বিএনপির বিজয় উল্লাস
বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরেছেন। অধিকাংশ কেন্দ্রেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। তবে কোথাও বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। বলা চলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। তাদের তৎপরতার কারণেই অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের ন্যায় প্রবাসেও ছিল দারুণ উৎকণ্ঠা। কারা ক্ষমতায় আসছে তা নিয়ে ছিল নানা জল্পনা কল্পনা। তবে এই জল্পনা কল্পনা এবং উৎকন্ঠার কারণ ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমকে সবাই ব্যবহার করেছে। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল জামায়াতে ইসলামী। তাদের নানা প্রপাকান্ডার কারণেই মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সেই বিভ্রান্তিও অবসান হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনপি জোট বিশাল বিজয় পাওয়ার আনন্দে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিজয় উল্লাস করেছে, বিজয় র্যালি বের করেছে। তারা সবাই জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে একত্রে বসে ফলাফল দেখেছেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। প্রচণ্ড ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে তারা সবাই নবান্ন পার্টি হলে একত্রিত হন এবং আনন্দ-উৎসব করেন। এ প্রবাসে গত প্রায় ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা বলতে গেলে আন্দোলন বা সংগ্রাম করেছেন। এ আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে দেশে থাকা নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলেছেন, অনেকের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সব নির্যাতিত নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে উল্লাস প্রকাশ করতে।
এ সময় বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপির অবিস্মরণীয় বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরির স্বাক্ষর রাখলেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন এ সময় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাড় কাঁপানো শীত সত্বেও বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি তথা সামনের দিনগুলোতে বিএনপির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার সংকল্প গ্রহণের এ বিজয়-র্যালি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র্র বিএনপির মহিলা সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা শিরিন বিজয়ী সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তাৎক্ষণিক এ বিজয় র্যালি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নবান্ন পার্টি হলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিজয়-র্যালিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন কাজী শাখওয়াত হোসেন আজম, হুমায়ূন কবীর, দেওয়ান কাউসার, রিয়াজ মাহমুদ, এবাদ চৌধুরী, সরোয়ার খান বাবু, বিলাল চৌধুরী, মাহমুদ হাসান, গোলাম এন হায়দার মুকুট, জিয়াউর রহমান মিলন, শাহজাহান সিরাজ, আতিকুল হক আহাদ, মাজহারুল ইসলাম জনি, শওকত আলী, নূরে আলম, ফয়সাল আহমেদ, আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ সাকিল প্রমুখ।
এছাড়াও জ্যামাইকা, ব্রুকলিনসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন।