১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৪:৪০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে যাচ্ছে বাংলাদেশ জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের জাতিসংঘ অধ্যায় আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা


নতুন ভিশন উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী
জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের জাতিসংঘ অধ্যায়
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের জাতিসংঘ অধ্যায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান


দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক রুটিন কর্মসূচি নয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায়ও বটে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সফর এবং প্রথম যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে এটি তাঁর প্রথম পা রাখা নয়—এর আগে তিনি ২০০৬ সনে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা। যা প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা। এবার তিনি যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় প্রধানের মর্যাদায়, একজন রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে। 

সময়সূচি ও কর্মযজ্ঞ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। মোট সফর নয় দিনের মতো দীর্ঘ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক ও অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন এবং সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ দেবেন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্ক পর্ব শেষে তিনি যাবেন প্রযুক্তি নগরী সান ফ্রান্সিসকোতে, যেখানে দুই দিনের একটি কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। যদিও এটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর আরো কম দিনের জন্য হতে পারে। সরকারি সূত্র বলছে, তাঁর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ জনের মধ্যে সীমিত রাখা হচ্ছে—যা অতীতের তুলনায় একটি সংযত ও পরিমিত প্রতিনিধি দল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যক্তি তারেক রহমান বনাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্যক্তি তারেক রহমানের জন্য এই সফরের তাৎপর্য এক রকম, আর রাষ্ট্রীয় প্রধান হিসেবে তাঁর জন্য তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। ১৭ বছরের অধিক সময় প্রবাস-জীবন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পর দেশে ফিরে যিনি একদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আসনে বসেছিলেন, আজ তিনিই বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াচ্ছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার এক প্রতীকী পূর্ণতা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য এই সফর একটি বাস্তব পরীক্ষা—নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের বৈধতা, স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মোতাবেক, তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ‘নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার’ তুলে ধরবেন এই সফরে। 

পরিবারের তিন প্রজন্ম, জাতিসংঘের একই মঞ্চ

জাতিসংঘের সফরকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা হতে চলেছে। জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রথম তারেক রহমানের বাবা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছিলেন, ২৬ আগস্ট ১৯৮০ সনে। ওইবার তিনি প্রথম জাতিসংঘে বক্তব্য রাখেন। 

ওইদিন সকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়ে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল জি-৭৭ এর পক্ষে রাখা তাঁর এই জোড়ালো বক্তব্যে অযৌক্তিকভাবে তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্য / কাঁচামালের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান। জি-৭৭ এর পক্ষে রাখা তার শক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা শহীদ জিয়াকে ঐ ফোরামের নেতা হিসেবে সাক্ষাতকার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

একই দিন বিকেলে ওয়ার্ল্ড ক্রনিকলের পক্ষ থেকে রায়ান সেকটেন্স এর সঞ্চালনায় ইন্টারপ্রেস সার্ভিসের প্রতিনিধি ব্রেনান জোনস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নালসের আন্তর্জাতিক সম্পদক পেগি উইলকিনস এবং ভারতের ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক প্রেম শঙ্কর ঝা প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন। যার ভিডিও রেকর্ড এখনও রয়েছে। ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। 

খালেদা জিয়া 

এরপর তাঁর মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া নিজের দুই মেয়াদে (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) সরকারপ্রধান হিসেবে একাধিকবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন ১ অক্টোবর, ১৯৯৩ সালে। 

জাতিসংঘ বিরল ঘটনার স্বাক্ষী হচ্ছে 

জিয়া পরিবারের সদস্য বাবা জিয়াউর রহমান, মা খালেদা জিয়ার পর এখন তাঁদের পুত্র তারেক রহমান নিজেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। এক পরিবারের তিন প্রজন্ম—বাবা, মা ও ছেলে—পালাক্রমে রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদে থেকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার নজির বিশ্ব রাজনীতিতে ইতিহাস ঘেটে পাওয়া যায়নি। বিশ্বে একই পরিবারের সর্বোচ্চ ৩ জন সদস্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড রয়েছে ভারতের নেহেরু-গান্ধী পরিবারের। তবে সেখানে সম্পর্কের সমীকরণটি ছিল নানা (মা এর বাবা), মা এবং পুত্র। নানা জওহরলাল নেহেরু (ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী)। মা (কন্যা) ইন্দিরা গান্ধী (জওহরলাল নেহেরুর কন্যা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী)। পুত্র, রাজীব গান্ধী (ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী)। 

