১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৭:০৬:৩২ অপরাহ্ন


বাংলাদেশে ৭৫ দিন (দ্বিতীয় পর্ব )
স্মৃতিময় ফরিদপুর
সালেক সুফী,বাংলাদেশ থেকে ফিরে
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-১০-২০২২
স্মৃতিময় ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেছে শিক্ষকবৃন্দের সাথে।


এবারে বাংলাদেশ ভ্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পৈতৃক বাড়িটি পুনঃনির্মাণের জন্য ডেভেলপারের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি। শিউলি অপার বিশেষ প্রচেষ্টায় কাজটি শেষ প্রান্তে এসে, আপার ইন্তেকালে থমকে যায়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে আপা ডিসেম্বর ২০২১ এ ইন্তেকাল করেন। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সবকিছু গুছিয়ে আমি প্রাথমিকভাবে তিন সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ গিয়েছিলাম, ২৩ জুলাই।

সোবিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রায় ৭ দিন কেটে যায়। অবশেষে সবাইকে নিয়ে নবনির্মিত পদ্মা বহুমুখী সেতু দিয়ে ফরিদপুর পৌঁছে শুরুতেই আলীপুর গোরস্থানে দাদি, মা বাবা ভাই ভাবি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বন্ধুদের কবরে সবার আত্মার শান্তি কামনা করি।


ডেভেলপারের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সবার উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। আমাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত মায়ের নামে নাম " ইফ্ফাত মঞ্জিল" ভেঙে ফেলা হবে চিন্তায় সবাই আবেগ আকুল হয়ে পড়ি। বিকেলে রিফাত, সোহানি ,শায়েরকে নিয়ে পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণ করি। প্রথমবারের মতো পদ্মা নদীতে ভেসে ওরা সবাই দারুন উপভোগ করে।  বিকেলে সাকি, ফ্লোরা, তারাক্কী ফিরে যায়। পরদিন আমি , রিফাত সোহানি কিছু কাজের জন্য থেকে যাই। 

পর দিন সকালে রিফাত সোহানি সহ শিউলি অপার হাতে গড়া সারদা সুন্দরী কলেজ পরিদর্শন করি এবং কৃতি ছাত্রীদের বরণ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করি। আপার কলেজ দীর্ঘদিন পরে সময় কাটিয়ে ভালো লাগে। দূপুরের পর আমি আরিচা ফেরি পেরিয়ে ঢাকা ফিরে আসি। 

২০২০,২০২১ করোনা সময়ে মেলবোর্ন অধিকাংশ সময় শট ডাউন ছিল। চলাচল ছিল সীমিত। এই সময় মেলবোর্ন মেয়েকে দেখতে এসে আটকা পরে বুয়েট সহপাঠী আসমা হক আর মোশারফ ভাই। আসমা খ্যাতনামা বুয়েট শিক্ষক ডক্টর আলিমুল্লাহ খানের সুযোগ্য উত্তসূরী। সাফল্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচালনা করছে বাবার হাতে সূচিত প্রকৌশলী সংসদ। মেলবোর্ন থেকেই আমরা পরিকল্পনা করি কিভাবে প্রকৌশলী সংসদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা যায়। আমি বাংলাদেশে অবস্থানকালে প্রকৌশলী সংসদের উর্ধতন উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আসমারা চার বোন আর মোশারফ ভাই পরিচালিত কম্পমাপনীতি সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের পথিকৃৎ বাংলাদেশে।


এছাড়া অন্যান্য বিবিধ কাজ সহ সিডিএম প্রকল্পের আওতায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সমূহের গৃহস্থলি সংযোগের লেকজে মেরামত কাজেও সম্পৃক্ত আছে। আমি ওদের কাজটি গ্যাস সঞ্চালন ব্যাবস্থায় সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। জিটিসিএলের সম্মতি ক্রমে আমরা কিছু পাইপলাইন যৌথ শুভ করে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করি। বিশেষ আমন্ত্রণে আমি জিটিসিএল, তিতাস গ্যাস, বাখরাবাদ গ্যাস এবং পশ্চিমাঞ্চল গ্যাসের কারিগরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোট বিনিময় সভা করি। এছাড়া প্রথম দুই সপ্তাহে আমি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খেলাধুলা এবং জ্বালানি বিদ্যুৎ নিয়ে কয়েকটি টক্ শো করি।


