১০ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১০:১৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


রেকর্ড ব্যাংকঋণ সরকারের
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৭-২০২৩
রেকর্ড ব্যাংকঋণ সরকারের


উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, সঞ্চয়পত্র বিক্রি কম— এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক থেকে বাড়তি ঋণ নিয়ে গত অর্থবছরে বাজেটের ব্যয় মেটাতে হয়েছে সরকারকে। সদ্য সমাপ্ত এ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সর্বমোট ১ লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, যা একক অর্থবছরের বিবেচনায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকারের সর্বোচ্চ ঋণ। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে সরকারের খরচ বেড়েছে, বিপরীতে রাজস্ব আদায় আশানুরূপ হচ্ছে না। অন্যদিকে, নানা শর্তের কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে বেশি। এ দুই কারণে বাড়তি ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ কর্মদিবস ২৬ জুন পর্যন্ত এক লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এ অঙ্ক বাজেটের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আট হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা বেশি। এদিকে অর্থবছর শেষে সরকারের বর্তমান ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। কিন্তু সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কমে যাওয়া এবং রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রায়ও থিতু হয়ে থাকতে পারেনি সরকার। বাড়তি ব্যয় মেটাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২৬ জুন পর্যন্ত সরকারের ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৯৮ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়েছে ২৫ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সরকারকে ঋণ সরবরাহ করা মানে টাকা ছাপিয়ে অর্থ দেওয়া।

সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করে ৯১ দিন থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে ঋণ নেয়। সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২৬ জুন পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকখাত থেকে ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। সরকারের কাছে টাকা নেই; সরকার দেউলিয়া। ব্যয় মেটাতে টাকশাল থেকে টাকা ছাপিয়ে খরচ করছে তারা।

তিনি বলেন, সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে, প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। গত ৫০ বছরেও এতো বেশি ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়নি সরকার। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এটাই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে, এখন তাই দেখা যাচ্ছে। দৃশ্যমান মূল্যস্ফীতি চলছে। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

করণীয় কী- জানতে চাইলে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রথম কাজ টাকা ছাপানো কমাতে হবে। এরপর রাজস্ব বাড়াতে হবে অথবা ব্যয় কমাতে হবে। দুটির মধ্যে একটা করতে হবে। তা না হলে খরচের অর্থ জোগানে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিতে হবে।

শেয়ার করুন