২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:০৮:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


বিএনপির নবীন-প্রবীণের মন্ত্রিসভা সময়োপযোগী
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
বিএনপির নবীন-প্রবীণের মন্ত্রিসভা সময়োপযোগী মন্ত্রিসভার শপথ


নবীন প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে চতুর্থ বারের মত বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে শপথ গ্রহণ করলো নতুন সরকার। সংবিধান সংস্কার কমিশনের মত অসংবিধানিক বিষয়ে শপথ নিতে অস্বীকার করে বিএনপি জোট সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সাথে গণভোটকে জড়িয়ে ফেলার যুক্তি আছে বলে মনে করি না। আর সংবিধান পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কোন আইনগত অধিকার বর্তমান বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে শপথ নেয়া অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের নেই। সঠিকভাবেই গণভোটের বিরুদ্ধে দেরিতে হলেও আদালতে রিট হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি জোট দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখন সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে তখাকখিত জুলাই সনদের কতটুকু বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইস্তেহারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সার্বভৌম সাংসদের অনুমোদন ছাড়া সংবিধান সংশোধন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আশা করি সংবিধান সুরক্ষার পবিত্র শপথ নিয়ে কোন সাংসদ যেন সংবিধান বিরোধী কোন কার্যকলাপ না করে। 

জানি নির্বাচনের শুদ্ধতা নিয়ে অনেক যৌক্তিক কথা হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে এখন সেটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার। কিছু ব্যাক্তিকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জিতিয়ে আনা হয়েছে মেটিকুলাস ডিজাইনে। কোরবানি দেয়া হয়েছে নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের। যত সময় যাবে এটি প্রমাণিত হবে।

এখন আসি নবগঠিত মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর কমান্ডার বিএনপির স্রষ্টা শহীদ প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়া এবং তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের পুত্র বিএনপি চেয়্যারম্যান তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছে। দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকা তারেক জিয়াকে কথায় আচরণে এখন অনেক প্রাজ্ঞ এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মনে হচ্ছে। তার ক্যাবিনেটে একদিকে আছে প্রমাণিত অভিজ্ঞ প্রবীণ ব্যাক্তিত্ব, আছে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। এখন দেখতে হবে অর্থনীতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূ-রাজনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কতটা সফল হয় নতুন সরকার।

স্থানীয় সরকার আর পল্লী উন্নয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। পরিকল্পনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পূর্ববর্তী বিএনপি -জামাত জোট সরকার আমলে খসরু ছিল অন্যতম সফল মন্ত্রী। দেশের অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় খসরু যোগ্য বলেই আমি মনে করি। গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে দীর্ঘ দিন ভারতে থাকা সালাহউদ্দিন আহমেদকে। বিচক্ষণ এই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দ্রুত দেশে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার উপর নির্ভর করবে সরকারের স্থায়িত্ব। গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম সহকারী ডক্টর খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র -ভারত সরকারকে সন্তুষ্ট করতেই এটি করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর ইকবাল হাসান টুকুকে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্তণালয়ের দায়িত্ব দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। একই ভাবে বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসা আব্দুল আউয়াল মিন্টু সঠিক নির্বাচন। আমি মনে করি বীর মুক্তিযোদ্ধা তুখোড় ফটবল খেলোয়াড় মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসা সঠিক সিদ্ধান্ত। হাফিজ ভাইয়ের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য অবস্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে আশা করি। পূর্ত, সড়ক, সেতু, রেল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সমূহে দায়িত্বে আসা মন্ত্রীদের বিষয়ে খুব একটা জানা নেই বিধায় আলোচনা করলাম না। আশা করি অনেক বিচার বিবেচনা করেই তাদের মনোনীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্ষীয়ান নেতা খন্দকার মোশাররাফ হোসেনকে হয়ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হবে। শুনছি নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হচ্ছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসা প্রাক্তন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক সফল হবে আশা রাখি।

ভালো হয়েছে একঝাঁক তরুণ নেতৃত্বকে প্রতি মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেয়া। দেশ পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য। নতুন সরকারের প্রাধিকার ভিত্তিক চ্যালেঞ্জগুলো হলো দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। কথায় কথায় যেন সড়ক অবরোধ করে জন জীবন অতিষ্ঠ করা আদৌ বরদাস্ত করা না হয়, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেন থাকে জিরো টলারেন্স। আশা করি নাজুক অর্থনীতিকে মজবুত করার সঠিক পথে এগুবে সরকার। দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট চূর্ণ করতে হবে। জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট সহনীয় করতে কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত শুরুতেই নিতে হবে। নিজেদের জ্বালানি সম্পদ সর্বোত্তম উপায়ে অনুসন্ধান আর ব্যবহার করতে হবে। শিল্পগুলো বিশেষত রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমি শিক্ষাব্যবস্থা এহসানুল হক মিলনের হাত ধরে দ্রুত সংস্কার হবে আশা করি।

ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র সহ সকল আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। কেন খলিলুর রহমানকে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলো তার হয়ত যৌক্তিক কারণ আছে। আমি আশা করি সরকার আমলাতন্ত্রকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে, নির্মোহ ভাবে কাজ করে মেধা ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। আশা করি শক্তিশালী বিরোধী দল সংসদে এবং বাইরে দায়িত্বপূর্ণ অবদান রেখে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

শেয়ার করুন