১১ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ০২:১৮:৪১ অপরাহ্ন


ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা ভুল বার্তা দিচ্ছে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা ভুল বার্তা দিচ্ছে কারওয়ানবাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করা হয়


চাঁদাবাজির মহামারিতে দেশ- এমন খবরে সারাদেশের পত্রপত্রিকায় বলা চলে প্রতিদিনই আসছে। আর চাঁদাবাজের কবলে পড়ে প্রতিকার পেতে ব্যাবসায়ি, বাড়ির মালিক, পাড়া মহল্লায় একধরনের নিরব প্রতিবাদ চলছে। কেননা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে টু-শব্দটি হচ্ছে না বলা চলে। আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিতদের করুন আবদারও কারো কাছে পৌঁছাচ্ছিলো না। আর তাই শুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়ে এভাবেই প্রাণনাশের হুমকির খবর। কিংবা চাহিদামতো চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা হতাহতের খবর। রাজধানীসহ সারা দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই রকম ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক এক পরিচালক একটি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন তাঁর কারখানা চট্টগ্রাম ইপিজেডে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর কাছে চাওয়া হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। আর একারণে চাঁদাবাজদের মোকাবিলায় কথায় কথায় জনগণ এখন সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ভরসা পাচ্ছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে অতর্কিত হামলা, প্রতিবাদে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভের খবরেও দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছে। পত্রপত্রিকার খবরে দেখা গেছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে ‘বহিরাগত ব্যক্তিরা’ অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পত্রিকার খবরে বলা হয় তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমানের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আবদুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। এর প্রতিবাদেই এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা হয়। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন। পরে ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন। খবরে জানানো হয় যে, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কিচেন মার্কেটের সামনে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী মানববন্ধনে অংশ নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করে একদল লোক এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। বেলা একটার দিকে কিচেন মার্কেটের সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী অবস্থান করছিল। কারওয়ান বাজারের ইসলামিয়া শান্তি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কারওয়ান বাজার সুপারমার্কেট, কিচেন মার্কেট, ১ ও ২ নম্বর সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ীরা আবদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ্য হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন দোকানভিত্তিক মাসিক ও দৈনিক হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বরফ বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল তিনটি মামলা করা হয়েছে।

ওদের টনক এখনো নড়ছে না..

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে পৌঁছেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ দলীয় সমর্থক তাঁকে এক বর্ণাঢ্য ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। তার আগমনকে তারেক রহমানের কট্টর সমালোচকরাও পজিটিভভাবে নিয়েছেন। অন্যদিকে বলা যায় এখন তিনি লন্ডনে নয় বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন। ফলে তা-র চোখে পড়বে না এখন সে-টি ভাবার কিছই নেই। ঠিক সেসময় রাজধানীর কাওরান বাজারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে পালটাপালটি হামলা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দেবে বলেই মনে করেন অনেকে। এমনিতেই দেখা গেছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৫০ জন। শুধু বিএনপির অন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৭ জন। চারিদেকে যখন এমন নেতিবাচকের খবরে মাঝে যুক্ত হওয়া ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে চাঁদাবাজদের হামলা বিএনপি’কে ক্ষতিগ্রস্তই করবে। অন্যদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর কাওরান বাজারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে পালটাপালটি হামলা সবমহলকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কারো মতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটলেও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কমেনি। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ধাক্কায় কেবল চেহারায় বদল ঘটেছে, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সরকার বদলের শুরুর দিকে কিছুটা ‘বিরতি’র পর চাঁদাবাজির হাতবদল হয়েছে মাত্র। এর পাশাপাশি এতে যোগ দিয়েছে জেলফেরত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তাদের শিষ্যরা দলেবলে মাঠে নেমে পড়েছে চাঁদাবাজিতে। এ অবস্থায় আগের মতোই নীরবে-সরবে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। তবে এরা সবাই জোর পাচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের, সেটি হলো বিএনপি। কেউ কেউ মনে করেন এরা বিএনপি’র নাম ভাঙ্গিয়েই এসব করে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরেও স্বভাবত এই ধরনের পরিস্থিতিতে দোষ ঘাড়ে গিয়ে পড়বে বিএনপি’রই। তা-ই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাদাবাজের বিরুদ্ধে সত্যিকারার্থে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

শেয়ার করুন