২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন


মানবিক রাষ্ট্রই তারেক রহমান সরকারের ভিশন : ড. তিতুমীর
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৭-২০২৬
মানবিক রাষ্ট্রই তারেক রহমান সরকারের ভিশন : ড. তিতুমীর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে নেতৃবৃন্দ


গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক ‘পলিসি ডায়ালগ’ সেমিনারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের একটি দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে। সরকার পরিচালনায় এ দার্শনিক ভিত্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। এটা বুঝতে পারলেই বোঝা যাবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনীতিক অনেকেই কিন্তু স্টেটসম্যান সবাই হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্টেটসম্যানের মতোই কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রই তারেক রহমান সরকারের ভিশন-মিশন। 

ওয়াশিংটন ডিসির সংগঠন স্কুল অব লিডারশিপ (এসওএলই)-এর সহযোগিতায় গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ফ্রেশমেডোর ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স (জিবিএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। ‘রুরাল ইন্ডাস্ট্রিলাইজেশন ফর ইকোনমিক গ্রোথ : দ্য রুরাল অব দ্য ডায়াসপারা ইন বিল্ডিং ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক সেমিনারে গেস্ট অব অনার ছিলেন রাষ্ট্রদূত মুফিকুল ফজল আনসারী। সেমিনারে কিনোট স্পিকার ছিলেন জিবিএর চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসওএলইর চেয়ারম্যান ড. গোলাম রব্বানী (নয়ন বাঙালী)। আনিসুল কবীর জাসিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানসহ অন্যদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সেন্ট জনস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মেহেদী হাসান, বাংলাদেশের আলোচিত ‘চা ঘর’-এর প্রবক্তা জাহিদ খান, সংগঠক আজিজ আহমেদ প্রমুখ। 

সেমিনারে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিপুল ভোটে বিএনপিকে নির্বাচিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছে। কারণ অতীতের সরকার যেভাবে দেশের জনগণকে, বাংলাদেশকে ফেলে পালিয়ে গেছে, সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। কারণ অতীতের ইতিহাস তাই বলে। সরকার গণতন্ত্রকে মূলমন্ত্র হিসেবে লক্ষ্য রেখে শহীদ জিয়া আর খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছে। এ সরকার জবাবদিহির সরকার। 

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। সেজন্য প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হবে। প্রবাসীদের স্টক হোল্ডারস নিতে হবে। এসব নিয়ে সরকারের পলিসিমেকারদের সঙ্গে বসতে হবে, কথা বলতে হবে। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরো এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। এরকম হাম্বল, মানবিক প্রধানমন্ত্রীই তো দেশের মানুষ চেয়েছেন, আমরা পেয়েছিও। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বা আশপাশে যারা থাকেন, তাদেরও আচরণ প্রধানমন্ত্রীর মতো আশা করেন দেশের মানুষ। 

ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বাংলাদেশের গ্রামঢু জনপদের উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হচ্ছে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান ইন্ডাস্ট্রি’। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সহযোগী হচ্ছে ডায়াসপারা কমিউনিটি। কেননা দেশের অনেক মানুষ এক যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তাদের অধিকাংশ রেমিট্যান্স যাচ্ছে গ্রামে। আর তাই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের প্রতিটি গ্রামকে শিল্পে পরিণত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন গ্রামের মানুষের মন-মানসিকতা, আচার-আচরণ আর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তনের পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব। 

মিজান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান ইন্ডাস্ট্রি’ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আমরাও প্রবাস থেকে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ করে আইসিটিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। 

সেমিনারে গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স (জিবিএ)-এর মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সনি ও মোর্শেদ বিলুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নাঈম আহমেদ, হারুন সরকার, তৌফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ মজনু মিয়া, মানিক দেলোয়ার, এম এ মামুন, রফিক এ খান, নাহিদ মোল্লা, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, শরিফুল ইসলাম, নয়ন আহমেদ, মেহেদী হাসান, মেহেরুন নিতা, শফি চৌধুরী, মহসিন শিকদার, আলী রাজাই, রাশিদ শিকদার, মজনু মিয়া, রফিকুল ইসলাম প্রমুখসহ কয়েকজন ভিনদেশী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন