২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৬:৩০:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে কিছু প্রশ্ন
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে কিছু প্রশ্ন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ চুপ্পু


উল্টো স্রোতে টিকে থকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ চুপ্পুর একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকার এখন বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। স্মরণীয় যে ২০২৪ জুলাই আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের আড়ালে মেটিকুলাস ডিজাইনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি ছিলেন একমাত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী ভারতে প্রবাসী, স্পিকার পদত্যাগ করেছেন, ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দী। এমতাবস্তায় প্রেসিডেন্ট নিজ পদে না থাকলে দেশে সাংবিধানিক শুণ্যতা সৃষ্টি হতো। 

রাষ্ট্রপতি তাঁকে একটি বিশেষ মহল কর্তৃক অসাংবিধানিক উপায়ে নানা কূটকৌশলে অপসারণের কথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন অন্যতম বৃহৎ রাজনৌতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমর্থনের কারণে অশুভ মহল রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে ব্যর্থ হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিজয়ী বিএনপি নেতৃত্বের জোট সরকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করে।

রাষ্ট্রপতি দুঃখের সঙ্গে বলেছেন ১৮ মাস তিনি বঙ্গভবনে একরকম বন্দী জীবন যাপন করেছেন। এমনিতেই বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী থাকলে রাষ্ট্রপতির খুব একটা কিছু করার থাকে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির কাছে নিরংকুশ ক্ষমতা ছিল। প্রশ্ন জাগে তিনি কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র হাতে না পেয়ে পূর্ববর্তী সরকারের স্থলে একটি অনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স নিলেন। রাষ্ট্রপতির কাছে সুযোগ ছিল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার। এমনকি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলাপ করে সেনা শাসন জারি হতে পারতো। কিন্তু হয়নি সেটি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেই সংবিধান লঙ্ঘন করা হলো। আর এই প্রক্রিয়ায় জড়িত হলেন রাষ্ট্রপতি।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমাগত সংবিধান পরিপন্থী নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রেসিডেন্টকে উপেক্ষা করেছে। দেশে চলেছে অপশাসন। সরকার রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেন নি। এমনকি তার প্রেস শাখাও বিলুপ্ত রাখা হয়। সংবিধানের সংস্থান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ শপথ থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাৎ করেন নি একবারের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সংবিধানের অধীনে শপথ নেয়া সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক জুলাই সনদ প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে গণ ভোটে নিয়ে গাছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কিছু বলেননি। এমনকি অবৈধ সরকারের ছত্রছায়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মব সন্ত্রাসের বিষয়েও রাষ্ট্রপতি নীরব থেকেছেন। সন্দেহ নেই অসংবিধানিক অনির্বাচিত সরকার বিভিন্নভাবে সংবিধান লংঘন করেছে। বিষয়গুলো এখনো দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে উঠে আসা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। অশুভ মহলের চাপে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সেনা প্রধান অপসারণসহ অনেক কিছুই হতে পারতো। সেই ক্ষেত্রে হয়ত নির্বাচিত সরকার গঠন দীর্ঘায়িত হতো। দেশ অনিশ্চয়তায় থাকতো। এমনকি গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো। 

আমি উল্টো স্রোতে টিকে থাকা অসহায় রাষ্ট্রপতির প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর উপর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করছি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং সরকার প্রধানের বিভিন্ন ভাবে সংবিধান লংঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। 

ক্ষমতাবহির্ভুতভাবে বিদেশী রাষ্ট্র এবং সংস্থার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো অবশ্যই সংসদে পুনঃবিবেচিত হতে হবে। কিভাবে এবং কেন সরকারি অর্ডিন্যাসে একটি প্রধান রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো সেটিও পর্যালোচনা হতে পারে।

শেয়ার করুন