ঢাকা উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ বিএনপি নেতাদের
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের কাঙ্খিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে এখনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণায় অনেকেই আশ্বস্ত যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে। সেই নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই শেষ হয়েছে। যে দুয়েকটি আসন বা প্রার্থী নিয়ে সমস্যা রয়েছে সেগুলো হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করা হবে। সে হিসাবে ৩০০ আসনে সব দলের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। তবে আগামী ২২ জানুয়ারি সব উত্তেজনার শেষ হবে। এর পূর্বেই সব দলকে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। এবার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুই জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আরেকটি জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই হতেও পারে, নাও হতে পারে। এই জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জাতীয় পার্টি সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের। যদি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট না হয়, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন অংশের সঙ্গে জোট হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কারণে নির্বাচনী মাঠ থেকে যদি জামায়াতে ইসলামী বা এনসিপি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরে দাঁড়ায় ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এই জোট হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির ৩০০ আসনের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। আবার জামায়াতে ইসলামী জোটেরও প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। যদিও জামায়াতে ইসলামী প্রায় ৪৭টি আসন খালি রেখেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাও চূড়ান্ত হয়ে যাবে। নির্বাচন নিয়ে কারো কারো মনে সন্দেহ থাকলেও অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি মনে করেন ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীকে সমর্থন দিতে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতা বাংলাদেশে গিয়েছেন। আবার জামায়াতে ইসলামীরও অনেক নেতা এখন বাংলাদেশে। একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতারা তাদের প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নেবেন, অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা নিজেদের প্রার্থীদের সমর্থনের পাশাপপাশি অর্থও প্রদান করবেন। একই কাজ বিএনপির নেতারাও করবেন, তবে তা বড় কোনো অংকের নয়। যদিও যারা বাংলাদেশে গিয়েছেন তারা সঙ্গে করে কিছু অর্থ তুলে নিয়ে গিয়েছেন। আবার অনেক প্রবাসী তাদের সাধ্যমতো পছন্দের প্রার্থীকে সহযোগিতা করবেন। আত্মীয়স্বজনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু ও নিউইয়র্ক উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরীর নেতৃত্ব একটি গ্রুপ গত ১৬ জানুয়ারি দেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন। এই গ্রুপের প্রায় ১০ জনের মতো প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচনের আগে আরো নেতাকর্মী বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য টিকেট কেটে রেখেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অর্থাৎ নির্বাচনের পূর্বে তারা বাংলাদেশে গিয়ে পৌঁছাবেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু জানান, তারা দেশে পৌঁছার পর তারা সদস্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। করব জিয়ারতের পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং নিজ এলাকার প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা যতদিন দেশে থাকবেন, ততদিন নির্বাচনী প্রচাণায় অংশ নিবেন। এর মধ্যে সুযোগ থাকলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করবেন।