১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৯:১৩:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিককে নিয়ে ট্রাম্পের কটূক্তি, মামলার হুমকি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিককে নিয়ে ট্রাম্পের কটূক্তি, মামলার হুমকি নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক ম্যাগি হ্যাবারম্যান (বাঁ-দিকে) ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় তীব্র ভাষা ব্যবহার করেছেন। এবার তার আক্রমণের লক্ষ্য হন ম্যাগি হ্যাবারম্যান, যিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প তাকে কটূক্তি করে নানা অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং পত্রিকাটির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তাকে যুক্ত করার হুমকিও দেন। গত শনিবার ট্রাম্প তার পোস্টে হ্যাবারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি নাকি তার সম্পর্কে মিথ্যা গল্প লিখে চলেছেন, যদিও তিনি জানেন যে, তার প্রতিবেদনে বলা বিষয়গুলোর ঠিক বিপরীতটাই সত্য। পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, তিনি ভাবছেন ফ্লোরিডাভিত্তিক যে মামলাটি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে চলছে তাতে হ্যাবারম্যান এবং তার কয়েকজন সহযোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করবেন।

ম্যাগি হ্যাবারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে নিয়ে রিপোর্টিং করছেন। তিনি আগে নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ-মপ কাজ করতেন এবং গত দুই দশক ধরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। ২০২২ সালে প্রকাশিত তার লেখা বই কনফিডেন্স ম্যান : দ্য মেকিং অব ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যান্ড দ্য ব্রেকিং অব আমেরিকা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সহকর্মী জোনাথন সোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পকে নিয়ে আরেকটি বই লিখছেন। হ্যাবারম্যান এমন এক সাংবাদিক দলেও ছিলেন যারা ২০১৮ সালে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পুলিতজার প্রাইজ জিতেছিলেন। যদিও ট্রাম্প সেই তদন্তকে দীর্ঘদিন ধরে ‘রাশিয়া হোক্স’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি হ্যাবারম্যান সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেন।

গত কয়েক মাসে ট্রাম্প একাধিক নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন বলে সমালোচনা উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি নারী সাংবাদিকদের কুৎসিত, অবাধ্য, বোকা, অশোভন কিংবা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি একবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদক যখন তাকে জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তখন ট্রাম্প তাকে কোয়াইট, পিগি বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্প কাইটলান কলিন্সের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের বিষয়ে প্রশ্ন করার সময় হাসেননি বলে ট্রাম্প তাকে তিরস্কার করেছিলেন।

সর্বশেষ বিতর্কের সূত্রপাত হয় দ্য সোর্স উইথ কাইটলান কলিন্স অনুষ্ঠানে হ্যাবারম্যানের উপস্থিতির পর। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং স্ট্রেইট অব হরমুজে তেলবাহী জাহাজে হামলার কারণে তেলের দামের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে ট্রাম্পের একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়, যেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক এবং তেলের দাম বাড়লে দেশটি লাভবান হয়। তবে অনুষ্ঠান সঞ্চালক কলিন্স মন্তব্য করেন, তেলের দাম বাড়লে মূলত ধনী বিনিয়োগকারীরাই বেশি লাভবান হন।

এ প্রসঙ্গে হ্যাবারম্যান বলেন, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর তার পরিচিত অনেকেই তাকে বার্তা পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেকেই এই ধরনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বা পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যায় পড়ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তিনি প্রায়ই সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন। হ্যাবারম্যানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, তিনি কেবল তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের জবাব দিচ্ছেন।

এদিকে হ্যাবারম্যান বা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও সংবাদমাধ্যমের এ সংঘাত আগামী দিনেও মার্কিন রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

শেয়ার করুন