তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান
বহুল আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আর কয়েক ঘণ্টা পর। উৎকণ্ঠা, উদ্বেগের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এ মুহূর্তের। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দুরু দুরু ভয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারা। জেন জি প্রভাবিত এ নির্বাচনে কে জিতে যায়, এ হিসেব নিকেষ সর্বত্র। নির্বাচন কমিশন সকল দলের প্রচার প্রচারণায় বেধে দেয়া সময় শেষ হয়ে গেছে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৭টায়। এখন ভোটারদের হিসেব মেলানোর পর্ব। রাতের আধারে কিংবা বাড়ি বাড়ি ছুটবেন আড়ালে আবডালে ভোটের আকুতি মিনতি নিয়ে নেতা কর্মীরা। এরপর ভোটাররা ছুটবেন কেন্দ্রপানে, দেবেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভোট। ব্যালট পেপারে পছন্দসই কোন মার্কায় দেবেন ভোট সেটা একান্ত গোপনীয়। তাই শুধু ভোটই নয়, রেজাল্ট হওয়া পর্যন্ত নির্ঘুম থাকবেন মানুষ। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দেয়া এক ভাষণে উৎসবমুখর হয়ে ভোট প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে ভোটের রেজাল্ট হওয়ার সাথে সাথে বিজয়ীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে ভোটকে কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শীর্ষ শহরগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। যাদের ভোট গ্রামের বাড়িতে। ছুটে গেছেন তারা। গত সোম ও মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিল, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, প্রেসক্লাব পল্টন এলাকা, মিরপুর-১০, মিরপুর-১সহ রাজধানীর সবচে ব্যাস্ততম স্থান ঘুরে দেখা গেছে সেগুলোতে ছিল অনেকটাই জনশূন্য। পক্ষান্তরে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ, ট্রেন স্টেশনে ব্যাপক ভিড়। এমন চিত্র দীর্ঘ দেড় যুগে অর্থাৎ শেখ হাসিনার সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে একটা স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় রাষ্ট্রযন্ত্রের। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ওই অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরেরও বেশি সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোর মেরামতে সংস্কার ও একটি উৎসব মুখর গণভোটের আয়োজন। এর সঙ্গে ছিল বিগত দেড় যুগে ও জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার- এগুলোতে অনেকটাই সফলতা দেখিয়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারি ওই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা মাহেন্দ্রক্ষনে নিয়ে এসেছেন প্রফেসর ইউনূস, বাংলাদেশকে।
আওয়ামী শাসনের ওই দীর্ঘ সময়ে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন উৎসাহ ছিল না। মানুষ জানতো, শেখ হাসিনা সরকারের অধীন নির্বাচন, কর্তার ইচ্ছায় সব কর্ম। তাই ভোট দিলেই কী না দিলেই কী। রেজাল্ট তো আগেই হয়ে বসে থাকে।
এবার আর সে অবস্থা নেই। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর প্রতিষ্ঠা পাওয়া অন্তবর্তী সরকারের প্রচেষ্টায় মানুষের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে আস্থা জন্মেছে যে আমার ভোটেই নির্ণয় হবে পরবর্তি সরকার। মানুষ সে আস্থা নিয়েই ভোট কেন্দ্রমুখী। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেশের অন্তত প্রায় তের কোটি মানুষ তাদের পবিত্র আমানত ভোট প্রদান করবেন। ইতিমধ্যে আইনশৃংখলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ সরকারি সদস্য নিয়োগ দিয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনী, পুলিশ, আনসার প্রভৃতি। ফলে নিরাপত্তা নিয়েও কোনো শঙ্কা নেই। সেনা প্রধান ও পুলিশ প্রধান সহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানগণ আশ্বস্থ করছেন বারবার।
কে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন
বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের কৃতকর্মের জন্য বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলের শীর্ষ সব নেতৃত্ব বিদেশে পালাতক। বাবি যারা দেশে, তারা কারাগারে নানা মামলায়। ফলে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ফ্রণ্টলাইনে এখন দুই দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট। সব হিসেব নিকেষ এ দুই দলকে ঘিরে। গত এক মাসে কার অবস্থা কেমন, এটা প্রমাণে দুই দলই মরিয়া। তবে এখানে লক্ষ্যণীয় বিএনপি বাংলাদেশের ইতিহাসে পরীক্ষিত এক দল। বেশ কয়েকবার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করেছে দলটি। বাকি সময় ছিল তারা প্রধান বিরোধী দলে। শেখ হাসিনার ম্যাকানিজমে অবশ্য প্রধান বিরোধী দলেও ক’বার বসতে পারেনি খালেদা জিয়ার দল। তবুও দেশে সবসময়ই সরকার বা প্রধান বিরোধী দল হিসেবেই বিএনপিই সর্বাগ্রে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে জামায়াত সরকার গঠন করার দাবিদার হয়ে উঠেছে। বিগত বিএনপি জোটে থেকে সর্বাদিক ১৮ আসন পাওয়া দলের প্রবল ইচ্ছা এবার তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিট লাভ করে রাষ্ট্রপরিচালনা করবে। দলের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান পরিস্থিতিটা এমনভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন যে বিজয়ী হলে পরের দিন ফজর নামাজ পরেই রাষ্ট্র সংস্কারে নেমে পড়বেন বলে ঘোষণা দেন। মন্ত্রী পরিষদে তিনি কাকে কাকে রাখবেন সে ঘোষণায় খেলাফত মজলিসের আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির নাহিদ ইসলামকেও রেখেছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি কে হবেন সেটারও একটা ব্যাখ্যা তিনি ইতিমধ্যে জনগণের কাছে তুলে ধরেছেন।
অপরদিকে রাষ্ট্র কিভাবে পরিচালনা করবেন তার বিষদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। তারেক অবশ্য প্রতিটা সেক্টর বাই সেক্টর ধরে, পরিসংখ্যান তুলে ধরে কিভাবে কী করবেন সেটা জানান দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রতিবন্ধি থেকে শুরু করে, গ্রাজুয়েট হয়ে চাকরি না পাওয়া এমনকি নবম দশম শ্রেণীর আগে শিক্ষাজীবন থেকে ড্রপআউট হওয়াদের কে কিভাবে কর্মে ফেরাবেন সে ছকও দিয়েছেন। তাতে বাদ পড়েনি কিছুই। ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা ক্ষেত্রে বাস্তব ও কর্মমূখী শিক্ষা যোগ ও বাংলা ইংরেজীর পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষায় শিক্ষিত করে বর্হিবিশ্বের শ্রমবাজারের জন্য তৈরি করার প্লানটাও তিনি জানান দিয়েছেন। মুখে বলেছেন ন্যায়নীতি, ন্যায় পরায়নতা মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন যেটা করেছেন দয়াল নবী রাসূলে আকরাম (সা:)।
ফলে দুই দলের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে অভিজ্ঞতা, সেটার একটা স্পষ্ট ধারণা মানুষ ইতিমধ্যে বুঝে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম প্রিয়। ইসলাম ধর্ম মানেই বিশাল দুর্বলতা সেখানে দিন শেষে- এটা ইসলামের দোহাই দেয়া দলটাকে সমীহ করে আসছে। করছেও। কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে দেবে সর্বাদিক ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮ সিট পাওয়া এক দলকে সেটা বিবেচ্য বিষয়। অনেকেই নিউইয়র্কে মামদানি, কিংবা তুরস্কের এরদোগান, ইরান বা মালয়েশিয়ার ইসলামী দলসমূহের উদহরণ টানতে চাইছেন। ৯৫% মুসলামানদের বাংলাদেশেও সেটা সম্ভব। কিন্তু সে জন্য যে চৌকষ নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেটা বাংলাদেশের ইসলামী দলসমূহ হয়ে উঠতে পারেনি। গঠন করতে পারেনি সেই নেতার নেতৃত্ব। সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক। আজ এক কাল আরেক। ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কার্য্যপ্রণালী করে আবার ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ভোট প্রার্থনা, সেটা পাত্তাই দিচ্ছে না মানুষ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যে দলটি হানাদার পাকিস্তানের পক্ষে থেকে এক পাকিস্তান নীতিতে অটল ছিলেন, এবং যে যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। নারীরা লাঞ্চিত হয়েছেন সে হানাদারদের যারা সাপোর্ট করেছেন সে দল বা সে দলের সে চিন্তাধারার ধারক বাহকদের মানুষ নীরবেই প্রত্যাখান করে চলেছে।
প্রশ্ন উঠতেই পারে- এরপর কিভাবে এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পেরেছে জামায়াত ইসলামী। এর পেছনে রয়েছে সুক্ষ্ন কৌশল। আওয়ামী শুন্য বাংলাদেশে শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনে জামায়াতের উত্থান ঘটানো হয়েছে। এ ছাড়াও জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানো যে টোপ সেটা দেশের বাইরের একটা শ্রেণীর। যারা ক্ষমতার টোপ দিয়ে জামায়াত ইসলাম থেকে কৌশলে ইসলামকে সরিয়ে দেয়ার পলিসি গ্রহণ করে সফল। জামায়াতের লোগো থেকে আমিমুদ্দিন (দিন বা ইসলাম প্রতিষ্ঠা, বা শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দিন ইসলাম প্রতিষ্ঠা) সেটা সরিয়ে দিয়েছে। এরপর ‘আল্লাহ’ মহান সৃষ্টিকর্তার নামটাও তারা রিম্যুভ করে দেয়। এরপর হিন্দু একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া, কট্টর এক ইসলামী দলকে (চরমোনাই) জোট থেকে কৌশলে ছেটে ফেলা, দলীয় নীতির বাইরে যেয়ে নারীদের দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে ভোট প্রার্থনা করতে পাঠানো ও রাজপথে মিছিল করানোসহ নানা কার্যাদি দলটির যে মুল উদ্দেশ্য সেটা ইসলামপন্থী মানুষের মনে কনফিউজ তৈরী করে ফেলেছে।
বিগত সময়ে জামায়াত ইসলামের যেসব নেতৃত্ব ছিলেন, গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ জনপ্রিয় ও সম্মানিত এসব নেতাদের নীতির সঙ্গে বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের নীতির সঙ্গে মেলাতে পারছেন না অনেকেই। এখানেও কনফিউজ।
ফলে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত যত সংখ্যাগরিষ্ঠ পেয়ে জয়লাভ করে তাহলে রাষ্ট্র চালাতে যেয়ে দলের আক্বীদা ও নীতি কি হবে এটা যেমন একটা প্রশ্ন, তেমনি ক্ষমতায় যেতে না পারলে বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামী কিভাবে পরিচালিত হবে এটা নিয়েও অনেকের প্রশ্ন তুলছে।
অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অনেক প্রশ্ন ছিল। বিএনপিকে নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তারেক কেমন এটা জানার আগ্রহ ছিল প্রবল। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা, মানুষ তাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন ও তার প্রতিটা বক্তব্য যেমন ক্যালকুলেটিভ ও পরিসংখ্যান ভিত্তিক ও কথাবার্তায় যে ওয়েট ও সিনিয়রদের প্রতি যে তার অগাধ শ্রদ্ধাবোধ তাতে তারেকের বয়স যে এখন ৬০, অর্থাৎ পরিণত মানুষ এটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। বিএনপি, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী চাঁদাবাজিদের জড়িত ছিল অতীতে। বাংলাদেশের রাজনীতির কাঠামোটাই এখন এমন হয়ে গেছে। এটাতে মানুষ অতিষ্ঠ্য। কিন্তু চাঁদা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারেকের যে প্রতিশ্রুতি ও তৃণমূলে নেতাকর্মীদের হুংকার সেটার কিছুটা প্রতিফলন ইতিমধ্যে মানুষ দেখে আশ্বস্থ হচ্ছেন বলে এক বিশ্লেষক জানিয়েছেন।
বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মা মরহুমা খালেদা জিয়ার আদর্শে বলীয়ান তারেক দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকে পাল্টে গেছেন, পরিণত হয়েছেন সেটাই এখন মুখে মুখে। মানুষ তারেক বা বিএনপিকে ভোট দেবে কি দেবে না সেটা পরের কথা, বিএনপি এখানেই সফল যে জিয়া পরিবারের একজন যোগ্য উত্তরসূরী তাদের মধ্যে পেয়েছেন। তিনি তারেক রহমান। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঠিক নেতৃত্বদানে পারফেক্ট নেতা এ মুহূর্তে তিনিই।
শুধু বিএনপিই নয়, এমন বক্তব্য পতিত আওয়ামী লীগেরও। কারণ তারেক আর যা হোক একজন মুক্তিযুদ্ধ ফ্যামিলির সন্তান। যার বাবা ও মায়ের বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বড় একটা ভূমিকা ছিল। ফলে এ মুহূর্তে অন্তত আওয়ামী লীগের অবর্তমানে তারেকই সঠিক নেতা বাংলাদেশের। অন্যদিকে দেশী বিদেশী সকল জরিপেই তারেক রহমান বা বিএনপি এগিয়ে। ভোটে এগিয়ে বিএনপি এবং রেকর্ডে এগিয়ে জামায়াতে ইমলামী।
কাকে ভোট দেবে আওয়ামী লীগ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ভোটের মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিশাল ভোটার প্রাচীনতম এ দলটির। কাকে ভোট দেবেন এবার তারা। আওয়ামী লীগের অনেকেই বলছেন, ‘ব্যালট পেপারে নৌকা নেই, আমাদেরও ভোট নেই’। এটা অভিমানের কথা ক্ষোভেরও কথা। এরপরও কিছু সংখ্যক মানুষ ঠিকই ভোট দেবেন, অন্তত সমাজে চাকরি, ব্যবসাবানিজ্য টিকিয়ে রাখতে সমাজের সঙ্গে চলতে।
যারা আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন। ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ একসঙ্গে এই জরিপ করেছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। ফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। তিনি জানান, তাঁরা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের ওপর এই মতামত জরিপ করেছেন। মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি করা হয়।
জাকারিয়া পলাশ বলেন, জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির ইস্যু। জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে জরিপে এসেছে।
আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ছাড়া আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন এমন ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্যদের ভোট দেবেন। ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন।
পরিসংখ্যান কী বলছে
এবারের নির্বাচনে মানুষের বহু হিসেব নিকেষ। প্রায় ১৩ কোটি মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন এমন এক মুহূর্তে যখন রাষ্ট্র বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত। উন্নয়নের নামে বিগত সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে লুটপাট, অর্থ পাচারে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বাজে, অর্থনীতি ত্রাহি অবস্থা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশ ছোঁয়া দাম। সবকিছু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মানুষ পড়ে আছে মাটি কামড়ে। চাকরি নেই। ব্যবস্যা নেই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বসে পেড়েছেন। সর্বত্র এক হাহাকার। ফলে এসব পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কাজ কে করতে পারবেন সে হিসেব মেলাচ্ছে মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। এখানে আবেগ নয়, বিবেক জাগ্রত রেখে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এগুচ্ছে মানুষ। চাইলেই বিএনপির ধানের শীষে, বা জামায়াতের দাড়ি পাল্লা বা এনসিপির শাপলা কলিতে ভোট সঁপে দিলাম বিষয়টা এমন না।
ভোটের মাঠে সর্বশেষ একই দিনে এসেছে তিনটি জরিপ। কোন দলের জনসমর্থন বেশি, কারা কতটি সিট পাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন- এসব নিয়ে চলছে নানা পক্ষের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একদিনে সামনে এলো তিনটি জরিপের ফলাফল। এর একটি প্রকাশ করেছে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা, আরেকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল’ এবং অন্যটি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) নামের একটি সংস্থা।
কিন্তু এসব জরিপের একটির সঙ্গে আরেকটির ফলাফলে যোজন যোজন পার্থক্য। ফলে কার জরিপ সঠিক আর কারটা মনগড়া- এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে সাধারণ ভোটাররাসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।
জরিপগুলোতে কোন দলের অবস্থান কেমন-
দৈনিক ইনকিলাবের জরিপ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বহু আগে থেকেই জরিপ চালায় দৈনিক ইনকিলাব। সংবাদমাধ্যমটির জরিপের ফলাফল অনেকাংশে মিলে যায় বলে বাজারে প্রচলিত। সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ৫৩টি সংসদীয় আসন ও আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ১১ দিন এ জরিপ চালায় তারা।
দৈনিক ইনকিলাবের জরিপে ৯৬৬৯ জন অংশগ্রহণকারী ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ (৫৮৬০ জন ৬০.৬০ শতাংশ) ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হতে পারে বলে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২৯ শতাংশ (২৮১২ জন ২৯.০৮ শতাংশ) ভোট জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট পাবে বলে মতামত দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, গণভোটে প্রায় ৮০ শতাংশ (৭৯.৫২ শতাংশ) ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে মনস্থির করেছেন বলে জরিপে অংশ নেওয়া ভোটাররা জানিয়েছেন। এ জরিপে ৭৩৯১ জন (৭৬.৪৪ শতাংশ) পুরুষ ও ২২৭৮ জন (২৩.৪৪ শতাংশ) নারী অংশগ্রহণ করেন।
ইনকিলাবের জরিপে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে বিএনপির সামান্য জনসমর্থন কমেছে; অন্যদিকে জামায়াতের জনসমর্থন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ইনকিলাবে ৬০৩৬ জনের মতামত নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশ করা হয়।
ওই জরিপে বিএনপির পক্ষে মতামত দেন ৬১.০৮ শতাংশ ভোটার। এক বছরের ব্যবধানে সেটা ০.৪৮ শতাংশ কমে ৬০.৬০ শতাংশ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ওই জরিপে জামায়াতের পক্ষে মতামত দিয়েছিল ১৪.৮২ শতাংশ ভোটার। এবার এনসিপিসহ কয়েকটি দল জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এক বছরের মাথায় সেই সমর্থন ১৪.২৬ শতাংশ (প্রায় দ্বিগুণ) বেড়ে ২৯.০৮ শতাংশ হয়েছে।
ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটির জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, সারাদেশে ২২০টি আসন পেতে পারে দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে তাদের মুল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৫৭টি আসন।
এই জরিপ কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন সাবেক ছাত্র ও পাঁচজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক অংশ নেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৩০০ জনকে চারটি করে প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ উত্তর দাতা বলেছেন, তারা বিএনপিকে সমর্থন করেন।
অন্যদিকে ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন। এছাড়া এনসিপিকে ৩ শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে ২ শতাংশ, অন্যান্য দলকে ১ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেছেন। মন্তব্য করেননি ১ শতাংশ উত্তরদাতা।
