১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৬:০৬:০২ অপরাহ্ন


মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতারা
বেবী নাজনীনের অনবদ্য পরিবেশনা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-১১-২০২৩
বেবী নাজনীনের অনবদ্য পরিবেশনা সংগীত পরিবেশনে বেবী নাজনীন


বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’খ্যাত বেবী নাজনীন। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার জাদুকরি কণ্ঠেরগান এখনো অনেকের স্মৃতিতে অম্লান। হৃদয়ে অটুট। এক সময় ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এখনো তিনি সেই আসনটি দখল করে রেখেছেন। এই জনপ্রিয় শিল্পীর সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল জামালপুরবাসী। অনুষ্ঠানটি গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় জ্যামাইকার মেরিলুইস একাডেমির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কনভেনর এবং কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ বেলাল আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট এবং আজকাল পত্রিকার সম্পাদক শাহ নেওয়াজ। বিশিষ্ট উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইলের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রব চৌধুরী, জামালপুর সমিতি নর্থ আমেরিকার প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাজমুল হক, বদরুদ্দৌজা সাগর, অনুষ্ঠানের কো-কনভেনর আবু বক্কর সিদ্দিক, ফোবানার স্ট্রিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, খান’স টিউটোরিয়ালের নাঈমা খান, বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেটের আহসান হাবিব, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট সৈয়দ রাব্বী, ডিউক খান, অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম এবং চিফ কো-অডিনেটর মুক্তার হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি শাহ নেওয়াজ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি সুন্দর অনুষ্ঠান। সব সুন্দর কাজের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তিনি ফোবানার স্ট্রিয়ারিং কমিটির কোষাধ্যক্ষ ফিরোজ আহমেদ সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। আরো অভিনন্দন জানান মোহাম্মদ হোসেন খান ও কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম।

সারা দিন বৃষ্টি এবং কনকনে ঠান্ডার কারণে সন্ধ্যায় ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রায় রাত ৯টায়। শুরুতে দর্শকদের খরা থাকলেও শেষ রাতে দর্শক বাড়তে থাকে।

শিল্পী বেবী নাজনীনের একক সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন খুব একটা দেখা না গেলেও বেলাল আহমেদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শিল্পী বেবী নাজনীন এই আয়োজনে প্রাণ খুলে সংগীত পরিবেশন করেন। দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু করলেও তিনি নিজের জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি অন্য শিল্পীদের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। সঙ্গে গেয়েছেন গজল এবং হিন্দি গানও। শীতের মধ্যেও শিল্পীর গানে উষ্ণতা ফিরে আসে। যারাই অনুষ্ঠানে গিয়েছেন তারাও প্রাণভরে উপভোগ করেছেন। শিল্পী নিজেও হৃদয় উজার করে সংগীত পরিবেশন করেছেন। অনেকটা পিনপতন নীরবতায় একের পর একক সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। সুরের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যান। শিল্পী বেবী নাজনীনের একক পরিবেশনা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। রাত যতো বাড়তে থাকে সুরের মূর্ছনা তত বাড়তে থাকে। অন্যদিকে দর্শকদের অনুরোধের ডালিরও ব্যাপ্তি বাড়ে। এক সময় শিল্পী মঞ্চে ডেকে নেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ইবরাব টিপু। জানালের তার সঙ্গে শিল্পী বেবী নাজনীনের সম্পর্কের কথা। বললেন, আমার দেশের বাড়ি সৈয়দপুরে। শ্রদ্ধেয় বেবি আপার বাড়িত আমাদের এলাকায়। তার সঙ্গে ঢাকায় এসে দেখা করি এবং প্রথম দিনেই তিনি আমাকে আপন করে নেন। বললেন, তার সঙ্গে বাজাতে। আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। সেই দিন থেকেই তাকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি। তার সঙ্গে সংগীত পরিবেশনা আমার কাছে গর্বের। শেষ পর্বে একসঙ্গে কয়েকটি গান পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী রানো নেওয়াজ, মোস্তাফা অনিক রাজ। এক সময় ভাঙলো অপূর্ব এই সংগীতসন্ধ্যা।

শেয়ার করুন