১০ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৪:০৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেডারেল আদালতের রায়ে সুরক্ষিত থাকছে স্ন্যাপ সুবিধা মুসলিমবিরোধী আইন প্রত্যাখ্যানে ১১৯ ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবে ৫০ হাজার দর্শক মামলার কারণে তিন ভাড়াটিয়ার কাছে পাওনা প্রায় এক লাখ ডলার নিউ ইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশি আমেরিকানদের পদোন্নতি নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর হলেন বাংলাদেশী হাসিব ফাতমী নিউইয়র্ক স্টেট থেকে ৪৫ হাজার ডলারের চেক পেল বাংলাদেশ সোসাইটি গ্রেস মেংকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহবান প্রতিবছর ৭৫ হাজার অভিবাসী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে জি কে প্রকল্পের সফলতা ভেস্তে যাবার উপক্রম


সীমান্তে পুশইন-পুশব্যাক অনাকাঙ্ক্ষিত
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৬-২০২৬
সীমান্তে পুশইন-পুশব্যাক অনাকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে পুশ-ইনের জন্য লোকজনদের ধরে এনেছে বিএসএফ


গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন-পুশব্যাক প্রবণতা। পশ্চিম বাংলাসহ বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজ্যগুলোতে অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশুদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পুশ ইন করার জন্য যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, রংপুর সীমান্ত এলাকায় সমবেত করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে রাতের আঁধারে বেশ কতেক কয়েকবার পুশ ইন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্তত এক ডজন প্রচেষ্টা পুশ ব্যাক করে সামাল দিয়েছে বিজেবি।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই সার্ক প্রতিবেশী বাংলাদেশ ভারতের মাঝে আছে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা। অধিকাংশ সীমান্ত এলাকায় আছে কাঁটাতারের বেড়া। একপাশে প্রহরায় আছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) অন্যদিকে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজেবি)। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দুদেশের মধ্যে অবৈধ চোরাকারবারি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্বাবাবিক কার্যক্রম চলবে সেটি কাঙ্ক্ষিত। দুই বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখলে সীমান্ত হত্যা বা পুশ ইন, পুশ ব্যাকের মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটার কথা না। অথচ সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বা অপহরণ দীর্ঘ দিন ধরেই চলেছে। অনেক সময় বাংলাদেশে খুন রাহাজানি করে দুষ্কৃতকারীরা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দণ্ডিত দুষ্কৃতকারীদেরও ভারতে পালিয়ে থাকার অভিযোগ আছে. কূটনৈতিক পর্যায়ে দণ্ডিত দুষ্কৃতকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুরোধে সারা দেয়নি ভারত।

সবাই জানে ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সময় থেকে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্কে শীতলতা সৃষ্টি হয়েছে। দুদেশের সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক, যা ১৯৭১ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় থেকে প্রতিষ্ঠিত সেটি কেন পারস্পরিক অবিশ্বাস আর মতভিন্নতার কারণে তিক্ত সেটি সবাই জানে। ভেবে দেখুন দুটি বিশ্বযুদ্ধে দুপক্ষে থাকা জার্মানির সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সীমান্তে কিন্তু কাঁটা তারের বেড়ার প্রয়োজন পরেনি। কেন দুই সার্ক প্রতিবেশী দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত সে জবাবদিহিতা দুদেশের রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার বিষয়। ন্যায্যতার ভিত্তিতে অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে অবাধ বাণিজ্য বিষয়াদি নিষ্পত্তি, এক দেশ, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার না করার নীতিতে বিশ্বস্ত থাকলে সম্পর্ক তিক্ত থাকার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দুদেশের মধ্যে অনেক বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া উভয় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা।

যদি বাংলাদেশের কোন বৈধ নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বসবাস করতে থাকে তাদের বৈধভাবেই ফিরিয়ে দেওয়ায় কোনো বাধা নেই. কেন পুশ ইনের অমানবিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে। পারস্পরিক স্বার্থে অবিলম্বে বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। 

শেয়ার করুন