জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছেন। জাতিসংঘ অধিবেশন থেকেই এমন প্রাণান্ত চেষ্টা চোখে পড়ছে। দেশে ফিরেই যে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোচ্ছেন সেগুলোর মধ্যে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি। এর মধ্যে জাপান ও সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। আর তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন (কপ৩১) এ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, অক্টোবরে জাপান এবং নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক এবং মাসের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর হওয়ার কথা রয়েছে। তিন থেকে চার দিনের সফর আয়োজন নিয়ে দুদেশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এছাড়া সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতি চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। সম্ভাব্য এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সৌদি আরবের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
এমন উদ্যোগ দৃশ্যমান জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ছিল ক্ষমতা গ্রহণের অষ্টম মাসে। এই সফর তারেক রহমান ও তার সরকারের জন্য বহুপাক্ষিক মঞ্চে প্রথম বড় পরীক্ষা। রাজনীতিবিদ তারেক রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য মাত্র আট মাসের সরকারের দায়িত্বে বসে অংশগ্রহণ বিশাল সাফল্য।
সরকারের দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপড়েনের মধ্যে যাচ্ছিল তার সময়। তেল গ্যাসের সংকট, নানা রাজনৈতিক চাপ, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট অর্থপাচার, মেগা উন্নয়নের নামে কোথাও বাজেটের দ্বিগুণ অর্থ খরচ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ আসল পরিশোধের চাপ সব মিলিয়ে কিছুটা বিচলিত অবস্থা। এমন এক অবস্থায় বৈদেশিক বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরবর্তিতে দ্বিপাক্ষিক সফর ও সম্পর্ক গড়ে তোলার যে মঞ্চ ‘জাতিসংঘ অধিবেশন’ এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ছিল খুবই সহায়ক এক পরিবেশ ও সুযোগ। সময় স্বল্পতার মধ্যেও যতটুকু করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র চ্যানেল চমৎকার পারফরমেন্স দেখিয়েছে।
সফরের বড় অর্জন হলো তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, কুয়েত, সৌদি আরব, কুয়েত, আমিরাত, ভুটান, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির সরকার প্রধান প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব, শরণার্থী হাইকমিশনার ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একের পর এক সাইডলাইন বৈঠক। এতে একটি নতুন সরকারের আট মাসের মধ্যে কার্যক্রমের মধ্যে বৈদেশিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সফরের প্রকৃতি
এটি কোনো রাষ্ট্রীয় বা দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। সরকারপ্রধানরা সাধারণ বিতর্কের সময় নিউইয়র্কে জড়ো হন আর সেই ফাঁকে পূর্বনির্ধারিত সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। এ ধরনের বৈঠকে সাধারণত চুক্তি সই হয় না। এর মূল্য হলো ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সফর, বাণিজ্য আলোচনা ও কূটনৈতিক সমর্থনের পথ খোলা। একটি নতুন সরকারের জন্য এটি তুলনামূলক কম খরচে বহু নেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ।
উল্লেখযোগ্য বৈঠকসমূহ-
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান
মার্কিন স্থানীয় সময় গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক হয়। আলোচনায় বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় প্রাধান্য পায় এবং আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় হয়। তুরস্ক প্রতিরক্ষা, নির্মাণ ও তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। তাই এই বৈঠককে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট উঠে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ ‘সফট মিডিয়াম’ হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে এবং জাতীয় স্বার্থ সামনে রেখেই বৈঠক হয়েছে। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী কর্মী নিয়ে ঢাকা গভীর উদ্বিগ্ন। এই বৈঠক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের এটি প্রথম বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের ইতিহাস বিবেচনায় এই বৈঠক দেশে ও অঞ্চলে বাড়তি নজর পাবে।
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ফাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্কে কুয়েতের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রফতানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরের ইউএন বাইল্যাটেরাল বুথ (গ্যাল-৭)-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব একেএম নাজমুল হক একথা জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দুদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে সৌদি আরবের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় হয়।
আরব আমিরাত : উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্কের সংযুক্ত আরব আমিরাত মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, জনশক্তি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা উঠে আসে।
জাতিসংঘ মহাসচিব ও সংস্থাসমূহ:
জাতিসংঘ সদর দফতরের সেক্রেটারিয়েট ভবনের ২৭তম তলায় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক হয়, যেখানে অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি সংকট, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আলোচনায় এসেছে।
অন্যান্য :
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সাইডলাইন বৈঠকের খবর বেড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ৩০ সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন
নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ঢাকা ফেরার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।
যেসব বিষয় এখনো অনির্ধারিত
যুক্তরাষ্ট্র
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে ‘সুবিধাজনক সময়ে’। সফরের সময় এমন কোনো বৈঠকের নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে সফরের আগে চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সবচে ব্যস্ত। বিশেষ করে অধিবেশনটা যখন নিউইয়র্কে হলো। ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশিলিষ্ট বিষয়ের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দিয়েছিলেন। সার্বিক বিবেচনাতে বাংলাদেশ সে বিবেচনায় ঢের পিছিয়ে।
সাইডলাইন বৈঠকের সীমা
এসব বৈঠক সৌজন্য ও সম্ভাবনার সূচনা মাত্র। বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাবে ফলো-আপ পদক্ষেপে, যেমন দ্বিপক্ষীয় সফর ও যৌথ কমিশন বৈঠকে। ফলে স্বল্প সময়ের সরকারের জন্য এই সফর কূটনৈতিক পরিচিতি ও যোগাযোগ স্থাপনের দিক থেকে ইতিবাচক। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোতে এই আলোচনাগুলো কতটা দ্বিপক্ষীয় সফর ও বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয় তার ওপর।
সবশেষ
ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের মার্চে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডন যান তারেক রহমান। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম জাতিসংঘ সফর বিশেষ মাত্রা পেয়েছে এটা আর বলার কি!