১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৭:৩১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


মুক্তিযুদ্ধ চেতনার প্রশ্নে বিভ্রান্তের বেড়াজালে বিএনপি
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ চেতনার প্রশ্নে বিভ্রান্তের বেড়াজালে বিএনপি


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিভ্রান্ত্রের বেড়াজালে হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাসীদের সাধারণ জনগণের মধ্যেও সন্দেহ অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় এঅবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্নে বিএনপি কি পিছু হটে গেলো? না-কি দলটি আসলে ভেতরে ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চেতনায় বিশ্বাসী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পক্ষের শক্তির সাথেই দুইযুগের সম্পর্ক ঠিকই বজায় বজায় রেখে চলেছে? রাজনৈতিক মাঠ ঘুরে এমন প্রশ্ন ঘুরাপাক খাওয়ার তথ্য মিলেছে। 

আগে কি কি করছে বিএনপি?

দীর্ঘ সংগ্রাম আর ব্যাপক উদার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে। আওয়ামী লীগকে সেসময়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে বিএনপি’র বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে জামায়াতের সক্রিয় সমর্থন ছিলো। তবে এসমর্থনে একসময়ে ভাটা পড়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, সেসময়ের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে ১৯৯৯ সালে জোট বাঁধে জামায়াতে ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। এই সময়েও বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির সাথে জামায়াতের জোট নিয়ে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এমনকি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এক সাথে অংশ নেয় দল দুটি। কারো কারো মতে, অবশ্য জামায়াতের পীড়াপীড়িতেই বিএনপি সেসময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই সময়ে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে জামায়াতের কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আপোষহীন থাকতে পারেননি বলে শোনা যায়। কেনন সেসময়ে তার দল বিএনপি’র বিরাট একটি অংশও কোনোভাবেই ওই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চায়নি। কারো কারো মতে, সেসময়ের জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ একটি প্রতিবেশী দেশীর সমর্থন পেতে বা তাদের পাতা ফাঁদে পড়ে বিএনপিকে ওই নির্বাচনে রাজি করাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কারো কারো মতে, এরপর ক্ষমতায় আসীন হয়ে বলা যায় বিএনপির ওপর সদ্য পতিত ফ্যাসিবাদি সরকারের নিপীড়ন নির্যাতনের বুলডোজার চলতে থাকে। অবশ্য জামায়তও রেহাই পায়নি। আপোষকামিতার ফল তারাও চরমভাবে ভোগ করতে হয়েছে। তবে এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের চেয়ে জামায়াতের ওপর ক্রোধ বাড়তে থাকে। কারণ একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করতে থাকে যে জামায়াতের কারণে ২০০৮ সালে তারা নির্বাচনে অংশ নিরে তার খেসারত দিচ্ছে। অন্যদিকে ওই সময়ে জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উগ্রমৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণেও বিএনপির নেতাকর্মীদের চরম মাসুল দিতে হয়। ঐসময় দেশে বিদেশে বিএনপিকেই অভিযুক্ত করা হয় যে বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠিকে সবধরনের সহায়তা দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট করেছে। এমন কি যে দলের প্রতিষ্ঠাতা ১৯৭১ সালে দেশের অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, সে-ই দলটির বিরুদ্ধে কালিমা লেপন করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ হিসাবে। 

মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি পথে বিএনপি

দেশে বিদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে এমন প্রচারণায় দলটি বলা যায় দীর্ঘসময় ধরে বেকায়দায় পড়ে যায়। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বলে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণার খেসারতে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী সাধারণ কোনো ইস্যুতেই মামলা মোকদ্দমার শিকার হতে হতো। এধরনের পরিস্থিতিতে কেউ বিএনপির নেতাকর্মীদের আশ্রয়টুকু পর্যন্ত দিতে চাইতো না। কারণ বলা হতো দলটি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক দল। কিন্তু এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে বিএনপি ধীরে ধীরে আওয়ামী ও আধিপত্যবাদ বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের উদার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি হাত বাড়ায়। যুগপৎ আন্দোলন সংগ্রাম করে বিএনপি’র গায়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক দল হিসাবে লাগা কালিমা দূর করতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলা চলে এসময়ে সর্বস্তরের জনগণের কাছে আস্থা অর্জন করতে থাকে। তবে বিএনপির সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অসাম্প্রদায়িক দলগুলি সম্পর্ক গড়ে উঠার কারণে তারাও সেসময়ে বিভিন্নভাবে ফ্যাসিবাদি শাসনামলের আক্রোশের শিকার হতে হতো। তবে এভারেই বিএনপির সমর্থন ঠিকই সর্বস্তরে পৌঁছাতে থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় যে দলটি একটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অসাম্পদায়িক চেতনাকে লালন করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়। যার ফল বিএনপি পাওয়া যায় ডাকসু থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। ডাকসুতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল তেমন কিছু করতে না পারলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ভোটার ছাত্রদলের পক্ষে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে তাদের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পাল্টে দেয়। অর্থ্যাৎ তারা ছাত্রদলকে ভোট দেয়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তির পাশাপাশি সংখ্যালঘুরাও বিএনপির পক্ষে এমনকি কোথাও প্রকাশ্যে কোথাও নিরবে সমর্থন দিয়ে দেয়। 

ক্ষমতায় গিয়ে কি বিএনপি ভোল পাল্টালো?

এদিকে অতি সম্প্রতি বিএনপির বেশ কয়েকটি ঘটনা দলটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের মনেও নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতাসহ আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে। এমন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয় এই অপকর্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ ও বর্বর নির্যাতনের শিকার কয়েক লাখ নারীর আত্মত্যাগের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেছেন, একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, তাদের মতাদর্শ ও উত্তরাধিকার বহন করা ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দলে থাকা তাদের তল্পীবাহক গোষ্ঠীর লোকেরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন গ্রহণ করে দণ্ডিত ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। দেশের মানুষ এটা কখনই ভুলবে না। এদিকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এক বিবৃতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দন্ডপ্রাপ্ত স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের নাম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শোকপ্রস্তাবে রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ এক বিবৃতি বলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এ দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, কিন্তু তাতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের কলঙ্কিত ঐতিহাসিক ভূমিকা কোনোভাবেই মিথ্যা হয়ে যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় ইতিহাসে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে। 

বিএনপি নিরব ভূমিকা

তবে এনিয়ে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে টু-শব্দ নেই। তবে সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল জামায়াত থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার আহ্বান জানানোর কাজটি ঠিক করতে চেয়েছে, যা অনেককে আবাক করে দিয়েছে। বিষয়টি অনেককে গোপন সমঝোতা বা বোঝাপড়ার অংশ কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে জামায়াত বিএনপির এমন সাড়া না দিয়ে যা বলেছে তা-তেও বিষ্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছে ইসলামী ডেপুটি স্পিকারের পদ বা আলাদা কোনো পদ নয়, বরং পুরো প্যাকেজ বা সামগ্রিক সমঝোতা চেয়েছে। এর অর্থ কি তা নিয়ে নানান ধরনের কথা বাজারে প্রচলিত আছে। 

ছাত্রদল নিরব

এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতাসহ আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে অস্বাভাবিক নিরব রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অথচ ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিতে দেখা যেতো। 

মুক্তিযুদ্ধ ও আসম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রশ্নে বিএনপি ইউটার্ন?

প্রায় দেড়যুগ বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিশাল দূরত্ব বজায় রেখেছে। কোনোভাবেই কোনো পর্যায়ে এসময়ে দলটির সাথে রাজনৈতিক জোট বা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নে যোগাযোগ কিংবা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখাকে বিএনপি বিষফোড়া মনে করতো। বিএনপি’র একেবারে হাইকমান্ড মনে করতো দলটির কারণেই বিএনপি দেশে বিদেশে একটি উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। এমনকি বিএনপিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল হিসাবেও প্রতিষ্ঠা করতে কেউ কেউ কুন্ঠাবোধ করতে না। আর এসব বিষয় বরবারই বিএনপি মুখে না বললেও গত দেড়যুগে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বুঝিয়ে দিতো। যে তারা সামনে দিনে আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো দল বা মতের সাথে ঐক্য বা জোট বা কোনো ধরণের সমঝোতায় যাবে না। প্রায় দেড়যুগ ধরে বিএনপি তার দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি পুরো জাতিকে এমনই ম্যাসেজ দিয়ে এসেছে। এতে করে পুরো দেশের আওয়ামী নির্ভর অর্থ্যাৎ যারা সব সময়ে বিশ্বাস করতে যে ওই (আওয়ামী লীগ) দলটিই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসীদের দল; তাদের মনে বিএনপি ওই ভূমিকায় মত পরিবর্তন হয়ে যায়। তারাও আস্থায় নিতে থাকে যে সদ্য পতিত ফ্যাসিবাদী কায়েমকারী একমাত্র আওয়ামী লীগই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল না। মাঠে সক্রিয় আছে বিএনপি’র মতো উদার গণতান্ত্রিক প্রগতিশীলদের একটি নির্ভরযোগ্য দল। এর পাশাপাশি এদেশের সংঘ্যালঘুরা যারা একসময় মনে করতে যে আওয়ামী লীগই তাদের একামাত্র ভরসা। কিন্তু গত দেড় যুগে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের পাশাপাশি আন্তরিকতা দেখে তারাও দলটিকে আস্থায় নেয়। সদ্যপতিত ফ্যাসিবাদকে গুডবাই জানিয়ে বিএনপিকে অকুন্ঠ সমর্থন উজার করে দিয়েছে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন মুক্তিযুদ্ধ ও অসাসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে গত দেড় যুগে বিএনপির সেই আন্তরিকতা কি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য? সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটে যাওয়া ঘটনা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার বিশ্বাসীদের কাতারে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়েছে বারবার ধোকা খাওয়া বাংলাদেশের সংখ্যাঘুরা যারা ডাকসু নির্বাচন থেকে নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে অকুন্ঠ আস্থা দেখিয়েছে। এদের সবারই প্রশ্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ডাক কি আসলে বিএনপি উপরে উপরে দেখাচ্ছে? আর তলে তলে স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে গোপন যোগাযোগ সমঝোতা ঠিকই আছে? তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে একথা ঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন্রে কঠোর অবস্থান থাকার বিষয়ে বিএনপি বার্তার শীর্ষ থেকে তৃণমূলে কঠিনভাবে স্থাপিত হয়ে গেছে। এখন সে-ই বিএনপি কৌশলে বা গোপন সমঝোতার প্রশ্নে অন্যপথে হাঁটতে গিয়ে কতটা সফল হবে না হিতে বিপরীত হবে তা সময় বলে দেবে।

শেয়ার করুন