১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৭:০৭:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতির জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতির জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা


যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ বিশ্ব পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিবেশে বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন সুচিন্তিত ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি। আর সেটির জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে দেশে স্থিতিশীলতা। এমনিতেই জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে কঠিন সমস্যায় ফেলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত উচ্চ আমদানি শুল্কের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে বাংলাদেশ যে চুক্তি করেছে তার সর্বগ্রাসী অশুভ প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ হবে সন্দেহ নেই। জ্বালানি সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপেক্ষাকৃত অধিক মূল্যে জ্বালানি কেনার জন্য ইতিমধ্যে জ্বালানি খাতে ঘটিতি বিপুল মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে। 

অচিরেই কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করবে। সবচেয়ে বড় কথা বিকল্প থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া, ভারতের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি করতে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। দেশের স্বার্থে সংসদে আলোচনা করে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি সংশোধন বা বাতিল না করলে সরকার বিপদে পড়বে। আর এ কাজটি সম্পাদন করতে হলে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে দেশে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণসহ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হোক-এটি সবার কাম্য। 

কিন্তু আইন করে কোনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখা হলে কখনো দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। সেক্ষেত্রে প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির চাপের মুখে নতজানু থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংকট, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন সমস্যা নিরসন বিষয়ে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে না। আর ভারতের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ কখনো টেকসই উন্নয়ন করতে পারবে না। শেখ হাসিনা সরকারের কর্তৃত্ববাদিতা, দুর্নীতি আর অপশাসন নিয়ে যত সমালোচনা হোক দেশের উন্নয়নে একই সঙ্গে ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপান, কোরিয়া-এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ত ছিল। বর্তমান অবস্থায় তিস্তা ব্যারাজ, পদ্মা ব্যারাজ এমনকি সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাভ বলয় থেকে বের হতে পারবে বলে মনে হয় না। তুরস্ক অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতবিরোধী সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে।

সরকার শুনছি ঋণ এবং বিদেশি সাহায্যনির্ভর বিশাল আকারের ঘাটতি বাজেট ঘোষণা করছে। দেশীয় ব্যাংকসমূহ থেকে সরকার বড় মাত্রার ঋণ গ্রহণ করলে ব্যাক্তি খাতের বিনিয়োগ সংকুচিত হবে। বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দাতাগোষ্ঠী নমনীয় শর্তে ঋণ প্রদান করবে বলে মনে হয় না। দেশের রাজস্ব আহরণ খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া রেভিনিউ জিডিপি অনুপাত কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে না। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে জ্বালানি অনুসদ্ধান গতি পাবে না। সে কারণে জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন, রফতানি কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোদ্দা কথা হলো বাস্তবতার কারণে সরকারকে উদার হয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আপোষহীন হয়ে দুর্নীতির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। দেশে নিকট অতীতে সংঘটিত সব মব সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ আর হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ বিচার করতে হবে। জুলাই থেকেই কিন্তু শুরু হবে সরকারের প্রকৃত জবাবদিহিতার পালা। আশা করি, সরকার দেশের মেধাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে সম্পৃক্ত দেশের দেশের এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে ব্রতী হবে। বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূণ কূটনীতি পরিচালনা করবে।

শেয়ার করুন