২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৬:৫১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী


হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক হার্ভার্ড ইয়ার্ডে অবস্থিত মেমোরিয়াল চার্চ


যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপনকে ঘিরে হার্ভার্ড রিপাবলিকান ক্লাবের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃহিয়েছে। ওই পোস্টকে ইসলামবিদ্বেষী ও আপত্তিকর বলে অভিহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম চ্যাপলেইনরা এক আনুষ্ঠানিক ইেেল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চ্যাপলেইনদের মতে, ৪ এপ্রিল কুইন্সি হাউস প্রাঙ্গণে হার্ভার্ড ইসলামিক সোসাইটির ঈদ উদযাপনকে লক্ষ্য করে করা ওই পোস্টটি মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়, বিচ্ছিন্নতা ও অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ আচরণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আঘাত করে এবং তাদের স্বাভাবিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করে।

চ্যাপলেইনরা তাদের বিবৃতিতে বলেন, কোনো স্বীকৃত ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইসলাম বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবাঞ্ছিত অনুভূতি, বিচ্ছিন্নতা ও ভয় সৃকিরে, যা গভীরভাবে আঘাতমূলক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর। তারা আরো বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি ক্যাম্পাসে বারবার দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘৃণা বা বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্যের পরিবর্তে সংলাপ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মূল্যবোধ গ্রহণ করা উচিত। চ্যাপলেইনদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ৪ এপ্রিল হার্ভার্ড রিপাবলিকান ক্লাবের একটি পোস্ট থেকে, যেখানে ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে কিছু অভিযোগ তোলা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, জোরে সংগীত ও নামাজের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে, ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ বড় বড় নামাজের কার্পেটে ঢেকে গেছে এবং সেখানে এ ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। পোস্টটিতে আরো বলা হয়, হার্ভার্ড এখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

তবে হার্ভার্ড ইসলামিক সোসাইটি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনের নেতারা একাধিক বিবৃতিতে বলেন, পোস্টে উল্লিখিত অনেক দাবি সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর। তাদের মতে, সেখানে কোনো বিক্রয় কার্যক্রম বা ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির ঘটনা ঘটেনি এবং নামাজের কার্পেট নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

ঘটনার পর হার্ভার্ড রিপাবলিকান ক্লাবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি ও হয়রানি নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফিস তদন্ত শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হার্ভার্ড ইসলামিক সোসাইটি ঘটনাকে ঘিরে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্টকে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের পোস্ট মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে।

হার্ভার্ড ইসলামিক সোসাইটির নেতারা এক মতামত লেখায় বলেন, তারা ঘটনার ফলে গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, ধর্মীয় উদযাপনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে মানসিক চাপ তৈরি করে। চ্যাপলেইনরা তাদের বিবৃতিতে আরো বলেন, পোস্টে ব্যবহার করা কিছু ছবি ও ভিডিও শিক্ষার্থীদের গোপন নজরদারির মতো আচরণ নির্দেশ করে, যা অনৈতিক এবং উদ্বেগজনক। তারা বলেন, সহপাঠীদের ধর্মীয় কার্যক্রম গোপনে পর্যবেক্ষণ করে পরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনামূলকভাবে প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চ্যাপলেইনদের মতে, এ ঘটনায় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৈতিক নেতাদের কাছ থেকে সমর্থনমূলক বার্তা পেয়েছেন, যারা ধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে ইসলামবিদ্বেষ এখনো একটি বাস্তব সমস্যা, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজ উভয় পর্যায়ে গুরুত্ব সহকারে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে হার্ভার্ড রিপাবলিকান ক্লাবও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সব মিলিয়ে, ঈদ উদযাপনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্ট হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তের ফলাফল এখন সবার নজরে।

শেয়ার করুন