১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে বাফেলোতে বাংলাদেশি বয়স্ক নারীর ওপর সশস্ত্র হামলা টেক্সাসে স্টেট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম অভিভাবকদের মামলা নিউইয়র্ক সিটির স্কুল জোনে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ মাইল গাড়ির গতিসীমা মুসলিম নারীকে নগ্ন করে তল্লাশির অভিযোগে শেরিফের বিরুদ্ধে মামলা ‘আমি ভারতীয়দের সহ্য করতে পারি না বলেই থুথু নিক্ষেপ’ নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য জেল শাস্তি বাতিল মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার


ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে বাফেলোতে বাংলাদেশি বয়স্ক নারীর ওপর সশস্ত্র হামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৩-২০২৬
ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে বাফেলোতে বাংলাদেশি বয়স্ক নারীর ওপর সশস্ত্র হামলা সশস্ত্র হামলার শিকার ৬৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী বিলকিস বেগম


নিউ ইয়র্ক স্টেটের বাফেলো শহরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে এক বাংলাদেশি বয়স্ক নারী সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তাকে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে তার ব্যাগ ও ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় বাংলাদেশি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং রমজান মাসে মসজিদগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী বিলকিস বেগম ১০ মার্চ ভোরে প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় এক দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী বিলকিস বেগমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং তার হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে হামলাকারী তাকে পিস্তল দিয়ে বারবার আঘাত করতে থাকে। কয়েক মুহূর্তের ধস্তাধস্তির পর দুর্বৃত্তটি তার পার্স ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

হামলার পরও বিলকিস বেগম ঘটনাস্থল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদের দিকে হাঁটা অব্যাহত রাখেন। পরে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটার প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বিলকিস বেগম ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় তার ছেলে আলজাবির শেখ অনুবাদের মাধ্যমে মায়ের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন যুবক তাকে ধাক্কা দেয় এবং হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আলজাবির শেখ আরো জানান, হামলার সময় তার মা আশপাশের মানুষের সাহায্যের জন্য বারবার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, তিনি ভাবছিলেন হয়তো কেউ সাহায্য করতে আসবে। কিন্তু সেখানে কেউ ছিল না। তিনি অসহায়ভাবে সাহায্যের জন্য ডাকছিলেন।

এ ঘটনা স্থানীয় বাংলাদেশি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে মুসল্লিরা ভোরে ও গভীর রাতে মসজিদে যাতায়াত করেন, ফলে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, রমজান মাসে মানুষ ভোরে মসজিদে যায়। তাই আমরা চাই এ সময়ে পুলিশ টহল বাড়ানো হোক। আমাদের আরো নিরাপত্তা দরকার। কমিউনিটি সদস্য মোহাম্মদ উদ্দিন বলেন, একজন মানুষের হাতে বন্দুক নিয়ে এভাবে আক্রমণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক।

এদিকে ঘটনার পর কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কেয়ার-নিউ ইয়র্কের নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের এক বিবৃতিতে বলেন, রমজান মাসে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় একজন বয়স্ক নারীর ওপর এমন সহিংস হামলার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুসলিমরা শান্তি ও ইবাদতের জন্য একত্রিত হয়। ধর্মীয় অনুশীলনের সময় কাউকে ভয়ের মধ্যে থাকতে হবে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানাচ্ছি, হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে আমরা বিলকিস বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

বাফেলো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। বাফেলো পুলিশের সি ডিস্ট্রিক্টের প্রধান থেলমা জোনস বলেন, এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা এবং আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো জানান, তদন্তকারীরা হামলাকারীকে শনাক্ত করার জন্য কাজ করছেন এবং কেউ যদি এ ঘটনার বিষয়ে সামান্য তথ্যও জানেন, তবে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এজন্য বাফেলো পুলিশ বিভাগের হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি মূলত একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে বিলকিস বেগমকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

তারপরও মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন, রমজান মাসে মসজিদে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তারা মসজিদের আশপাশে নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশও জানিয়েছে, রমজান মাসে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের বিভিন্ন মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে হামলার শিকার বিলকিস বেগম বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে এখনও ভীতসন্ত্রস্ত বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা আশা করছেন, দ্রুত হামলাকারীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কমিউনিটি নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাওয়ার পথে যদি মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

ঘটনার পর বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন