লেখকের সাথে অতিথিবৃন্দ
সাওল হার্ট সেন্টারে বিকেল ৪টার অনুষ্ঠান শুরু হলো সন্ধ্যা ৬টায়। তবে অপেক্ষাজনিত বিরক্তি দ্রুতই জ্ঞানানন্দে পরিণত হলো সমাজচিন্তুক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহমুদ রেজা চৌধুরীর রসময় প্রাণোচ্ছল ‘যা বিশ্বাস করেন তাই বলেন’ এমন এক বক্তব্যে। তিনি তার লেখালেখি ও যে বই দুটি নিয়ে আলোচনা, বেকুবের দেশচিন্তা ও সম্পর্কর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। প্রবাসী এই লেখক বছরে একবার দেশে এলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তার যে হৃদয়ের যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড় তা বোঝা গেল তার আলাপে। মাহমুদ রেজা চৌধুরীর বক্তব্যে তার বিখ্যাত বংশপরম্পরা ও বিখ্যাত বন্ধুদের কথা উঠে আসে।
তিনি নিজেকে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, আন্দালীব রাশদী, কবি কামাল চৌধুরী ও মোহন রায়হান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথমে সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান ও পরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজের বন্ধু বলে পরিচয় দেন, তার লেখালেখি জীবনে তাদের অবদানও তুলে ধরেন। লেখকের বক্তব্যের পর বক্তৃতা করেন আয়োজনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান। তিনি মাহমুদ রেজা চৌধুরীর আপসহীনতা ও মানুষের প্রতি প্রেম, প্রবাসে থেকেও তার দেশের প্রতি দায়িত্ব ও নিবেদন তুলে ধরেন। তিনি সুবিধাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মাহমুদ রেজা চৌধুরীর নিরন্তর লেখালেখিকে লাল সালাম জানান।
মোহন রায়হানের পর মাহমুদ রেজা চৌধুরীর লেখালেখি নিয়ে আলাপ করেন তার সরাসরি শিক্ষক ও চাচা সাবেক সচিব মোকাম্মেল হক। তিনি মাহমুদ রেজা চৌধুরীর লেখা তাকে কীভাবে আনন্দ দিয়েছে, প্রভাবিত করেছে তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আন্দালিব রাশদী, আলী রীয়াজ, মাহমুদ রেজা চৌধুরীদের যে দলকে তিনি একসঙ্গে পেয়েছিলেন তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। অশীতিপর মোকাম্মেল হকের পর অনুষ্ঠানে আল্পা করেন বন্ধুতা, প্রিয় রেজার লেখালেখি ও প্রকাশিত দুই বই নিয়ে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মইনুল আহসান সাবের। তিনি তুই-করে-ডাকা রেজার সাহিত্য, সাহিত্যে নিবেদন, বাংলাদেশের রাজনীতি, এলিট ক্লাসের অসততা এস নিয়ে খুবই রসপূর্ণ, প্রাঞ্জল আলাপ করেন। তার বক্তৃতার সময় হলঘরে একাধিকবার হাসির রোল বয়ে যায়। তিনি সংসার পাশাপাশি জরুরি কিছু পরামর্শ দেন বন্ধুকে।
উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নবাণে আনন্দপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রশ্নোত্তরের মুক্ত পর্বটিও। এতে বেকুবের দেশ চিন্তা ও সম্পর্কের লেখক তার জীবনের নানা দিক নিয়ে উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দেন। মাহমুদ রেজা চৌধুরী বাংলাদেশের বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সংস্কৃতিজন আবদুল গাফফার চৌধুরীর একমাত্র ভ্রাতুষ্পুত্র।
সাওল হার্ট সেন্টারের কাজল মিলনায়তনে এই আয়োজনটির আয়োজক ছিলেন তার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা। মাহমুদ রেজা চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৭ সালে বরিশালে। মা আক্তারী বেগম ও বাবা হোসেন রেজা চৌধুরী এর একমাত্র পুত্রসন্তান মাহমুদ রেজা চৌধুরী ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলেও সমাজ ও রাজনীতি বিষয়েই প্রধানত লেখেন। ১৯৮৬ সাল থেকে শুরু করে প্রায় দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতি বিশ্লেষক হিসেবে দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায় লিখে আসছেন। আমাদের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি লেখেন। এক সময়ে জাতীয় বেতারের সংবাদ পাঠক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় খ্যাতি অর্জনকারী জনাব চৌধুরী ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ‘মুক্ত ফোরাম’ নামে একটি সামাজিক থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। পেশাগত জীবনে তিনি সুদীর্ঘকাল আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক শিপিং করপোরেশনে সেলস্ মার্কেটিং এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বেকুবের দেশ চিন্তা বইটি প্রকাশ করেছে সপ্তর্ষি এবং সম্পর্ক বইটি প্রকাশ করেছে একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি।