকারের সূত্র ধরে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে নতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এখন প্রয়োজন দুর্নীতি কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে এসে নির্মোহ ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

গ্রহণ।

সরকারের তৃতীয় প্রাধিকার দ্রুত অনিশ্চিত হয়ে থাকা জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন। বিগত সময়ের আমলানির্ভর, দুর্নীতি দূষিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎপাদন, শিল্পকারখানা পরিচালনা এখন সংকটে। আবিষ্কৃত উঁচু মানের কয়লা সম্পদ মাটির নিচে, জলে স্থলে বিপুল গ্যাসসম্পদ থাকার সম্ভাবনা, সৌর, বায়ু বিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার হেঁটেছে আত্মবিনাশী জ্বালানি আমদানির দিকে। লাভমান হয়েছে দুর্নীতি সিন্ডিকেট। সরকারকে এখন জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতকে বিষয় বিশেষজ্ঞ পেশাদারদের হাতে ছেড়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দিতে হবে। জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতে নির্মোহভাবে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারকে কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ বিষয়েও যুগোপযোগী সংস্কার করতে হবে। সরকার সঠিকভাবেই ১৮০ দিনের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গত ১৮ মাসে একটি মহল নানা ন্যারেটিভ সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হেনস্তা, অপদস্ত করেছে। আশা করি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড় মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সঠিক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আমি খেলোয়াড় এবং ক্রীড়ানুরাগী হিসাবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে সঠিক পরিকল্পনা নেয়া হলে বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেকে ক্রমাগত দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। সমাজে সর্বস্তরে জাতিকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহী করে তুলতে পারলে সুস্থ সাবলীল নতুন প্রজন্ম অচিরেই বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে গর্বিত করবে।

মনে রাখবেন আমরা স্বাভাবিক ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অনুসারী। কিন্তু দেশটা সবার। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন দেশে মুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমি ১৯৭১ দেখেছি, দেখেছি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১। প্রতিবার যে স্বপ্ন দেখে জাতি হতাশ হয়েছে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় এবার হয়ত তেমনটি হবে না. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মেধা ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে।

শেয়ার করুন