আবু তাহের খান আর নেই
কম্যুনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, বাংলা ট্রাভেলসের ম্যানেজার ও প্রবাস জীবনের প্রায় প্রতিটি বছর জ্যাকসন হাইটসে কাটিয়ে দেওয়া মোহাম্মদ আবু তাহের খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গত ১৯ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। গত ২০ মার্চ অর্থাৎ ঈদের দিন মোহাম্মদ আবু তাহের খানের নামাজে জানাজা জ্যাকসন হাইটস মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ তার কর্মস্থল বাংলা ট্রাভেলসের সামনে রাখা হয়। এখানে বাংলা ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন, তার সহকর্মী এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা মোহাম্মদ আবু তাহের খানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ওইদিন রাতেই তার্কিস এয়ারলাইনসে তার লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, আবু তাহের খান আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে আমেরিকায় এসেছিলেন। আমেরিকায় এসে তিনি জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সিতে কাজ করেন। প্রথমে কাজ করেছিলেন দিল্লি ট্রাভেলসে, সেখান থেকে রূপালী ট্রাভেলসে, সর্বশেষ তিনি বাংলা ট্রাভেলসে কাজ করেন। আবু তাহের খানের জন্ম বাংলাদেশের নেত্রকোনায় হলেও তিনি বড় হয়েছেন নারায়ণগঞ্জে। চাকরি জীবন শুরু করেন ঢাকাতে। তার স্ত্রী বাংলাদেশ বিমানে কাজ করতেন। তিনিও সাত বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। স্বপ্নের আমেরিকায় এসেছিলেন আবু তাহের খান। তিনি তার সব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। সন্তানদের উন্নত জীবন দিয়েছেন। ছেলে রাহাত খানকে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় নিয়ে এসেছিলেন। এখানেই সে লেখাপড়া করেছে এবং বিয়ে করেছে। মেয়ের বিয়ে বাংলাদেশে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে আসার পর আর কোন দিন যেতে পারেননি। কাজ কাগজপত্র হয়নি। শেষ গেলেন লাশ হয়ে। বাংলা ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন জানান, আবু তাহের খান তার ছেলেকে বলেছেন, তার লাশ যেন বাংলাদেশে নিয়ে আজিমপুর গোরস্থানে তার স্ত্রীর পাশে দেওয়া হয়। সদা বিনয়ী এবং সদালাপী আবু তাহের খানের একটি হাতে সমস্যা ছিল। নিয়মিত নাড়াচড়া করতে পারতেন না। এমনি অবস্থায় বেলায়েত হোসেন তাকে থেরাপি দেওয়ার জন্য অর্থ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর তাকে এমআরআই করার জন্য বলা হয়। তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি এলেমহার্স্ট হাসপাতালে গিয়েছিলেন এমআরআই করতে। এমআরআই করার পর ধরা পড়ে তার কাঁধে টিউমার। টিউমার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে মরণব্যাধি ক্যানসার। ওইদিনই তাকে ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস একমাসের মধ্যেই তার সমস্ত শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এ মৃত্যুতে পুরো কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। আবু তাহের খান কোনোদিন কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন এটা কেউ বলতে পারবে না। যে কারণে সবাই শোকে শোকাভিভূত।
বেলায়েত হোসেন জানান, সন্তান রাহাত খান তার বাবার লাশ নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছেন। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। বেলায়েত হোসেন আবু তাহের খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।