১০ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ০৩:০৭:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


কীভাবে বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৭-২০২৬
কীভাবে বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে? চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত একটি এলাকা


দক্ষিণ পূর্ব বাংলাদেশের বিশাল এলাকা অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যায় ভাসছে। সিলেট অঞ্চলেও বন্যার পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। অসহায় বানভাসী মানুষ নিদারুণ কষ্টে আছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এমনিতেই বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ দেশ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় স্বাভাবিক বা কখনো অতিবৃষ্টিতে বাংলাদেশে বন্যা হয়ে থাকে। 

বাংলাদেশে না হলেও উজানে ভারতের সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে অতিবৃষ্টি হলে সে জল গড়িয়ে বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টি করে। দেশে নদ-নদী খাল-বিলগুলো অবৈধ দখলদারদের আগ্রাসনে মৃতপ্রায়। এ কারণেও সামান্য বৃষ্টি অনেক সময় নগরাঞ্চলে অসহনীয় জলবদ্ধতার সৃষ্টি করে। সরকারি পর্যায় থেকে নানা সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা দূর করার কথা সাড়ম্বরে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে অর্জন শূন্য। ঢাকার চারপাশে আছে চারটি নদী। দুনিয়ার অনেক মহানগরী গড়ে উঠেছে একটি নদীকে কেন্দ্র করে। অথচ দুর্বৃত্তায়ন আর সুশাসনের অভাবে চারটি নদী দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। 

ঢাকার বুক চিরে একসময় থাকা অসংখ্য খালের ৫০ ভাগ পুনরুদ্ধার করা হলে আর নদীগুলো নিয়মিত খনন করে নাব্য বজায় রাখা হলে জলাবদ্ধতা দূর হতো এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হতো। একইভাবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল পুনঃখনন করে জলপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা থাকতো না, কিন্তু বিগত কোনো সরকার আন্তরিকভাবে কিছুই করেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের তথাকথিত পরিবেশ উপদেষ্টার কথাই ধরুন। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে লাল কার্পেট বিছিয়ে খাল খনন শুরুর অগ্রগতি কি হয়েছে? বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচি পরিকল্পিত উপায়ে বাস্তবায়িত সরকারের বর্তমান টার্মে সুফল মিলবে। আর বন্যা-প্লাবণ সঠিকভাবে সামাল দিতে হলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যমূলক যোগাযোগের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পদ্মা ব্যারাজ আর তিস্তা ব্যারাজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। 

উপকূল অঞ্চলে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ আর সংরক্ষণেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমেই সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন