১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৩:১৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


চীন হতে পারে স্মার্ট এনার্জি ট্রানজিশনে বাংলাদেশের সেরা অংশীদার
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
চীন হতে পারে স্মার্ট এনার্জি ট্রানজিশনে বাংলাদেশের সেরা অংশীদার চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহনে বিপ্লব সৃষ্টিতে চীন হতে পারে বাংলাদেশের সেরা সহযোগী-অংশীদার। গত একদশকে চীনের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পটভূমিতে রয়েছে চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপক প্রসার আর আধুনিকায়ন। শুনছি, নতুন সরকার বাংলাদেশের স্মার্ট এনার্জি ট্রানজিশন বিষয়ে চীনের সক্রিয় সহযোগিতায় আগ্রহী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এ বিষয়ে আলোচনা এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং দেশব্যাপী চার্জিং সোলারভিত্তিক স্টেশন স্থাপনেও চীনের অভিজ্ঞতা এবং সহায়তা দারুণ কাজে লাগবে। আমি অস্ট্রেলিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানিবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে শীর্ষস্থানীয় চীন কোম্পানির প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। চীন সফর করে নিজে তাদের উন্নত প্রযুক্তি এবং পেশাদারিত্ব দেখে নিশ্চিত হয়েছি চীনের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক যোগাযোগের মাধ্যমে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে জ্বালানি-বিদ্যুৎ ল্যান্ডস্কেপ ব্যাপকভাবে পরিবর্তন সম্ভব। সরকারকে পরামর্শ দেবো শীর্ষস্থানীয় সোলার উপকরণ (প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে স্পেশাল ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের। বিভিন্ন প্রণোদনার বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হলে চীনা কোম্পানিগুলো আগ্রহী হবে যার আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন হুজুগে সুবিধাগুলোর যথেচ্ছা অপব্যবহার করে পরিকল্পনা যেন ভেস্তে না যায়।

এদিকে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবদান বৃদ্ধির উদ্দেশে বেশকিছু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারকেও এনার্জি ট্রানজিশনে আন্তরিক মনে হচ্ছে। সরকার ২০৩০ নাগাদ উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার ব্যাপকভাবে রুফ সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলছে। বাংলাদেশে অনেকের মধ্যেই সোলার বিদ্যুৎ নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখছি। স্মরণে রাখতে হবে সোলার বিদ্যুৎকে অস্থিতিশীল, নবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়।

ফ্রিকোয়েন্সি ওঠানামা করে। তাই স্টেবিলাইজার এবং স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ না থাকলে গ্রিডে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারে কারিগরি জটিলতা আছে। তবে ডিস্ট্রিবিউটেড জেনারেশন হিসেবে লোড সেন্টারের কাছাকাছি রুফ টপ সোলার ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। বিমানবন্দর, মেট্রোস্টেশন, সরকারি অফিস-আদালত, শিল্পকারখাখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ছাদে মানসম্পন্ন সোলার রুফ টপ প্ল্যান্ট পরিকল্পিত উপায়ে স্থাপন করা হলে ২০৩০ নাগাদ ৪০০০-৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একই সঙ্গে উপযুক্ত স্থানে ২৫-৩০টি প্রতিটি ১০০-২০০ মেগাওয়াট গ্রিড কানেকটেড সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করে আরো ৪০০০-৫০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু সর্বাগ্রে প্রয়োজন একটি দক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান। 

স্রেডা এবং অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একক ক্রেতা মডেলের পাশাপাশি উৎপাদনকারীকে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ দিতে হবে। স্রেডাকে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা উপকরণসমূহের উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে। সরকার আমদানি শুল্ক রেয়াত দেওয়ায় উৎপাদন খরচ কমবে। তবে সরকার যথাযথ প্রণোদনা দিলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে সোলার উপকরণ স্থাপনের জন্য প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহী হবে।

বাংলাদেশে যখন যে বিষয়ে সুযোগ আসে হুজুগে বাংলাদেশিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে কিন্তু কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। সরকার সতর্ক না হলে বা সরকারি সংস্থাগুলোকে পেশাদারি দক্ষতায় উন্নত না করা হলে সিন্ডিকেট কিন্তু সরকারের উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেবে। মনে রাখতে হবে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রিতভাবে সংযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বে কিন্তু নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যাপক আধুনিকায়ন হয়েছে।

শেয়ার করুন