বেবি নাজনীন
মাত্র তেরো বছরের একটি মেয়ের কণ্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিজের মেয়ে বলে সম্বোধন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই কিশোরী শিল্পীই আজ ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। সহজাত প্রতিভা থাকলেও তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন জিয়াউর রহমানের স্নেহ, উৎসাহ ও অভিভাবকত্ব। জীবদ্দশায় তিনি বেবী নাজনীনকে নিজের সন্তানের মতোই আগলে রেখেছিলেন। সেই আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই পরবর্তীতে বেবী নাজনীন যুক্ত হন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে এবং কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোকের এই সময়ে তার স্মৃতি, অবদান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী ও রাজনীতিবিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন: খুব অল্প বয়সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্নেহ ও স্বীকৃতি পেয়েছিলেন আপনি। সেই সময়ের স্মৃতিগুলো আজ কীভাবে ফিরে আসে?
বেবী নাজনীন: এই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। মাত্র তেরো বছর বয়সে একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছ থেকে যে স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি আমাকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবে নয়, নিজের সন্তানের মতো করে দেখেছেন। আমার পড়াশোনা, গান, ভবিষ্যৎ সবকিছুর প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই ভালোবাসাই আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে এবং জীবনে সৎ পথে চলার প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমানের সেই আদর্শ ও স্নেহ কি আপনাকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে?
বেবী নাজনীন: নিশ্চয়ই দিয়েছে। তার দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি শিখিয়েছিলেন দেশের জন্য কিছু করতে হলে সাহস আর সততা সবচেয়ে জরুরি। আমি মনে করি, বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া আমার জন্য দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এসেছে। এটা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জীবনের পথচলার স্বাভাবিক পরিণতি।
প্রশ্ন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আপনার অনুভূতি কী?
বেবী নাজনীন: আজ আমি গভীরভাবে শোকাহত ও বাকরুদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক দৃঢ় প্রতীক। তার শূণ্যতা শুধু বিএনপিই নয়, পুরো দেশ দীর্ঘদিন অনুভব করবে। তার মৃত্যুতে সারাদেশে যে শোকের আবহ, তা প্রমাণ করে মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবাসত।
প্রশ্ন: একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
বেবী নাজনীন: তিনি ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশ ও মানুষের জন্য তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে যে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, যে অবিচার সহ্য করতে হয়েছে, তা ইতিহাস মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ অবশ্যই এসব অন্যায়ের বিচার করবেন।
প্রশ্ন: ব্যক্তিগতভাবে তাকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
বেবী নাজনীন: তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা হলেও ভীষণ মানবিক। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার মমত্ববোধ ছিল গভীর। কঠিন সময়েও তিনি মনোবল হারাতেন না। একজন অভিভাবকের মতো তিনি আমাদের সাহস দিতেন, দিকনির্দেশনা দিতেন। এই গুণগুলোই তাঁকে একজন সত্যিকারের নেত্রীতে পরিণত করেছে।
প্রশ্ন: বেগম খালেদা জিয়ার এই অন্তিম যাত্রাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বেবী নাজনীন: তিনি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই বিদায় নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের মানুষের জন্য রেখে গেছেন আশীর্বাদ, যা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণতান্ত্রিক শক্তি হয়ে কাজ করবে। তাঁর আদর্শ কখনো হারিয়ে যাবে না।
প্রশ্ন: বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
বেবী নাজনীন: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আদর্শকে ধারণ করেই একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাবেন। মানুষের মধ্যে যে শক্তি ও আশা বেগম খালেদা জিয়া রেখে গেছেন, সেটাই হবে আগামীর পথচলার ভিত্তি।
প্রশ্ন: শেষ কথা হিসেবে দেশের মানুষের উদ্দেশে কী বলতে চান?
বেবী নাজনীন: মহান আল্লাহ যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেস্ত নসিব করেন এবং জিয়া পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করেন। আমরা সবাই তার ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম হৃদয়ে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।