২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৫:০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী


বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন?
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন? বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


মির্জা ফখরুলের অবসরের বক্তব্য প্রচারের সাথে সাথে আলোচনা শুরু, তাহলে বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন? তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান, এটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। তাহলে তার মহাসচিব হবেন কে? কাকে বেছে নেবেন তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তার সঙ্গে মিলে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য।

আসলে শুধু ক্ষমতাই নয়, এবার নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তা ঝালাই করে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করতে দীর্ঘ এক দশক পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্ভবত আগামী ঈদুল আজহার পর এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ঈদুল আজহার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর একটা পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের। ফলে সব বিবেচনা করেই ঠিক করবে কাউন্সিলের জন্য সঠিক সময় বেছে নেবেন তারা কোন সময়টাকে। 

দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার রেওয়াজ আছে। ইতিপূর্বে রাজনৈতিক নির্যাতন, নিপিড়ন ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতায় নির্দিষ্ট সময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়েছে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সেটাও সেভাবে হয়নি। উপস্থিত থাকতে পারেনি অনেকে। তারেক রহমানও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। যদিও ছিলেন খালেদা জিয়া। এবারে হবে সপ্তমবারের মতো।

ফলে এ কথা বলাই যায়, বিগত দিনে, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কর্মসূচি ছিল সংকুচিত। সব আয়োজন ছিল সাদামাটা। তাই নিজেদের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার থাকবে ভিন্নমাত্রা। উৎসবের আমেজ রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ঘোষণা হবে নতুন নেতৃত্ব। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী ৮ বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান। তবে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর গত ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি ভারমুক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

আর মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্বগ্রহণ করেন ২০১৬ সালের কাউন্সিলে। এই দুই পদে প্রথমটিতে আসছেন তারেক রহমান এটা নিশ্চিত। বর্তমানেও তিনি। তবে মির্জা ফখরুল আর থাকছেন না এটা তিনি নিজেই ক্লিয়ার করেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবসরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’ স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছে আছে কি না তার? জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।’ 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এর আগে, ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুলকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

ফলে মির্জা ফখরুলের স্থানে কে আসবেন সেটা নিয়ে রয়েছে দীর্ঘ আলোচনা। কারণ বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালেদা জিয়ার আমলে বিভিন্ন স্থানে থাকা সবাইকে সেভাবে পদে দেননি। তারুণ্যের সংমিশ্রণে সরকার পরিচালনা করছেন তিনি। এতে বহু সিনিয়রকে তিনি সাইটে রেখেছেন। কিন্তু তাই বলে তিনি সিনিয়রদের অশ্রদ্ধা করছেন বা দূরে ঠেলছেন তা নয়। সবাইকে তিনি কাছে রেখে যাকে যেখানে রাখলে তার যথার্থ সম্মান হবে সেটা করছেন। কারণ তিনি আগ থেকেই বলে এসেছিলেন যে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া সব দলের নেতাদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার পরিচালনা করবেন। সম্ভব সবটুকুই তিনি করার চেষ্টাও করেছেন। 

এছাড়া গত কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে জুলাই, আগস্টে যেসব পরিবর্তন হয়েছে, সেখানে নতুনত্বের জয়জয়কার। সংসদেও সেটা স্পষ্ট। কোটা বিরোধী আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার বা সমন্বয়করা নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে এখন সংসদেও ভূমিকা রাখছেন। এতে করে রাজনৈতিক দল সিনিয়র, অভিজ্ঞ এসব পুঁজি করে বসে থাকলে পিছিয়ে যেতে হবে বৈকি। ফলে সব দিক খেয়াল করেই এগুচ্ছেন। এতে করে সব দিক বিবেচনা করে মহাসচিব পদটাও তিনি বাছাই করবেন। যদিও কাউন্সিলে সেটা নির্ধারিত হবে ভোটাভুটিতে। 

একই সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে আসছে নতুন নেতৃত্ব, এটা প্রায় নিশ্চিত। নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন যোগ্য ও ত্যাগীরা। আলোচনায় আছেন অনেকে। পূরণ করা হবে স্থায়ী কমিটির শূন্যস্থানও।

