কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
জামায়াত ইসলামকে পরিশুদ্ধের সার্টিফিকেট দিলেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ভূমিকার যে অভিযোগ সেটা এখন আর নেই বলে মনে করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এ প্রেসিডেন্ট।
তিনি প্রমাণ সরুপ তার নিজের ও আরো মুক্তিযোদ্ধার জামায়াতের সঙ্গে সংহতির কথা উল্লেখ করেন। গত সোমবার ঢাকার মগবাজারে এক অনুষ্ঠানে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমরাও জামায়াতে যোগ দান করিনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগদান করেনি। তিনি বলেন, আমাদের মার্কা ‘দাঁড়িপাল্লা’ নয়, আমাদের মার্কা ‘ছাতা’। আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এবং জুলাইয়ের শক্তি একত্রিত হয়েছি। আমরা আসন সমঝোতা করেছি। আমরা যে আসনে প্রার্থী দেব, জামায়াত সেই আসনে প্রার্থী দেবে না। একইভাবে তারা যেখানে প্রার্থী দেবে আমরাও সেখানে দেব না।
গত সোমবার রাজধানীর মগবাজারের গুলফেঁশা প্লাজায় এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. অলি আহমদ বলেন, জামায়াত এখন পরিশুদ্ধ। পরিশুদ্ধ না হলে বীর বিক্রম এবং মুক্তিযোদ্ধা তাদের সঙ্গে গেল কীভাবে? যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছিল, সবাইকে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে সেই তরুণদের মেজরিটি ছিল জামায়াতের ছেলেরা। বিএনপির থেকে তো মহাসচিব বলে দিয়েছে এই সংগ্রামের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং যারা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করল আর আমি প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম, আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। আপনাদেরকে সুশাসন দেওয়ার জন্যই আমরা একসঙ্গে হয়েছি।
এসময় বাংলাদেশ কিভাবে চলবে সেটি দেশের জনগণ ঠিক করবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। তবে আমরা মোদির গোলাম হিসেবে কাজ করব না। অমিত শাহর গোলাম হিসেবে কাজ করবো না। বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হবে আর বাংলাদেশে কাজ হবে, এ ধরনের বেইমানি আর মোনাফেকির কাজে আমরা যাবো না।
জনগণকেও বলতে চাই, যারা দিল্লির ও মোদির দালালি করছে তাদের থেকে সাবধান থাকেন। হাসিনা যা করেছে আমরাও যদি তাই করি তবে হাসিনা এবং আমাদের মধ্যে কী পার্থক্য থাকবে? আমরা ভারতের দালাল হতে চাই না। যারাই ভারতের দালালি করছে তাদেরকে চিহ্নিত করেন। তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কারণ তারা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করতে চায়। অর্থ ও নারীসহ বিভিন্ন লোভে আকৃষ্ট হয়ে ভারতের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ভারতের লোকের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারাও আমাদের মতো মানুষ। তবে ভারতের ও ‘র’-এর নীতিতে আমরা কাজ করতে চাই না। আমরা কাজ করব বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। জামায়াতও একই জিনিস চায়। সেজন্য আমরা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় এসেছি।
উল্লেখ্য, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন তিনি। এরপরই ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম তার দল এলডিপি নিয়ে জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন।