২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৮:০৫:২৮ অপরাহ্ন


সতর্ক থাকুন
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৭-২০২৪
সতর্ক থাকুন


বাংলাদেশ সরকারকে বলছি , সতর্ক থাকুন। কোটা বিরোধী আন্দোলন যেন সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ না নিয়ে ফেলে। দেশে যখন চলছে নানা সংকট ,যখন শুরু হয়েছে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান, যখন নানা সংকটে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ তখন শিক্ষাঙ্গন জুড়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নিতে পারে সরকার বিরোধী মহল। দুর্নীতিবাজ চক্র জোগাতে পারে রসদ। সরকারের উচিত হবে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়া।


অনেকে বলছেন আন্দোলনের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আরো কিছু মৌলিক সমস্যা থেকে ভিন্নমুখী করা। আমি সেই সম্ভাবনাকেও বাতিল করছি না। কোটা বিরোধী আন্দোলন যৌক্তিক বা অযৌক্তিক সেই আলোচনায় যাবো না। তবে আন্দোলনের ব্যাপ্তি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে অরাজকতার সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রবিরোধী ,সমাজবিরোধী শক্তি সুযোগ পাবে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার। দুর্নীতিবাজ চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে।


মুক্তিযোদ্ধারা কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে।  জাতির সূর্য সন্তানদের জাতি প্রকৃত মর্যাদা দিতে কতটুকু সফল হয়েছে, ১৯৭৫ অগাস্ট , নভেম্বর সেটি প্রমান করে। ১৯৭৫-৯৬ উল্টো রথে চলেছে দেশ। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ , অর্জন বিসর্জন দেয়া হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গোষ্ঠী রাস্তায় সুযোগ সুবিধা লাভ করেছে। আজ পর্যন্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের প্রকৃত তালিকা তৈরী হয় নি। এমতাবস্তায় চাকুরীতে  মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ আমি দেখি না। মেধার ভিত্তিতে চাকুরীতে নিয়োগ এখন যুক্তিযুক্ত দাবি। তবে ক্ষুদ্র প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক পর্যায়ে কোটা সংরক্ষণ করা যেতে পারে।


দেশে এখন শিক্ষিত বেকার সমস্যা প্রচুর। সবাই নিজ উদ্যোগে সৃজনশীল কাজ করতে পারে না। রাজনৈতিক প্রভাবে মেধাবীদের বাদ রেখে সুবিধাবাদীদের চাকুরীতে নিয়োগ দেয়ায় সর্বত্র অদক্ষতা দুর্নীতি ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে চাকুরীর বিধিমালা সংস্কার করা প্রয়োজন। আমি সুপারিশ করবো আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সরকারি উদ্যোগে আলোচনার মাদ্ধমে সংকটের সমাধা করা। নাহলে কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।

শেয়ার করুন