০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৪:২৭:১৮ অপরাহ্ন


এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতের টেনশন বাড়ছে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৭-২০২৬
এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতের টেনশন বাড়ছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির লগো


জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)কে নিয়ে জামায়াতের টেনশন বেড়েই চলেছে। কেননা দেশে বিদেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির একোবারে শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় হামলার শিকার হচ্ছেন। এভাবে একের পর এক হামলা চলতে থাকলে এনসিপির ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা-তেও তারা উদ্বিগ্ন। এনিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন জামায়াতের ইসলামীর। কারণ তারা এনসিপিকে তাদের নেতৃত্বে গঠিত জোটের অন্যতম শরিক হিসাবে মনে করে। 

জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি-এর উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ও তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়াারি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে গ্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দেয়। এই জোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণে দরকষাকষির সুযোগ খুঁজছিল, এবং আপাতত তারা কিছুটা সফল হয়েছে। এরফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে (ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট) অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই জোটের হয়ে নির্বাচনে এনসিপি মোট ৬টি আসনে বিজয় লাভ করে।

সাম্প্রতিক সঙ্কট

এনসিপির সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও তরুণ নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভাজন দেখা দেয়। আদর্শিক বিচ্যুতি ও নৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার অভিযোগে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতা দল থেকে পদত্যাগও করেন। অনেকের মতে, জামায়াতের সাথে জোট করে এনসিপি আসলে তাদের রাজনৈতিক চরিত্রকে বির্তকিত করে ফেলেছে। কারণ তা মনে করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া এসব তরুণদের দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা সেসময় মনে করেছিলো এদের কোনো দল নেই, নিরপেক্ষ প্লাটফরম। একারণে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের সাথে নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও তরুণ নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভাজন দেখা দেয়।

কিন্তু হামলার ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে

কিন্তু দেশে বিদেশে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার পর থেকে পরিস্থিতি অন্যদিকেই মোড় নিচ্ছে। এতে করে এনসিপিকে তো ভাবাচ্ছেই তা-র চেয়ে  জামায়াত পড়েছে বেশি বেকায়দায়। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর লন্ডনে এক অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েও মারেন। আবার খবর বেরিয়েছে যে, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

জামায়াত যেভাবে বেকায়দায় আছে

কারো কারো মতে, এনসিপি জামায়াতের আর্দশেরই অন্য একটি সুবিধাভোগী (ইবহবভরপরধৎু) গোষ্ঠী বা দল বা গ্রুপ। এর ওপর কোনো কারণে হামলার পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক ঘৃণা তৈরি হয়ে গেলে জামায়াতের পক্ষে এনসিপির সাথে সম্পর্ক রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে দেখা গেছে, এবারে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর  লন্ডনে যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তা তাদেরকে হতবিহব্বল করে ফেলে। লন্ডনে বিভিন্ন কারণে জামায়াতের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক ভিত অনেক শক্তিশালী। সেখানে জামায়াত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে মানব বৈষ্টনী দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাত থেকে রেহাই পেতে হিমশিম খেতে হয়। আবার পরবর্তীতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেদেশে মামলা দায়েরের মতো ঘটনাও জামায়াতকে ভাবিয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে দেশের ভেতরে হয়তবা এনসিপির নেতাকর্মীদের জামায়াত প্রোটেকশান দিতে পারবে, কিন্ত বিদেশের মাটিতে কি হবে যদি এবারের লন্ডনের মতো ভয়াবহ আক্রমণ চলতে থাকে? বিষয়গুলিা এনসিপির চেয়ে জামায়াত-কেই বেশি ভাবাচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন