০১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১০:০৯:৪৮ অপরাহ্ন


গ্লোবাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের প্রেস ব্রিফিংয়ে শামসুদ্দীন বশির
টার্কিস, আমিরাত, ক্যাথেপ্যাসিফিক ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমান নিয়মিত চলছে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৪-২০২৬
টার্কিস, আমিরাত, ক্যাথেপ্যাসিফিক ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমান নিয়মিত চলছে সংবাদ সম্মেলেনে বক্তব্য রাখছেন শামসুদ্দীন বশির


ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশষ করে মধ্যপাচ্যে। আমাদের দেশসহ এশিয়ার যাত্রীদের উপর এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশে গিয়েছেন বা আগামীতে যাবেন। এই যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং যাত্রীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চলমান যুদ্ধের কারণে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এয়ার ভ্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশী মালিকানাধীন গ্লোবাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এবং মাই বেস্ট ফ্লাই সেফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনেটি গত ৩০ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি হল-এ এক অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। আকাশপথে রুট পরিবর্তন, ফ্লাইট বিলম্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট জটিলতা এখন ভ্রমণকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আয়োজক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলহাজ মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বশির ভ্রমণকারীদের জন্য বাস্তবসম্মত নির্দেশনা ও সর্বশেষ আপডেট তুলে ধরেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্রমণ নিরাপত্তা, ট্রানজিট ঝুঁকি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং এয়ারলাইন্সভিত্তিক নিরাপত্তা আপডেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে যেসব এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় যাত্রীরা বেশি ভ্রমণ করেন। তিনি জানান, টার্কিস এয়ারলাইন্স, আমিরাত এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ বিমান (কানাডা হয়ে), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও ক্যাথেপ্যাসেফিক নিয়মিত ফ্লাই করছে। কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আপাতত বন্ধ রয়েছে কুয়েত, কাতার এয়ারলাইন্স। কাতার এয়ারলাইন্স জানিয়েছে তারা আগামী ২ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট চালু করবে।

বিশ্বখ্যাত টার্কিস এয়ারলাইন্স প্রতিদিন ১৪টি ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্ট থেকে নিয়মিতভাবে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। উল্লেখযোগ্য এয়ারপোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের জেএফকে , শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডালেস। প্রতিদিন জেএফকে থেকে দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এই এয়ারলাইন্সের একটি বড় আকর্ষণ হলো উদার ব্যাগেজ সুবিধা। প্রতি যাত্রী ৫০ পাউন্ড ওজনের ৩টি লাগেজ বহনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া স্টপওভার ইস্তাম্বুল সার্ভিসের আওতায় ইকোনমি ক্লাসে ২ রাত এবং বিজনেস ক্লাসে ৩ রাত পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে বিনামূল্যে হোটেল থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলছে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকায় সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব ফ্লাইট ইস্তাম্বুল ও রোম হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমেরিকার যাত্রীরাও কানেন্টিং ফ্লাইটে বাংলাদেশ বিমানে আসতে পারেন। আমরাই কানেটিং ফ্লাইটের টিকেট করে দিবো। টিকেটের দামও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় কম।

এছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং ক্যাথে প্যাসিফিক-ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব এয়ারলাইনস যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ, উন্নত সেবা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া নিশ্চিত করছে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম mybestfly.com বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক ওয়ান-ওয়ে টিকিটে ১০ ডলার এবং রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটে ২০ ডলার ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য থাকছে ঢাকা এয়ারপোর্টে মিট অ্যান্ড গ্রিট সার্ভিস, নির্দিষ্ট শর্তে ফ্রি ডোমেস্টিক টিকিট এবং এক রাতের ফ্রি হোটেল স্টে সুবিধা।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি মানি ট্রান্সফার, ভিসা সহায়তা, পাসপোর্ট নবায়ন, নোটারি পাবলিক, এবং হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ নানা সেবা প্রদান করছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে আরও সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্টের মাধ্যমে যাত্রীদের যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাশ্রয়ী, আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের এসব সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বশির ।

যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে ফ্রি ঢাকা এয়ারপোর্ট সার্ভিস সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করা হয়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোন রুট তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কোথায় ট্রানজিট এড়ানো উচিত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে, এসব বিষয়েও মতামত তুলে ধরেন তিনি। আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যে কোন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা আমাদের নিউইয়র্ক অফিস ও ঢাকা অফিসে যেতে পারেন। ২৪ ঘন্টা আমাদের সার্ভিস রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ছাড়াও কম্যুনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। গ্লোবাল ট্রাভল এন্ড ট্যুরস, ওয়ার্ল্ড ট্যুরস এন্ড ট্রাভল ও মাই বেস্ট ফ্লাই’র কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, মাওলানা ইসমাইল, ম্যানেজার রায়হান মাহমুদ, এরশাদ রাহি তুহীন ও অফিস সহকারি তানজিলা আক্তার অনিকা।

শেয়ার করুন