১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন


মেয়র মামদানির জনপ্রিয়তা নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৭-২০২৬
মেয়র মামদানির জনপ্রিয়তা নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু


যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদিদের মধ্যে পরিচালিত এক নতুন জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তুলনায় বেশি ইতিবাচক জনসমর্থন পাচ্ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ইহুদি আমেরিকানদের ৪৪ শতাংশ মামদানির প্রতি ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন মাত্র ৩২ শতাংশ, আর ৫৯ শতাংশ তার সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ যৌথভাবে এক হাজারের বেশি মার্কিন ইহুদির ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপটি গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস বা মাইনাস ৫ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, সামগ্রিক মার্কিন জনগণের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে ২৮ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক এবং ২৭ শতাংশ ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাও সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে খুব বেশি নয়, তবে ইহুদি আমেরিকানদের তুলনায় তার অবস্থান কিছুটা ভালো। জরিপের ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক বিস্ময়কর বলে মনে করছেন। কারণ, জোহরান মামদানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ২০২৫ সালের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে তিনি ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম সমর্থন পেয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসরায়েল সরকারের নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

বিশেষ করে, ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া এবং গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা স্লোগানটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করায় তিনি ইহুদি নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েন। অনেক ইহুদি সংগঠনের মতে, এ স্লোগানটি ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম উসকে দিতে পারে। এছাড়া গত মাসে নিউইয়র্কের বার্ষিক ইসরায়েল প্যারেডে অংশ না নেওয়ায়ও মামদানি সমালোচিত হন। তবে মেয়র মামদানি বরাবরই দাবি করে আসছেন, তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেন এবং ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা করা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়। এ জরিপের ফলাফল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিউইয়র্ক সিটি হলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জরিপের ফলাফল মার্কিন ডেমোক্র‍্যাট ও উদারপন্থী ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক নীতির প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষের প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, লেবাননে সামরিক অভিযান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা তরুণ ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি আমেরিকানদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

জরিপে আরো দেখা গেছে, প্রায় ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। তবে প্রায় অর্ধেক এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নন এবং প্রায় ২০ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি। একই প্রশ্নে বৃহত্তর মার্কিন জনগণের মধ্যেও প্রায় একই সংখ্যক মানুষ গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে একমত হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উত্তরদাতা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

এছাড়া জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ইহুদিরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতিও সাধারণ মার্কিন জনগণের তুলনায় কম সমর্থন প্রকাশ করেছেন। জরিপটি ইঙ্গিত করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশ, বিশেষ করে তরুণ ও উদারপন্থীরা, মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আগের তুলনায় আরো সমালোচনামুখর হয়ে উঠছেন।

শেয়ার করুন