৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৯:১৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর নিজেদের সামর্থ যাচাইয়ে অগ্নি পরীক্ষা বাংলাদেশের


মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল প্রমাণে মরিয়া জামায়াত
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল প্রমাণে মরিয়া জামায়াত জামায়াতে ইসলামির লগো


নিজেদের একটি একটি মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের পাশাপাশি অসাম্পদায়িক রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। এর পাশাপাশি জামায়াত নিজেদেরকে একটি শক্ত কার্যকর বিরোধী দল হিসাবেও জাহিরে মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে ইসলামী দল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। 

কেনো এমন সিদ্ধান্ত

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নিশ্চিত হেরে যাওয়াকে মাথায় রেখেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা ও যৌথ রাজনৈতিক কর্মপন্থা ঠিক করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য একটি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোটটি গঠনের পরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের পক্ষ থেকে অনেক আশাবাদ লক্ষ্য করা যায় যে, তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে। আর সে আশবাদে তারা তখন এই ধারণা দেয় যে জয়লাভ করলে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। যদিও জামায়াত জোট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি তারপরেও কেনো এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রাথী করা হলো? এব্যাপারে বলা হচ্ছে জোট গঠনের সময়ে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে জামায়াত কথা দিয়েছিল তাঁকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হবে। এখন সে-ই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটি বাংলাদেশে স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিরোধী করলে দলটি আসলে ৭১’ চেতনায় বিশ্বাসী। একারণে তারা একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দিচ্ছেন। 

শরিকদের ধরে রাখতে কৌশলী জামায়াত

তবে সূত্র জানায় জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জুলাই বিপ্লবের ইমেজে গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কে ধরে রাখতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্ক ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এনসিপি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। দলটির অভ্যন্তরে আদর্শগত বিরোধ, স্থানীয় সংঘাতের ঘটনায় জামায়াতের নিষ্ক্রিয়তা এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনার সাথে আদর্শগত মিল না থাকার অভিযোগ তুলে এনসিপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক বা বোঝাপড়ার বিষয়টি দলের ভেতর বিভক্তি ও চাপের সৃষ্টি করেছে। এবিষয়টি পাশ কাটাতেই জামায়াত এইভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে এগুচ্ছে বলে কারো কারো অভিমত।

বৈশ্বিক চাপে জামায়াত

আবার কারো কারো মতে, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্ন এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল ও ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। কট্টর ধর্মীয় এজেন্ডার পরিবর্তে তারা এখন গণতান্ত্রিক ও উদার রাজনৈতিক ধারা তুলে ধরার ওপর জোর দিচ্ছে। কেননা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা গেলো দলের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু উইংয়ের সভাপতি ও ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দী খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্ন এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেই জামায়াত এসব কাজ করছে। একারণে সম্প্রতি এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রায় আট দশকের ঘটনাপ্রবাহ আলোকচিত্রে তুলে ধরেছে এই দলটি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পাকিস্তানি শাসন, মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঠাঁই পেয়েছে। 

তারপরেও কথা থেকেই গেলো

যদিও রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত প্রদর্শনীতে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভূমিকা সেখানে অনুপস্থিত ছিল। আবার প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ রাখা হলেও স্বাধীনতার ঘোষণা বা জিয়াউর রহমানের ভূমিকা না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ফলে কারো কারো মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আসলে কি ধরনের বার্তা দিচ্ছে তা সময় বলে দেবে। কেননা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট কোনো অনুশোচনা বা ঐতিহাসিক দায় স্বীকার না করার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় বিতর্ক ও আলোচনার বিষয়। অন্যদিকে ঐতিহাসিক দলিল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দলটির তৎকালীন ভূমিকা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি পরিষ্কার কোনো অবস্থান বা ক্ষমা প্রকাশ করা হয়নি।

শেয়ার করুন