১২ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ০৭:৫৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিউ ইয়র্কে অটো বীমা খরচ ও প্রতারণা রোধে ক্যাথি হোচুলের প্রস্তাব বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বড় স্ক্রিনে দেখানো হবে অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু


২৭ স্টেটে প্রাণঘাতী ‘সুপারবাগ’ ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০১-২০২৬
২৭ স্টেটে প্রাণঘাতী ‘সুপারবাগ’ ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু প্রতি ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে একজন মানুষ ওষুধ-প্রতিরোধী ‘সুপারবাগ’ সংক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছেন।


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে একটি প্রাণঘাতী ও ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ক্যান্ডিডা অরিস। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাকে সুপারবাগ ফাঙ্গাস হিসেবে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি )-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই অন্তত ৭,০০০ মানুষ এই ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে, এবং সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ২৭টি স্টেটে। সংক্রমণের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে। সিডিসি জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে, তবে গত কয়েক বছরে এর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এই ছত্রাকটি অন্যান্য সাধারণ ছত্রাকের মতো নয়। এটি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের দেয়াল, বিছানা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এমনকি চিকিৎসাকর্মীদের হাতেও জীবিত থাকতে পারে। ফলে ক্যাথেটার, শ্বাসযন্ত্রের টিউব, ভেন্টিলেটর বা আইভি লাইনের মাধ্যমে এটি সহজেই রোগীর শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।

সিডিসি’র মতে, ক্যান্ডিডা অরিসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক করে তুলেছে এর অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। এর কিছু স্ট্রেইন বর্তমানে ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সিডিসি একে কোনো ছত্রাকের ক্ষেত্রে এই প্রথম জরুরি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বিশেষ করে ক্যান্সার রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তি কিংবা দীর্ঘদিন ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের জন্য এই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে সংক্রমিত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যদিও প্রকৃত হার রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ক্যান্ডিডা অরিস প্রায়ই ভুলভাবে শনাক্ত হয়। জ্বর, কাঁপুনি, শরীর ব্যাথার মতো উপসর্গ অন্যান্য সংক্রমণের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেক সময় সঠিক রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। এই বিলম্বের সুযোগে সংক্রমণ হাসপাতালের ভেতরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরছে। সংক্রমণ শনাক্তের জন্য উন্নত পরীক্ষার অভাব, হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নতুন অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ উদ্ভাবনে দীর্ঘসূত্রতাসহ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।তবে কিছু আশার আলোও দেখছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্ডিডা অরিস সংক্রমণের সময় শরীর থেকে আয়রন সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ বা বিদ্যমান ওষুধের নতুন ব্যবহার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সিডিসি ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, এই সুপারবাগের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত শনাক্তকরণ, হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং নতুন চিকিৎসা গবেষণায় ব্যাপক বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি। তা না হলে ক্যান্ডিডা অরিস যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

শেয়ার করুন