সারদা সুন্দরী কলেজ পরিদর্শন



আমাকে দীর্ঘ দিন থেকে প্রান্তিক শহর সাতক্ষীরায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এবার সুযোগ এছেছিলো প্রখ্যাত ধারভাষ্যকার শামুসল আলম সাতক্ষীরা সফর করার।  সাতক্ষিরা ধারাভাষ্যকার ফোরাম নিয়মিত আমার সাথে নানা বিষয়ে জুম্ প্রোগ্রাম করেছে। অনেকের সাথেই সক্ষ  গড়ে উঠেছে। নিদৃষ্ট দিনে ঢাকা থেকে সড়ক পথে পদ্মা সেতু হয়ে সাতক্ষীরা পৌঁছাই।


এই শহরে ১৯৭১ কিছু মধুর স্মৃতি আছে। তাই বিকেলে ওয়ালিউল মোটর বাইকে চড়ে ভোমরা সীমান্তে পৌঁছে স্মৃতি রোমন্থন করি। পরদিন সকাল থেকে আকাশ জুড়ে ছিল মেঘ। তারই মাঝে সকালে আমাদের সাথখিরা স্টেডিয়ামে সম্বর্ধনা দেয়া হয়। অপরাহ্নে তুমুল বর্ষণ উপেক্ষা করে ফুটবল ম্যাচে ধারাভাষ্য দিতে যাই। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ৩০ হাজার দর্শক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপভোগ করে। রাতে আন্তর্জাতিক রেফারী সাতক্ষীরার গৌরব তৈয়ব হাসান  আমাদের মনোরম পরিবেশে  ডিনারে যাপিত করেন।

পরদিন ছিল সড়ক পথে সুন্দরবন যাত্রা। কিন্তু সব পূর্ব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও প্রবল বর্ষণ আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সূচি বাতিল করে ঢাকা ফিরে আসি। দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করে। শুধু খারাপ লাগে সাথখিরা থেকে উপহার পাওয়া বিশেষ মিষ্টি বাস থেকে হারিয়ে যাওয়ায়।  ফেরিটি পথে গোপালগঞ্জে বাস থেকে নেমেছিলাম চা খেতে। ফিরে দেখেকি খোয়া গেছে মিষ্টির প্যাকেট গুলো। সহযাত্রী কেউ মিষ্টিগুলো নিয়ে সটকে পড়েছে। 

ঢাকা ফিরে আশুলিয়া এলাকায় শীর্ষ স্থানীয় বস্ত্র ব্যাবসায়ী কোম্পানি হামিম গ্রুপের গার্মেন্টস কমপ্লেক্সের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য পরিদর্শন করি. একই সময়ে আশুলিয়া এলাকার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা দেখার জন্য আশুলিয়া সিজিএস পরিদর্শন করি। গ্যাস সংকটের সরূপ আমার কাছে ধরা পরে। অনুভব করতে পারি বিদ্যমান অবস্থায় সংকট ঘনীভূত হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্প সমূহে গ্যাস সংকট। 

অগাস্ট মাসে আমাকে গ্যাস সংকট আর আশু পরিত্রানের উপায় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কী নোট পেপার উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়। আমি সংকটের স্থানীয় এবং বৈশিক কারণ সমূহ উপস্থাপন করে সুনিদৃষ্ট সুপারিশ করি।

বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি আমার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন। পিএসএল এবং জিটিসিএল যৌথভাবে আরো কিছু পাইপলাইন স্থাপনা পরিদর্শন করে। সবাই বুঝতে পারে চলমান অবস্থায় সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রন এবং সিস্টেম লিকেজ শুন্য করা সর্বোত্তম উপায় হবে গ্যাস সংকট সামাল দেয়ার। (চলবে)


শেয়ার করুন