এখানে ইন্দিরা গান্ধীর স্বামী বা রাজীব গান্ধীর বাবা ফিরোজ গান্ধী কখনোই ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান ছিলেন না। এখানেও “বাবা, মা ও পুত্র”—এই তিনজন সরকার প্রধান হওয়ার সমীকরণটি মেলে না। ফলে এক পরিবারের তিনজন ভিন্ন প্রজন্মের সদস্য (যেমন ভারতের নেহেরু-গান্ধী পরিবার) সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার রেকর্ড থাকলেও, একই পরিবারের বাবা, মা এবং পুত্র—এই তিন ব্যক্তিই সরকার প্রধান হয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য রেখেছেন, এমন কোনো ঘটনা ইতিহাসে ঘটেনি। 

ফলে তারেক রহমানের ইস্যুটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সভাপতিও বাংলাদেশী 

তারেক রহমানের এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে অন্য একটি কারণে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ থেকে কেউ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসছেন। ১৯৮৬-৮৭ সালের ৪১তম অধিবেশনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত আসনে গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমানের মন্ত্রী পরিষদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন। ফলে যে অধিবেশনে তারেক রহমান ভাষণ দেবেন, সেই একই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন আরেকজন বাংলাদেশি—কূটনৈতিক অঙ্গনে এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিরল দ্বৈত গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। 

দেশে ও দলে দায়িত্ব বণ্টন

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সরকারি কাজ থমকে থাকবে না—এমন ব্যবস্থাই রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় দায়িত্ব তাঁর অনুপস্থিতিতে পালন করবেন যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

দলীয় পর্যায়ে বিএনপির দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যিনি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ফলে রাষ্ট্র ও দল—দুই ক্ষেত্রেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এই সফরকালে দায়িত্ব সামলাবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও অন্যান্য সম্ভাব্য বৈঠক

এই সফরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন? পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই সম্ভাব্য বৈঠককে সামনে রেখেই সফরসূচি সাজানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্যমতে, ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনাও যুক্ত থাকতে পারে। যদিও চূড়ান্ত নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি, তবে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক তৎপরতা এই সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে জোরালো করে তুলেছে। তাছাড়া ওই সময় বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতির জন্য ট্রাম্প ভীষণ ব্যস্তও থাকবেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের দ্বি পাক্ষিক অনেক দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ইস্যু থাকে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিক্রমা থেকে শুরু অনেক কিছু। ফলে স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের মত একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত দেয়া ট্রাম্পের সে সময় খুঁজে বের করা টাফ। তবুও চলছে চেষ্টা। আর এতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফল হলে সেটা তারেক রহমানের জন্য অনন্য এক অর্জন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

তবে ডোনাল্ট ট্রাম্প ছাড়াও আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসন নিয়ে একটি বিশেষ সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা নয়াদিল্লির সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবে জাতিসংঘের সাইডলাইনে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বৈঠক হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সান ফ্রান্সিসকো পর্ব ও প্রবাসী সংবর্ধনা

নিউইয়র্কের ব্যস্ত কর্মসূচির পর প্রধানমন্ত্রীর গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের সান ফ্রান্সিসকো। সেখানে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নিউইয়র্কেও তাঁর সম্মানে একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপুল অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাজেট-সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অর্থে বড় ধরনের আয়োজনের বিপক্ষে মত দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে—যা তাঁর সরকারের ব্যয়-সংযমী ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা বাতিল করা হয়েছে। যদিও বিএনপির নেতৃবৃন্দ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষণ: অভিজ্ঞ মহলের দৃষ্টিতে

আসন্ন সফর সামনে রেখে বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, এই সফরের গুরুত্ব শুধু প্রোটোকলগত নয়—এটি একটি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নির্মাণের প্রথম বড় সুযোগ। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন-পরবর্তী যেকোনো সরকারের জন্য জাতিসংঘের মূল অধিবেশনে ভাষণ একধরনের ‘স্বীকৃতির মঞ্চ’—যেখানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে নিজের নীতি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ মেলে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির প্রতীক নয়, বরং অভ্যন্তরীণভাবেও সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি বার্তা বহন করবে। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মতে, পারিবারিক ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি—বাবা, মা ও পুত্রের ধারাবাহিকভাবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আখ্যানকে বিশ্ব দরবারে ভিন্নভাবে তুলে ধরবে।

সবশেষ 

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই যুক্তরাষ্ট্র সফর একাধিক স্তরে তাৎপর্যপূর্ণ—ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীকী পরিণতি, একটি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক অভিষেক, একটি পরিবারের ইতিহাসের অস্বাভাবিক পুনরাবৃত্তি, এবং বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘে দ্বৈত গৌরবের একটি মুহূর্ত। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষত ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণের বিষয়বস্তু, নির্ধারণ করে দেবে এই সফর শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে বলেই আশা করছে বাংলাদেশের মানুষ। নিউইয়র্ক সফর শেষে তারেক রহমানের ২৬ সেপ্টেম্বর চলে যাবার কথা রয়েছে। জানা গেছে, তিনি লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারেন।

শেয়ার করুন