০১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৮:২৭:১৮ অপরাহ্ন


রেকর্ড সংখ্যক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান হারার ভয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৪-২০২৬
রেকর্ড সংখ্যক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান হারার ভয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না রিপাবলিকান পার্টির লগো


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে নজিরবিহীন এক রেকর্ড সংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা তাদের আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৬ জন রিপাবলিকান সদস্য ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা বর্তমান মেয়াদ শেষে কংগ্রেস ত্যাগ করবেন, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেই বছর ৩৪ জন রিপাবলিকান পুনর্নির্বাচনে অংশ নেননি এবং শেষ পর্যন্ত দলটি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

এ নতুন প্রবণতা ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে যখন রিপাবলিকানরা খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে এবং স্পিকার মাইক জনসনের নেতৃত্বে আইন পাস করাতে প্রায় প্রতিটি সদস্যের সমর্থন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। মিসৌরির রিপাবলিকান প্রতিনিধি স্যাম গ্রাভেস সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তিনি তার আসন ছেড়ে দেবেন। অনেকেই ব্যক্তিগত কারণ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন পরিস্থিতিকে এ সিদ্ধান্তের পেছনে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে আরো গভীর কারণ রয়েছে, যেমন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা, এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দলীয় বিভাজন।

এ পরিস্থিতিতে স্পিকার মাইক জনসনের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এতোটাই সীমিত যে, কয়েকজন সদস্যের অনুপস্থিতি বা বিরোধিতা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের সময় এক বা দুজন সদস্যের অনুপস্থিতি নেতৃত্বকে সমস্যায় ফেলেছে। দীর্ঘদিন কংগ্রেসে কাজ করা অনেক সদস্য মনে করছেন তারা কাক্সিক্ষত নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদেরকে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত নির্বাচনে আসন হারায়। যদি এই নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য দ্বিতীয় মেয়াদের সময় অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করছাড় এবং কর্পোরেট কর হ্রাসের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উদ্দীপিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে কড়া শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। যদিও সমর্থকরা এটিকে দেশীয় শিল্প রক্ষা এবং শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, সমালোচকরা বলছেন এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উত্তেজনা এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যয়বৃদ্ধির কারণ হয়েছে।

অর্থনীতি ছাড়াও ট্রাম্পের প্রশাসন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ, বিচারিক নিয়োগ এবং ফেডারেল এজেন্সিতে নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওবামা-কেয়ার সংস্কার হ্রাস এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা বীমা প্রাইভেটাইজেশনকে উৎসাহ দেওয়া, কিছু জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হওয়া, এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করা এর মধ্যে অন্যতম ছিল।

মোটকথা, ট্রাম্পের নীতি হলো ইমিগ্রেশন, অর্থনীতি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ। এসব মিলিয়ে একটি প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত প্রশাসনের চিত্র তুলে ধরে, যা দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছে।

শেয়ার করুন