২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:৩৯:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


দেশকে মেহজাবীন
১৪ বোতল মদ পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
১৪ বোতল মদ পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা মেহজাবীন চৌধুরী


বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন-সম্প্রতি এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে মুখ খুলেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের আগস্টে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ তাকে আটক করা হয়েছিল বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির

প্রশ্ন: সম্প্রতি আপনাকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মেহজাবীন: সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সেটি আমি অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি। একজন শিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আমি কাজ করছি, দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। হঠাৎ করে একটি পুরোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে আমাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো খবরগুলোতে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন ঘটনাটি সত্য এবং প্রমাণিত, অথচ বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি মনে করি, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলেই আমি এই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছি।

প্রশ্ন: সংবাদে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আপনার লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গিয়েছিল। এ বিষয়ে আপনার স্পষ্ট বক্তব্য কী?

মেহজাবীন: আমি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি, আমার কোনো লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগ আটকানো হয়নি এবং আমার কাছ থেকে কোনো অবৈধ কিছু উদ্ধার করা হয়নি। ১৪ বোতল মদ পাওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমি এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি, যেখানে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা কোনো ধরনের আইনগত জটিলতায় পড়তে হয়েছে। যদি এমন কিছু ঘটত, তাহলে নিশ্চয়ই তার কোনো নথি, ছবি, ভিডিও বা সরকারি রেকর্ড থাকত। অথচ এ ধরনের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। শুধু একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে বারবার সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রশ্ন: এ ঘটনায় আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না এ নিয়েও নানা আলোচনা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন?

মেহজাবীন: না, আমাকে কোনো কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। আমি বিমানবন্দরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই যাতায়াত করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা কিছু অনলাইন পোর্টালে যেভাবে বলা হয়েছে যে আমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ অসত্য। আমি বরং প্রশ্ন রাখতে চাই যদি সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটত, তাহলে তার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ কোথায়? বর্তমান সময়ে একটি ছোট ঘটনারও ছবি বা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এত বড় একটি ঘটনার কোনো প্রমাণ না থাকা নিজেই প্রমাণ করে অভিযোগটি কতটা অসার।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, আপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। কেন এমনটা মনে হয়েছে?

মেহজাবীন: আমি লক্ষ্য করছি, সময়-সময় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন রকম বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়। একটি পুরোনো, ভিত্তিহীন অভিযোগ হঠাৎ করে সামনে এনে সেটিকে ‘ব্রেকিং’ আকারে উপস্থাপন করা-এটি স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। বিশেষ করে যখন কোনো প্রমাণ ছাড়া কেবল ক্লিকবেইটের উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন করা হয় এবং আমার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দেওয়া হয়, তখন বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে সমালোচনা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে মানহানি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন: আপনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

মেহজাবীন: হ্যাঁ, আমি ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি কোনো ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অমূলক। তাই আইনগতভাবেই এর প্রতিকার চাওয়া উচিত বলে মনে করেছি। বিস্তারিত বিষয় আমার আইনজীবীর মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি চাই, সত্য সামনে আসুক এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন প্রমাণ ছাড়া এমন মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করতে সাহস না পায়।

প্রশ্ন: এ ধরনের ঘটনার প্রভাব আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কতটা পড়েছে?

মেহজাবীন: মানহানিকর সংবাদ মানসিকভাবে ভীষণ চাপ তৈরি করে। পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকেও প্রশ্ন আসে। একজন শিল্পী হিসেবে আমার কাজই আমার পরিচয়। সেখানে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমার পেশাগত ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবুও আমি কৃতজ্ঞ, কারণ আমার দর্শক ও ভক্তরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি সব সময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি এবং বিশ্বাস করি সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবেই।

প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর আপনি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

মেহজাবীন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাতেও সেটিই হয়েছে। কেউ কেউ না জেনে, না বুঝেই মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি লক্ষ্য করেছি, বেশিরভাগ মানুষই প্রমাণের বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, যা আমাকে আশ্বস্ত করেছে। তবে মিথ্যা তথ্য খুব দ্রুত মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করে—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক। একজন শিল্পী হিসেবে আমি সব সময় চাই, দর্শকের সঙ্গে আমার সম্পর্কটি হোক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি মনে করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ সবারই করা উচিত।

প্রশ্ন: গণমাধ্যমের প্রতি আপনার কোনো বার্তা আছে কি?

মেহজাবীন: অবশ্যই আছে। আমি মনে করি, সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। একটি শিরোনাম বা একটি ভাইরাল পোস্ট কোনো মানুষের সুনাম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশাএখানে সত্যতা যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করা উচিত। যদি কোনো অভিযোগ থেকেই থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে, যাতে কাউকে অযথা মানহানির শিকার হতে না হয়।

শেয়ার করুন