গত ১৫ এপ্রিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, অতীতের চেয়ে এবারের কাউন্সিল নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। কারণ বিগত ফ্যাসিবাদের সময় আমাদের সাংগঠনিক কাজে নানা প্রতিকূলতা ছিল। তাই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হতো সাদামাটা। আশা করি এবারের কাউন্সিল হবে উৎসবমুখর। এতে দলের সর্বস্তরে আসবে নতুন নেতৃত্ব। তিনি জানান, শিগগিরই কাউন্সিলের পথনকশা ঘোষণা করা হবে।

১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ৬টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করেছে দলটি। এর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের প্রথম কাউন্সিল হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১-২ সেপ্টেম্বর। এতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান হন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। এরপর ৮৪ সালের পর থেকে দায়িত্ব পান বেগম খালেদা জিয়া। তৃতীয় ১৯৮৮ সালের ৩-৪ মার্চ, চতুর্থ ১৯৯৩ সালের ৪-৫ সেপ্টেম্বর ও পঞ্চম কাউন্সিল হয় ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। সেখানে পুনরায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া।

সর্বশেষ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ হয়েছে ষষ্ঠ কাউন্সিল। সেবারও চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমৃত্যু চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া।

তারেক রহমানের অভিষেক

২০১৮ সালে কথিত দুর্নীতির মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তার বড় ছেলে তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান খালেদা জিয়া। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়।

বিএনপির দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সপ্তম কাউন্সিলে দলের স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এতে স্থান পেতে পারেন বেশ কয়েকজন নেতা। এর মধ্যে আলোচনায় আছেন রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন, জয়নুল আবদীন ফারুক, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন নবী খান সোহেল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে।

বিএনপি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি কয়েকটি ভাগ রয়েছে, যেমনটা- স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটির সদস্যের পদ রাখা হয় ১৯টি। তবে নানা কারণে পুরোপুরি কোরাম পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৬ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী এ ফোরামে ছিলেন ১৬ জন। সে সময় নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এরই মধ্যে মারা গেছেন খালেদা জিয়া। আর স্পিকারের দায়িত্ব পাওয়ায় পদ ছাড়েন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

কারা এখন কমিটিতে 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন পদাধিকার বলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

সাংগঠনিক কাজে অনেকেই সক্রিয় থাকলেও কয়েক বছর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। এর সঙ্গে গত রমজান থেকে অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস।

আবারও চেয়ারম্যান তারেক রহমান?

সর্বশেষ ২০১৬ সালের কাউন্সিলের আগে দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়নি। এবারও তারেক রহমানের বিকল্প রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। 

তারেক রহমান চেয়ারম্যান হয়েছেন একবছরও পূর্ণ হয়নি। নতুন কাউন্সিলে তাকেও কি নির্বাচিত হতে হবে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান মিডিয়াকে বলেন, ‘অবশ্যই, বর্তমান চেয়ারম্যানকেও নতুন করে নির্বাচিত হতে হবে। আর মহাসচিবের ক্ষেত্রেও একই নীতি অবলম্বন করা হবে।’ তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও নেতৃত্ব বাছাই হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। তবে চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান থাকলেও পরিবর্তন আসছে মহাসচিব পদে। কেননা মির্জা ফখরুল সম্প্রতি নিজেই সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ওপেন বলে দিয়েছেন। রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরে মির্জা ফখরুল মাঠের লড়াইটা অনেকটা একাই সামলিয়েছেন। এ সময় তার উপর দিয়ে অনেক ঝড় তুফান। খেটেছেন জেল জুলুম। সভা-সমাবেশে আক্রমণ হওয়ায়, খেয়েছেন ধাওয়া, টিয়ারগ্যাস। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনি। জেলে গেলে পর্যাপ্ত ট্রিটমেন্ট হয়নি তার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশ কয়েকবার দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে এসেছেন তিনি। এখনও অনেকটাই ডাক্তারের পরামর্শে যাওয়া আসা করছেন। সব মিলি ক্ষমতায় আসার পর তার ক্লান্তি চলে এসেছে। নিজে কিছুটা রিল্যাক্স হতে চান। তাছাড়া নতুনদেরও জন্যও তো ছেড়ে দিতে হবে স্থান! 

শেয়ার করুন