২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :


ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা ভাঙচুরের পর ওহাইওর সিনসিনাটির ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার


ওহাইওর সিনসিনাটিতে গত ৩ আগস্ট ভোরে ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তার কাটার দিয়ে প্রবেশপথের তার কেটে জানালা ভেঙে হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে তছনছ চালায় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির বোর্ড সদস্য নাশিদ শাকির। গত সাত বছরের মধ্যে এটি কেন্দ্রটিতে তৃতীয়বারের মতো হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা।

হামলাকারীরা সেন্টারের অফিসেও ঢুকে ব্যাপক তছনছ চালায়। একটি নজরদারি ক্যামেরা ও টেলিভিশন মনিটরসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস চুরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। দেয়ালে থাকা কোরআনের আরবি আয়াতসংবলিত দুটি পোস্টারও ভাঙচুর করা হয়। একটি হোয়াইটবোর্ডে মরে যাওসহ বিভিন্ন অশ্লীল ও আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়।

ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে একটি মসজিদ ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। সিনসিনাটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ এলাকায় অবস্থিত এ কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রের নেতারা ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা ঘটনাটিকে ইসলামবিদ্বেষী হামলা বা হেট ক্রাইম হিসেবে দেখছেন।

সাত বছরের মধ্যে এটি কেন্দ্রটিতে তৃতীয়বারের মতো অনুপ্রবেশের ঘটনা। এর আগের একটি হামলায় কেন্দ্রের দেয়ালে বর্ণবাদী মন্তব্য লিখে ভাঙচুর করা হয়েছিল। শাকির বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রিপোর্ট তৈরি করলেও এরপর আর কোনো কার্যকর অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি। এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও মুসলিম-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং বিভিন্ন মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের নির্বাহী পরিচালক রাকিব নায়েকের মতে, মুসলিমদের নিয়ে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করার একটি সংগঠিত প্রচারণা চলছে। তার দাবি, একসময় যা মূলত প্রান্তিক ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

ওহাইওতে বিশেষ করে সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ও সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মুখে পড়েছে। গত শীতে কলম্বাসে সোমালি-আমেরিকানদের পরিচালিত শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইসিই অভিযান ও ডানপন্থী প্রচারণা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়নি বলে মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন। সিএআইআর-ওহাইওর কমিউনিটি অর্গানাইজার ও সিনসিনাটির বাসিন্দা তালা আলী বলেন, ঘটনাটিকে হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্তের জন্য তিনি এফবিআইয়ের কাছে যেতে আগ্রহী নন, কারণ কর্তৃপক্ষের ওপর তার আস্থা কমে গেছে। সিনসিনাটির মুসলিম সম্প্রদায়ের আগেও মসজিদে হামলার শিকার হয়েছে। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ক্লিফটন মসজিদের বাইরে দুটি পাইপ বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে মসজিদের দরজা ও জানালার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। ওই ঘটনার জন্য এখন পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় উদ্যোগ নিচ্ছে। সাধারণত প্রতি শুক্রবার প্রায় ২৫ জন সেখানে নামাজ আদায় করেন। হামলার সময় কেন্দ্রটিতে কোনো নিরাপত্তা ক্যামেরা ছিল না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কমিউনিটি নেতারা মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি বা ফেমার অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অনুদানের আবেদন করার বিষয়েও আলোচনা করছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে।

শাকির বলেন, হামলার পর বৃহত্তর সিনসিনাটি সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাকে আশাবাদী করেছে। তবে হোয়াইট হাউস থেকে আসা মুসলিমবিরোধী বক্তব্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানান। স্থানীয় মুসলিম নেতারা এখন হামলার নিন্দা, তদন্ত এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আরো কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন।

শেয়ার করুন