০১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৯:১৪:৫৫ অপরাহ্ন


তারেক-শফিকুরের ২০ মিনিটের বৈঠক নিয়ে কৌতূহল
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৪-২০২৬
তারেক-শফিকুরের ২০ মিনিটের বৈঠক নিয়ে কৌতূহল প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধী দলীয় নেতার বৈঠক


জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক বৈঠকটি হয় ৩০ মার্চ সোমবার দুপুরে। খবরে বলা হচ্ছে, শফিকুর রহমানের আগ্রহে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০ মিনিটের এই বৈঠক হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। স্পিকারের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজা শেষে এই সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এটিকে ‘স্বাভাবিক সৌজন্য’ বলেছেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ নয় অনেকটা রহস্যও সৃষ্টি করেছে।

বৈঠকের ছবিই কি ইঙ্গিত দেয়?

বৈঠকের একটি ছবিই প্রায় সব গণমাধ্যমে দেখা গেছে। এ-টি বিশ্লেষণ করে যা বোঝা যায় যে, তারেক রহমানের সংসদ কার্যালয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও, এটি রাজনীতিতে সুস্থ ধারার চর্চা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। এই ছবি ও বৈঠকটি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আলোচনার পথ উন্মোচন এবং স্থিতিশীলতার বার্তা দেয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সাক্ষাৎটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে কোনো মতপার্থক্যের মধ্যেও যে সংলাপে বসা সম্ভব, তার একটি ইঙ্গিত দেয়।

আসলে কি তা-ই?

কারো কারো মতে, বৈঠকটি এমন সময়ে হয়েছে যে সময়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকারি দলের সাথে পুরো বিরোধী দলের। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেলো, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে যে অধ্যাদেশে, সেই ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াত মনে করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অধ্যাদেশটি বাতিলে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে এক আলোচনা সভায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জুলাই সনদে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে সমাধান হবে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন। আবার এর আগে ডা. শফিকুর রহমান একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও এখনো পুরোপুরি সংকট কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন। সমাজে এখনো অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিরাজমান বলে বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, জেনারেশন জেড (জেন-জি) আর ১৯৭২ সালের সংবিধান চায় না। নিজেকে জেন-জির প্রতিনিধি দাবি করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম জানতে চায়, স্বাধীনতার ৩০ বছর পরে জন্ম নিয়েও তারা কেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে সমর্থন করা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বলেছেন, জনগণের আকাংখা ও গণভোটকে ইগনোর (উপেক্ষা) করা হলে বাউফল-পটুয়াখালীসহ গোটা বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠবে। এদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে আনা মুলতবি জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফায় বিতর্ক, হইচই ও হট্টগোল হয়। আবার খবরে দেখা গেলো যে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় ঈদের পরেই ১১ দলীয় জোট রাজপথে নামছে।

কারো কারো মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয়গুলি সার্বিকভাবে একটা অন্যরকম পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে, যা বিএনপি’র উপরের মহলকে ভাবাচ্ছে। এক্ষেত্রে কারো কারো অভিমত সংসদে ভেতরে বাইরে আসলে কি হচ্ছে; এমন বাতাস আসলে কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে সেবিষয়টি নিয়ে জামায়াতেরও একটা চিন্তা থাকতে পারে। কারণ যে-ই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নিয়ে জামায়াত জোট বেধে প্রধান বিরোধী দলে এসেছেন সেখানেও অনেক প্রশ্ন আছে, রয়েছে কৌতুহল। কেননা জুলাই বিপ্লবের ইমেজে গড়া এমন দল এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতের অনেক পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি সাত সিটি করপোরেশনেও শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে দলের পক্ষে বলা হয়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে-‘ডিপ স্টেট’ এমন একটা স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল বলে ওই অন্তর্বর্তী সরকারের-ই সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মন্তব্যও অনেক রহস্যজনক বলে মনে করে জামায়াত। এদিকে দেশে বিদেশে উথাল-পাতাল অবস্থার মাঝে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব জামায়াতকে ভাবাচ্ছে। তা-ই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ অনেক ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ।

শেয়ার করুন