৩০ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :


অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেয়ায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৪-২০২৬
অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেয়ায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়




গঙ্গা চুক্তি ও অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের অধিকার’ নিশ্চিতে নোঙর ট্রাস্টের সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়।

 

শনিবার, জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত ‘গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি এবং অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ।

আলোচনা সভায় বক্তারা ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রবাহিত ৫৭টি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেন। চুক্তি থাকার পরও প্রায়ই অভিযোগ ওঠে যে, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত পানির হিস্যা পাচ্ছে না। এর বড় কারণ নদীর উজানে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার। ফারাক্কায় আসার আগেই যদি পানি সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে চুক্তির গাণিতিক সূত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে।

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ নিয়ে বক্তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ভবিষ্যতে এ চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি স্থায়ী চুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, শুধু গঙ্গা নদী ছাড়াও অভিন্ন ৫৭ টি নদীর বিষয়ে একটি অভিন্ন ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের উপর প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর ভারতীয় অংশে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহারের সমালোচনা করে বক্তারা উল্লেখ করেন, এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয় এবং মরুকরণ প্রক্রিয়ায় ভাটির দেশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এর বাস্তুতন্ত্র। ফলে কৃষি, মৎস, বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

নোঙর ট্রাস্ট এর সভাপতি সুমন শামস এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

 

হাবিবুর রশিদ বলেন ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির মূল লক্ষ্যই ছিল শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা। তবে সময়ের সাথে সাথে জলবায়ু পরিবর্তন এবং উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় আমাদের প্রাপ্তিতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সবসময়ই এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী কার্যকর রাখার দাবি জানিয়ে আসছি।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি নদীর ক্ষেত্রেই একটি স্থায়ী এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পন্ন পানি বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। তিস্তা চুক্তি থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তার ন্যায্য পাওনার দাবিতে অনড়। আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে আমাদের পানির অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।

আমি একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই পানির প্রবাহ ঠিক না থাকলে আমাদের অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে যেমন নাব্যতা হারায়, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপে আমাদের রেললাইন ও সড়কপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই নদী শাসনের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানির প্রবাহ সচল রাখা আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ।

সভায় মূল প্রবন্ধে সুমন শামস বলেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ফল নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত আন্তঃসীমান্ত বা অভিন্ন নদীগুলোর রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ন্যায্যতার প্রশ্ন। তাই আজ সময় এসেছে স্পষ্ট করে বলার অভিন্ন নদী মানে অভিন্ন 

শেয়ার করুন