২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৩:৪০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান


যুক্তরাষ্ট্রে কাদের লক্ষ্যবস্তু করছে অভিবাসন অভিযান
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে কাদের লক্ষ্যবস্তু করছে অভিবাসন অভিযান ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সদস্য


যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক আইস কর্তৃক গ্রেফতার পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে অভিবাসন নীতি ও আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি বার্কলি ডিপোর্টেশন ডাটা প্রজেক্টের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত কঠোর অভিবাসন অভিযানের বাস্তব চিত্র সরকারি দাবির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে না। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গ্রেফতার ও বহিষ্কারের বড় অংশই এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যাদের কোনো গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, যা সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ করা হচ্ছে, এ দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন অভিযান, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলেছে। ক্ষমতায় ফিরে এসে ট্রাম্প প্রশাসন বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, তাদের অভিযান মূলত সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত। কিন্তু নতুন তথ্য বলছে, বাস্তবে বিপুল সংখ্যক গ্রেফতার হয়েছে এমন ব্যক্তিদের, যাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডই নেই।

২০২৪ সালের শেষ দিকে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করছিল আইসিই। এদের মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশই ছিলেন আগে থেকেই জেল বা কারাগারে আটক ব্যক্তি, যাদের কাস্টডিয়াল গ্রেফতার বলা হয়। বাইরে থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম, দৈনিক প্রায় ৭৫ জন। তখন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের ৫৬ শতাংশের অন্তত একটি অপরাধমূলক দণ্ড ছিল, ২৮ শতাংশের বিরুদ্ধে মামলা চলমান ছিল, এবং মাত্র ১৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়লেও বেশিরভাগই ছিল আগে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ঘিরে। এ সময়ে এফবিআই, ডিইএ, এটিএফসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তাদের সহায়তায় অভিযান জোরদার করা হয়। তবে ২০২৫ সালের জুন মাসে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার আইসিই কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ দেন মাঠে নেমে ব্যাপকভাবে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার করতে। এর পরপরই লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়, যা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত আইস গ্রেফতারের ধরনে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এর বড় অংশই ছিল অ্যাট-লার্জ গ্রেফতার, অর্থাৎ সরাসরি কমিউনিটি বা রাস্তাঘাট থেকে আটক।

ডিসেম্বর ২০২৫-এ একপর্যায়ে প্রতিদিন ৮০০ জনের বেশি মানুষকে রাস্তায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। শীতকালীন সময়ে হওয়া অ্যাট-লার্জ গ্রেফতারের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই। মাত্র ১৭ শতাংশের পূর্বে কোনো দণ্ড ছিল এবং তাদের মধ্যেও খুব অল্পসংখ্যককে গুরুতর অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ প্রশাসনের সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের লক্ষ্য করার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং পরিসংখ্যান বলছে, গুরুতর অপরাধে জড়িত একজনকে গ্রেফতারের বিপরীতে ১২ জন এমন ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডই নেই।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে পরিচালিত অপারেশন মেট্রো সার্জ নামের একটি বড় অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। এ অভিযানের পর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে গ্রেগরি বোভিনো এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান ক্রিস্টি নোম পদত্যাগ করেন। এরপর আইসিই কিছুটা কমিয়ে আনে সরাসরি কমিউনিটি অভিযান।

বর্তমানে নতুন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন নীরব কৌশলগ্রহণের কথা বলেছেন, যার লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা। তবে অভিযান কমলেও গ্রেফতার পুরোপুরি থেমে নেই। প্রতি সপ্তাহেই হাজার হাজার দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী অভিবাসী গ্রেফতার হচ্ছেন, যাদের অনেকেরই কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই।

পরিসংখ্যানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা হলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতা বৃদ্ধি। ২৮৭(জি) নামে পরিচিত চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত গ্রেফতারে অংশ নিচ্ছে। ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে এই ধরনের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ফ্লোরিডায় মাত্র ১৩ শতাংশ অভিবাসন গ্রেফতার এই কর্মসূচির আওতায় হলেও ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশে। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম অবৈধ অভিবাসী থাকা সত্ত্বেও ফ্লোরিডায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেশি।বহিষ্কারের ক্ষেত্রেও বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। আইসিই এখন প্রতি মাসে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করছে, যা ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত বছরে ১০ লাখ বহিষ্কারের লক্ষ্যমাত্রা এখনও অনেক দূরে।

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, বহিষ্কৃতদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। ২০২৫ সালে বহিষ্কৃতদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা দণ্ড ছিল না। মাত্র ২ শতাংশকে গ্যাং সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ০ দশমিক ৪ শতাংশকে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ তথ্যগুলো প্রকাশের পেছনে ছিল তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা একটি মামলা। গবেষকরা বলছেন, সরকার যে দাবি করছে তার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের বড় অমিল রয়েছে এবং আইসিই এখন আগের তুলনায় কম তথ্য প্রকাশ করছে।

শেয়ার করুন