জরিপের তথ্য তুলে ধরে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল জানায়, গণভোটে সংস্কারে কাকে ভোট দেবেন এমন প্রশ্নে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে এখনো তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, তারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। ২১ শতাংশ বলেছেন তারা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। ৯৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে বিএনপি ২২০টি, জামায়াতে ইসলামী ৫৭টি, এনসিপি দুটি, জাতীয় পার্টি পাঁচটি, স্বতন্ত্র ১২টি এবং অন্যান্য দল চারটি আসন পাবে।
আইআইএলডির
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির (আইআইএলডি) প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১০৫টি সংসদীয় আসনে এগিয়ে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১০১টিতে। অন্যান্যরা পাবে ১৯টি আসন। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৭৫টি আসনে।
গণভোট সম্পর্কে জরিপে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট পাবে ৮৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ‘না’ ভোট পাবে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের ৬৩ হাজার ৬১৫ জন ভোটারের মতামত নিয়ে জরিপটি করা হয়।
চার জরিপ প্রতিষ্ঠানের এক রেজাল্ট
গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেয়। এতে দেখানো হচ্ছে, ভোটারদের ৩৪ শতাংশের মতো বিএনপিকে ভোট দিতে চায়, ৩৩ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ নামে চারটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে এ জনমত জরিপ চালায়। ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক জরিপ ফলাফল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
তাদের জরিপে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিতে ইচ্ছুক ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার। ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট দিতে চায়। অন্যান্য দলকে ভোট দিতে চায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ১৭ শতাংশ ভোটার।
ইউএএসডি জরিপ
গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এক জরিপে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে এক জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত ১৯ শতাংশ।
বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এই জনমত জরিপ চালায়। রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবি মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।
সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে সশরীর ২০ হাজার ৪৯৫ জনের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জরিপটি করা হয়েছে।
শামীম হায়দার জরিপ প্রতিবেদনের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ৭০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা বিএনপিকে ভোট দেবেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন। ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এনসিপিকে ভোট দিতে চান। আর অন্যান্য দলকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৫ শতাংশ মানুষ। ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন ০ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।
বিদেশী মিডিয়া
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘীরে রয়টার্স, আল জাজিরা, দ্যা ইকোনিক্স টাইমস, ভারত ভিত্তিক বেশ কয়েকটি মিডিয়াসহ বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়া ইতিমধ্যে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। এদের অনেকে বাংলাদেশের এ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ও ড. শফিকুর রহমানের ইন্টারভিউ প্রকাশ করা ছাড়াও তাদের যে মন্তব্য সেখানে বিএনপিকে অ্যাডভান্টেসে রয়েছে বলে জানান দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে জামায়াতের উত্থানটাকেও বড় করে হাইলাইটস করেছে।
তবে এটা ঠিক সংস্থাগুলোর এসব জরিপের ফলাফলের মতো দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও নানা মত। কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিই এবার সরকার গঠন করবে। আবার কারও কারও মতে, চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো গদিতে বসতে পারে জামায়াত।
সবশেষ
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে? কারা করতে যাচ্ছেন দেশ শাসন? কে হতে যাচ্ছেন নতুন সরকারপ্রধান, তারেক রহমান নাকি ডা. শফিকুর রহমান? এ সব প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারির পরেই। আপাতত সেই সময়ের অপেক্ষা করছে শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয় বিশ্বের অনেক দেশও।