০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


বিএনপি ভেতরে এরা আসলে কারা?
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
বিএনপি ভেতরে এরা আসলে কারা? রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দে লুটপাট, ভাঙচুরের পর পাহারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নিউইয়র্ক সফরে তখন মাত্র দু’দিনে নিজ দেশে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে গেছে। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেনো নিজের দেশে ঠিক ও-ই সময়ে ঘটনাগুলি ঘটেছে? কেনো ঘটনাগুলি একিই সাথে ঘটে গেলো? এমনকি নিজ দলের নেতারা সরাসরি মবের মতো ঘটনায় জড়িয়ে গেলো? এর মাধ্যমে কারা কি সুযোগ নিতে চেষ্টা করেছে তা সরকারের শীর্ষ মহলে আলোচিত হচ্ছে। 

দখল ও চাঁদাবাজি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সারা দেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। একটি দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যখন পুরো দেশ এক নতুন বাংলাদেশ দেখার আশায় দিন গুণছে, তখন এমন ঘটনা পুরো দেশকে একটি ঝাকুনি দিয়েছে বলে অনেকের অভিমত। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল শত শত মানুষের সামনে কিভাবে অর্ধশত বছর ধরে গরিব-অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়-তা সবাইকে হতবাক করে দেয়। রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মধ্যরাতে ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে যায়। 

এই ঘটনার রেশ না কাটতে কাটতে ঘটে গেলো আরেক ঘটনা। দেখা গেলো কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন সালমান মুক্তাদির। রাতেই তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল-এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে কাঁদতে-ও দেখা যায়।

প্রশ্ন এতো ঘটনা গত দু’দিনেই কেনো?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক সফরে ছিলেন। সেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন। জানা গেছে, ‘নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এসব ইতিবাচক ঘটনাগুলি কি এখন ধামাচাপা পড়ে গেলো না চাদাবাজি আর দখলদারদের কারণে? এমন প্রশ্ন সর্বত্র। 

পুলিশের ভূমিকা কি?

মাত্র কয়েকদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনো গোপনে ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে এই কারণে কি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে অর্ধশত বছর ধরে গরিব-অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে? পুলিশ কি প্রমাণ করতে চাচ্ছে তারা সরকারি দলের সাথেই আছে, ফ্যাসিবাদের সাথে নয়? ফ্যাসিবাদের দুর্নাম গুছাতে কি তারা সরকারের পক্ষে কাজ করছে বাহবা পেতে? তা না হলে কেনো সেখানে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী টু-শব্দটি করলো না?

পুলিশেরও তো কথা থাকতে পারে?

এদিকে ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মুখ খুলেছেন। তিনি জানালেন রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ৩৫ কাঠা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এর পাশাপাশি তিনি জানালেন যে, মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তদন্তে কি এসেছে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম কে-নো তিনি তার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে পারলেন না? কে বা কারা সে-ই প্রভাবশলী যারা তা-কে আশ্বস্ত বা অভয় দিয়ে ওই সময়ে সঠিক দায়িত্ব পালনে নিষেধ করেছেন? কেনো তদন্তে আসে না পুলিশ প্রশাসন কতটা রাজনৈতিক চাপে পড়ে ওই সময়ে নিস্ক্রিয় ছিলো বা থাকতে হয়েছে? কেনোনা ইতোমধ্যে খবর বেরিয়েছে যে, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্যের মূল হোতাদের বড় অংশ এখনো অধরা থাকার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের ফলাও করে খবর বেরিয়েছে যে, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ ও এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) জোগাড়ের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা এখনও দৃশ্যমান তদন্তের বাইরে। স্থানীয় বিএনপি এবং যুব ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। বলা হচ্ছে তারা সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের অনুসারী। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত হানিফ মিয়াসহ বাকিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

জাসদ কেনো গুরুত্ব পূর্ণ হয়ে উঠলো? 

