০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৯:৪৩:০৮ অপরাহ্ন


কা-র খেলা কে খেলছে, গোপনে কি হচ্ছে ?
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৭-২০২৬
কা-র খেলা কে খেলছে, গোপনে কি হচ্ছে ?




আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে হামলার আশঙ্কা, পুলিশের সতর্কবার্তা ছিল দেশজুড়ে। ছাত্র-জনতার ধাওয়ার মুখে দিল্লীতে আশ্রয় পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একের পর এক হুঙ্কার ছাড়ছেন। ঢুকে যাচ্ছেন তারা বাংলাদেশে, ফিরে পাচ্ছেন এখনই ক্ষমতা। এমন অবস্থায় দেশ পুরো একটা ভিন্ন কিছু উকি-বুকি মারা দেখছেন অনেকে। আসলে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু না-ই এমন বুলির ব্যাখ্যা বিশাল। সে হিসাবে একধরণের টেনশন সর্বত্রই ছিল সে-দিন (২৩ জুন) একটা কিছু হবেই, দেখা যাবে.. এমন হুঙ্কার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে..। 

ঘি ঢেলে দিলো সরকার..

এমন টান টান উত্তজনাকর পরিস্থিতিতে ঘি ঢেলে দিলো ক্ষমতাসীন সরকার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার শঙ্কায় সরকার ছয় জেলায় সেনাবাহিনী ও পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়..। এতে গুজুবের ঢাল পারা আরও মেলে। 

কিন্তু খেসারত দিলো কারা..?

কর্মসূচি ঘিরে ২৩ জুন মঙ্গলবার দিনভর ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকলেও বড় কোনো সহিংসতা হয়নি। বরং  দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেলো সারাদেশে এই আটকের সংখ্যা শতাধিক। যদিও পরে জানা গেলো সরকার আসলে আওয়ামী লীগ নয় বরং অন্য একটি রাজনৈতিক দলের গুপ্ত পরিকল্পনার আশঙ্কায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দৃশ্যমান করা হয়। কারো কারো মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করার কথা  মঙ্গলবার। সে-কারণের সরকারের পক্ষ থেকে আগে ভাগে সর্তকাবস্থা নেওয়া হয়। 

আবার শেখ হাসিনার গর্জন..

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার শঙ্কায় নেওয়া পদক্ষেপের মেয়াদ যখন শেষের দিকে ঠিক তখন ২৮ জুন কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় আবারও হুঙ্কারের খবর বেরুলো শেখ হাসিনার। ওই পত্রিকায় নিউপের হেডিং ছিল‘বাংলাদেশে ফিরবেন আগেই বলেছেন, এ বার সময়সীমা পর্যন্ত জানিয়ে দিলেন দু’বছর ধরে ভারতে আশ্রিত হাসিনা”

এর বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার কথা জানিয়েছিলেন আগেই। এ বার তার সময়সীমাও জানিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার ‘এনডিটিভি’ তাঁর একটি ইমেল সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশের পাঁচ বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এই বছরেই আমার দেশে ফিরব।”

ইঙ্গিত আছে গোপন সমঝোতার..

সাক্ষাৎকারের এক জায়গায় আছে বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সাথে আপোষ মীমাংসার ইঙ্গিত। এতে দেখা যায় যে,  হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল গণমাধ্যমটির পক্ষ থেকে যে, তিনি বা তাঁরা আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলতে তারেক রহমানের বিএনপি-র সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন কি না? এর জবাবে হাসিনা বিএনপি-র সঙ্গে গোপন ‘বোঝাপড়ার তত্ত্ব’ খারিজ করে দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” 

মাহফুজের মুখে বলির পাঠার প্রসঙ্গ কেনো?.

যদিও বিএনপির সাথে গোপন যোগাযোগের প্রসঙ্গটি শেখ হাসিনা পাশ কেটে গেছেন তবে কিন্তু প্রশ্ন দেখা গেছে অন্যস্থানে । এমন জল্পনা কল্পনার মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন এক রহস্যময় পোস্ট । এতে দেখা যায়, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নিজেকে ‘প্রথম বলির পাঁঠা হবেন’ উল্লেখ করে একে একে আরও অনেকে লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে সতর্ক করে এই পোস্টটি করেন। পোস্টে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এড়িয়ে সর্বোচ্চ ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

গোপনে কি খেলা হচ্ছে..?

উপরের এসব ঘটনা-দুর্ঘটনার মাঝে প্রশ্ন দেথা দিয়েছে যে, গোপনে গোপনে আসলে কি হচ্ছে কে কার খেলা খেলছে। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার শঙ্কায় সরকার ছয় জেলায় সেনাবাহিনী ও পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা বলয় নিয়ে? আবার এই সময়ে ‘বাংলাদেশে ফিরবেন আগেই বলেছেন, এ বার সময়সীমা পর্যন্ত জানিয়ে দিলেন দু’বছর ধরে ভারতে আশ্রিত হাসিনা” শীর্ষক সাক্ষাৎকারের নেপথ্যে-ই বা  কি? একারণেই কি মাহফুজ টেনে আনলেন বলির পাঠার প্রসঙ্গ? অন্যদিকে কেনোই না এই সময়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবির উঠে। আর সে-ই প্রেক্ষাপটে দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য নানান প্রশ্ন উকিবুকি দিচ্ছে। কারণ তিনি জানতে চেয়েছেন তাদের জামায়াত নিষিদ্ধ হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই শূন্যস্থান কে পূরণ করবে। এখানেও প্রশ্ন উঠেছে কেনোই-বা জামায়াত শূন্য হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করছেন দলের একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে? এখন জনগণের মাঝেই আসলে প্রশ্ন উৎসক্য কার খেলা কে খেলছে? কি হচ্ছে তাহলে?

 

শেয়ার করুন