এদিকে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খোদ রাজধানী যখন উপরের ওইসব ঘটনায় তোলপাড় তখন কারা গেলো জাসদ কার্যালয়ে জয় বাংলা শ্লোগান ঠেকাতে? কারো কারো অভিযোগ সরকারের অনুমতি ছাড়া সেখানে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যালয়ে আলোচনা করতে চাইলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নে-ই বিষয়টি জানানোর পর বিএনপি’র একটি গ্রুপ সেখানে কোনোই বা মব সৃষ্টি করতে গেলো? কিন্তু আইন শৃংখলা বাহিনী রাতের আধারে ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও টু-শব্দটি পর্যন্ত করতে পারেনি। জাসদ অফিস এ তল্লাশি করে জয়বাংলা শ্লোগান ঠেকাতে আসলে বিএনপি বা পুলিশের কারা এতো উৎসাহী হয়ে উঠলো কিশের আশায়? কারো কারো আশঙ্কা, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ কেউ কি নিজেদের বাঁচাতে বা ভালো প্রমোশন ভাঘিয়ে নিতে বিএনপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রমাণ করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে? 

প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপিতে এরা আসলে কারা?

প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের এমন ইতিবাচক মুহূর্তে কেনো দেশের ভেতরে দখল ও চাঁদাবাজরা এভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো? এরা কি ভেবেছে দেশের ভেতরে নির্বাহী প্রধান নেই, তাই এখনই যে যেভাবে পারো লুটে নে-ও? দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীরা যাদের পরিচয় মূলত সন্ত্রাসী তারা আসলে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে কার ক্ষেত্র প্রস্তুত করলো? এটা কি প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের অর্জনকে থামাচাপা দিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দিলো না- এমন প্রশ্ন উঠে আসছে..। পাশাপাশি বিএনপিতে এরা আসলেই কারা? এরা কি আসলে সরকার দলের ভেতরে থাকা অতি উৎসাহী ঘাপটি মেরে থাকা কেউ? তা না হলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরপর কি মাঠের বিরোধী দলকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হলো না? কেননা এধরনের ঘটনার পরপরই-তো বিএনপি একসময়ের মিত্র জামায়াত নেতারা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। এই ঘটনার পর বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, উদ্বেগ জানানো হয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। এসময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, হাসপাতাল গুড়িয়ে দেওয়া, বিভিন্নস্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো খাতই নিরাপদ থাকবে না। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম-ও মুখ খুলেছেন। বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘নব্য জমিদারদের’ উত্থান ঘটেছে। অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে লাগানো ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীরা। এ সময় আরেকটি সাইনবোর্ড কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া এবং একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। আর এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিস্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার। ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া ভাংচুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিদর্শন।’ অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, বিএনপির ওই সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে সেখানে ‘ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও মবতন্ত্র’ কায়েম করা হয়েছে। 

ক্ষতি কার হলো?

এখন সর্বত্রই প্রশ্ন .. এধরনের ঘটনায় আসলে কারা জড়িত? তাদের আস মোটিভ বা কি ছিলো? তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় যে এসব ঘটনার পেছনে বিএনপি ভেতরেই কেউ গুপ্ত হয়ে কাজ করছে? কিন্তু বাস্তবে তো দেখা গেলো রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলার আগে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার কার্যালয়ের সামনেসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে হামলাকারীরা জড়ো হয়। অথচ এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের নাম নেই। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত হানিফ মিয়াসহ বাকিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রশ্ন হচ্ছে যারা নিজেদের সত্যিকারের বিএনপির নেতাকর্মী মনে করে তারা কোনো দলের হাইকমান্ডের অহিংস এবং সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিই অনুসরন করছে না? তারা কি ভিন্ন কারো আদর্শ বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে? বিষয়টি আসলে বিএনপি’র শীর্ষমহলকে কতটা ভাবাচ্ছে তা খুব শিগগির না দেখা গেলে বোঝা যাবে সরকার আসলে কি চায়-এমনটাই মনে করেন অনেকে।

শেয়ার করুন